বিজ্ঞাপন:
 
বেসরকারিদের বৃত্তি পরীক্ষা দিতে না দিলে শিক্ষা অফিস ঘেরাওয়ের হুঁশিয়ারি

বেসরকারিদের বৃত্তি পরীক্ষা দিতে না দিলে শিক্ষা অফিস ঘেরাওয়ের হুঁশিয়ারি

তাহমিনা আক্তার, ঢাকা: প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর গত ১৭ জুলাইয়ে কিন্ডারগার্টেন ও বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বৃত্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ না করার বিষয় নিয়ে একটি পরিপত্র জারি করে। এই সুযোগ থেকে বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীদের বঞ্চিত করার পরিপত্রটির বাতিল ও শিক্ষার্থীদের বৃত্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করার দাবি নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন অ্যাসোসিয়েশন।

এ সময় বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বৃত্তি পরীক্ষায় আগামী ২০ আগস্টের মধ্যে অংশগ্রহণ করতে না দিলে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস ঘেরাও, পরবর্তীতে বিভাগীয় উপপরিচালকের কার্যালয় ঘেরাও, মার্চ ফর ঢাকাসহ কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন তাঁরা।

মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) সকালে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন কিন্ডারগার্টেন অ্যাসোসিয়েশন। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব মো. মিজানুর রহমান সরকার।

লিখিত বক্তব্যে মিজানুর রহমান বলেন, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ১৫ জুলাই নির্বাহী কমিটির সিদ্ধান্তে ১৭ জুলাইয়ে পরিপত্র অনুযায়ী কিন্ডারগার্টেন ও বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বৃত্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবে না। বৃত্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহনের সুযোগ থেকে বঞ্চিত করার পরিপত্রটি বৈষম্যমূলক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে বলে প্রতীয়মান। অথচ বিগত সময়ে অনুষ্ঠিত বৃত্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে কিন্ডারগার্টেন ও বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ব্যাপক সাফল্য অর্জন করেছে।

মিজানুর রহমান আরও বলেন, বৃত্তি শুধু একটি আর্থিক অনুদান নয়, এটি একটি শিশুর আত্মবিশ্বাস, সামাজিক স্বীকৃতি এবং শিক্ষাক্ষেত্রে অগ্রগতির অনুপ্রেরণা হিসবে কাজ করে। যখন একটি শিশু দেখবে তার বন্ধুরা বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে, কিন্তু সে নিতে পারছে না শুধুমাত্র তার বিদ্যালয়ের স্বীকৃতির ধরণ ভিন্ন বলে, তখন তা তার মানসে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করি। এমনকি শিশুদের মধ্যেই একটি বৈষম্যমূলক মনোভাব গড়ে তোলে, যা জাতীয় শিক্ষানীতির সাম্যের নীতির পরিপন্থী।

মিজানুর রহমান আরও বলেন, ‘বেসরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা যদি প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে না পারে, শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারের ওপর যে মানষিক চাপ ও যন্ত্রণার সম্মুখীন হয় তার সকল দায় দায়িত্ব সরকারকেই বহন করতে হবে। প্রাথমিক শিক্ষা মানে কেবল স্বাক্ষরতা নয়। ভবিষ্যাতের জন্য একটি শক্ত ভিত গড়ে দেওয়া। সেই ভিত গড়ার প্রথম ধাপেই যদি বৈষম্য শুরু হয়, তাহলে আমরা কীভাবে সমতার সমাজ গড়ব? শিক্ষা শিশুদের মৌলিক অধিকার। কোনো শিশুকে তার মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করা আমাদের কারোরই কাম্য নয়।’

তাদের দাবি, পরিপত্রটি বাতিল করে অনুষ্ঠিতব্য প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় কিন্ডারগার্টেন ও বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ করে সমঅধিকার যেন অক্ষুন্ন থাকে তার প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।

সংবাদ সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ সরকারের সাবেক সচিব সৈয়দ মার্গুব মোর্শেদ। অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন— কিন্ডারগার্টেন এসোসিয়েশনের সভাপতি কো-চেয়ারম্যান আব্দুল বাকী, যুগ্ম মহাসচিব মো. ফারুক হোসেন, ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল মাজেদ, জেসমিন আক্তার, মহসীন মিঞা, মাহমুদুল হক চৌধুরী, বিলকিছ আক্তার, সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ হামিদুর রহমান, শিক্ষা সম্পাদক আবদুল আলীম, প্রচার সম্পাদক সুভাষ চন্দ্র সিকদার, সাহিত্য সম্পাদক হাসিনা আক্তারসহ কেন্দ্রীয় কমিটির নেতৃবৃন্দ।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ওয়েবসাইট এর কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পুর্ণ বেআইনি।
Design & Development BY : ThemeNeed.com