বিজ্ঞাপন:
সংবাদ শিরোনাম:
পরীক্ষার হলে প্রকাশ্যে নকলের ভিডিও ভাইরাল তাবিজের দেওয়ার কথা বলে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে জামায়াত নেতা গ্রেপ্তার দেবীগঞ্জে জমি নিয়ে বিরোধ: কৃষকের দুই বিঘা জমির বোরো ধান নষ্ট পঞ্চগড়ের বোদায় ইউএনওর বিরুদ্ধে প্রায় দেড় কোটি টাকার উন্নয়নকাজে অনিয়মের অভিযোগ পারিবারিক কলহ থেকে হতাশা, রাজধানীতে তরুণ কনস্টেবলের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে বৃদ্ধের মৃত্যু পঞ্চগড়ে ছোট ভাই হত্যা: বড় বোন গ্রেপ্তার, অনৈতিক সম্পর্কের জেরে হত্যার দাবি পুলিশের আদিতমারীতে ২৯৬ বোতল এস্কাফ সিরাপসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার মারামারি আর ফাউলে ইংল্যান্ডের স্বপ্ন ভেঙে ফাইনালে আর্জেন্টিনা কুমিল্লা দাউদকান্দি থানা পুলিশের অভিযানে পিকআপ ভ্যান ভর্তি ৪৭ কেজি গাঁজা উদ্বার আটক-১
গাইবান্ধায় বিস্কুট আনতে গিয়ে লাশ হয়ে ফিরল ৬ বছরের শিশু!

গাইবান্ধায় বিস্কুট আনতে গিয়ে লাশ হয়ে ফিরল ৬ বছরের শিশু!

রাশেদুল ইসলাম রাশেদ,স্টাফ রিপোর্টার: মাত্র ছয় বছর বয়স। জীবনের কেবল শুরু। বাবা-মায়ের কোলে খেলা করা রায়হান মিয়া হয়তো জানত না, দশ টাকার বিস্কুট কেনার শেষ পথচলাতেই অপেক্ষা করছে তার নির্মম বিদায়। গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলায় শুক্রবার (৮ আগস্ট) দুপুরে এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছে এই নিষ্পাপ শিশু।

নিহত রায়হান মিয়া সাদুল্লাপুর উপজেলার বনগ্রাম ইউনিয়নের সাদুল্লাপুর গ্রামের জাহিদুল ইসলাম ও আশুরা বেগম দম্পতির একমাত্র সন্তান। একটি ছোট্ট আবদার ছিল তার—“বাবা, বিস্কুট খাবো।” বাবা তাকে দশ টাকা দেন। রায়হান দৌড়ে চলে যায় পাশের মুদির দোকানে। কিন্তু কে জানতো, সেই টাকা নিয়ে বাড়ি ফেরা আর হবে না!

বনগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফজলুল কায়েম হুদা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, রায়হান বাড়ির পাশের একটি মুদির দোকানে বিস্কুট আনতে যাচ্ছিল। পথেই হঠাৎ একটি গরু দেখে ভয় পেয়ে রাস্তার এক পাশে সরে যাওয়ার চেষ্টা করে। ঠিক সেই সময় একটি দ্রুতগামী অটোবাইক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তাকে ধাক্কা দেয়। শিশুটির ছোট্ট শরীর ছিটকে পড়ে পেছনের চাকার নিচে পিষ্ট হয়। স্থানীয়রা দৌড়ে গিয়ে উদ্ধার করে সাদুল্লাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

রায়হানের মৃত্যুতে পুরো গ্রামে নেমে আসে শোকের ছায়া। প্রতিবেশীদের চোখে পানি, মাতৃহৃদয়ে চিরদিনের ফাঁকা জায়গা। “ছেলেটা একটু আগেও খেলছিল, হাসছিল… এমন করে চলে যাবে?”—বলে কাঁদছিলেন এক প্রতিবেশী।

শিশু রায়হানের মৃত্যু শুধু একটি দুর্ঘটনা নয়, এটি একটি পরিবারে আলো নিভে যাওয়ার নাম। এটি এক মায়ের কোল খালি হওয়ার বেদনা, এক বাবার শেষ সম্বল হারানোর দীর্ঘশ্বাস।

স্থানীয়রা জানান, সড়কে যানবাহনের বেপরোয়া চলাচল এবং সঠিক গতিনিয়ন্ত্রণ না থাকাই এমন দুর্ঘটনার জন্য দায়ী। শিশুদের চলাচলের এলাকায় নিরাপত্তা বাড়ানোর দাবি উঠেছে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকেও।

বনগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফজলুল কায়েম হুদা বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “এই ঘটনাটা শুধু একটি দুর্ঘটনা নয়—এটা আমাদের এলাকার জন্য এক চরম দুঃখজনক দিন। একজন শিশু, যে কিনা মাত্র কয়েক মুহূর্ত আগে নিজের বাবার কাছ থেকে টাকা নিয়ে দোকানে যাচ্ছিল, সে হঠাৎ করেই আমাদের মাঝে আর নেই—এটা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আমি ব্যক্তিগতভাবে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। শিশুটির পরিবার শোকে মুহ্যমান। পুরো গ্রামে এখন শোকের ছায়া নেমে এসেছে।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ওয়েবসাইট এর কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পুর্ণ বেআইনি।
Design & Development BY : ThemeNeed.com