নিজস্ব প্রতিবেদক: দলীয়করণ, বদলি বাণিজ্য, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগে রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের (রাকাব) ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ওয়াহিদা বেগমের অপসারণের দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে রাজশাহী। শনিবার (৫ জুলাই) সকালে নগরীর নওদাপাড়ায় রাকাবের প্রধান কার্যালয়ের সামনে শতাধিক নাগরিক ও ব্যাংকসংশ্লিষ্টদের অংশগ্রহণে ঘন্টাব্যাপী মানববন্ধনে ফেটে পড়ে ক্ষোভ।

সচেতন নাগরিক সমাজের ব্যানারে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা দাবি করেন, দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে এমডি ওয়াহিদা বেগম রাকাবকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে ঠেলে দিয়েছেন।
আরো পড়ুন: রাজশাহীতে আবারও প্রভাব বিস্তার করছেন বিতর্কিত ব্যাংক কর্মকর্তা ওয়াহিদা (পর্ব-১)
• রাজশাহী কৃষি ব্যাংকে ওয়াহিদা সিন্ডিকেট: ফিরে এলো আরও ভয়ংকর রূপে! ফ্যাসিস্ট ছায়া-শাসন (পর্ব-২)
বক্তারা বলেন, তিনি একাধারে ব্যাংকের ভেতর দলীয়করণ প্রতিষ্ঠা, পছন্দের লোক বসানো, মতবিরোধীদের নির্বাসন, ঘুষের বিনিময়ে পদোন্নতি, এবং প্রশাসনিক ত্রাস সৃষ্টির মাধ্যমে কর্মপরিবেশকে চরমভাবে নষ্ট করেছেন।
“ব্যাংকের ভেতরে ভয় আর ভীতির সংস্কৃতি চালু করেছেন তিনি” — বক্তারা:
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, ওয়াহিদা বেগম রাকাবকে ব্যক্তিস্বার্থের বলি বানিয়েছেন। যারা তার সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত নন, তাদের হয়রানি, বদলি বা বঞ্চনার শিকার হতে হচ্ছে। এমনকি কর্মীদের মৌলিক অধিকার পর্যন্ত হরণ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ ওঠে।
বক্তারা আরও জানান, ওয়াহিদা বেগমের বিরুদ্ধে রূপালী ব্যাংকে কর্মরত থাকাকালেও ঘুষ, ক্ষমতার অপব্যবহার ও দমননীতির অভিযোগ উঠেছিল। সেই অভিজ্ঞতা সঙ্গী করে রাকাবে যোগ দিয়ে তিনি পুরনো কায়দায় প্রশাসনিক কর্তৃত্ব জারি রেখেছেন।
“দুদকে অভিযোগ জমা, তদন্ত ও অপসারণ দাবি”:
মানববন্ধনে বক্তারা জানান, ওয়াহিদা বেগমের বিরুদ্ধে ঘুষ বাণিজ্য, অনিয়ম এবং স্বজনপ্রীতির বিস্তারিত অভিযোগপত্র ইতোমধ্যে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) দাখিল করা হয়েছে। তারা বলেন, এভাবে একটি রাষ্ট্রীয় ব্যাংক চলতে পারে না। রাকাবের মতো গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক উন্নয়ন ব্যাংক যদি কোনো একজনের স্বেচ্ছাচারিতায় জিম্মি হয়ে পড়ে, তাহলে তা পুরো অঞ্চলের অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

“২০২৪-এ নতুন ব্যাংকিং সংস্কৃতি, কিন্তু রাকাবে ফিরেছে পুরনো দমননীতি”:
বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, জুলাই ২০২৪-এ সরকারিভাবে ব্যাংক খাতে জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতার নতুন সূচনা হলেও রাকাবে ওয়াহিদা বেগম সেই অগ্রযাত্রাকে অবজ্ঞা করে একনায়কতন্ত্রের পরিবেশ ফিরিয়ে এনেছেন। এটি সরকারের উদ্যোগকেও প্রশ্নবিদ্ধ করছে বলে দাবি করেন বক্তারা।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন মোসলেম মিয়া, আবু তালিব, ফয়জার রহমান, মোতালেব আকন্দ, আফরোজা ইয়াসমিনসহ নাগরিক সমাজের আরও অনেকে। কর্মসূচিতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, ব্যাংক কর্মকর্তা, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও শিক্ষিত তরুণরাও উপস্থিত ছিলেন।
চূড়ান্ত হুঁশিয়ারি: দাবি না মানলে কঠোর আন্দোলনের ঘোষণা:
মানববন্ধনের একপর্যায়ে বক্তারা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, “এই অপকর্মের নায়ককে দ্রুত অপসারণ করতে হবে। না হলে রাজশাহীবাসী আগামীতে আরও কঠোর কর্মসূচি নিতে বাধ্য হবে।” তারা জানান, প্রয়োজনে রাকাবের সর্বস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়ে লাগাতার কর্মবিরতি, অবস্থান কর্মসূচি ও ঢাকায় কেন্দ্রীয়ভাবে বিক্ষোভের প্রস্তুতি নেওয়া হবে।
জাভেদ/ প্রবা
Leave a Reply