বিজ্ঞাপন:
 
সংবাদ শিরোনাম:
পঞ্চগড়ে বাসের ধাক্কায় সড়কে প্রাণ গেল মা-মেয়ের, আহত ২ জলঢাকায় ট্রাক চাপায় ৫ বছরের শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু লালমনিরহাটের পাটগ্রামে মেয়েকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে বাবা গ্রেপ্তার বন্দুক ঠেকিয়ে বরের সামনেই নববধূকে অপহরণ প্রাক্তনের লালমনিরহাট বিমানবন্দর, তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে সরকার কাজ শুরু করবে : মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু হাজারের বেশি ‘রাজনৈতিক হয়রানিমূলক’ মামলা প্রত্যাহারের অনুমোদন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিএনপি নেতার মামলায় বৈষম্যবিরোধী নেতা জেল হাজতে রংপুরে সিনিয়র সাংবাদিক মহিউদ্দিন মখদুমীর ওপর সন্ত্রাসী হামলা পঞ্চগড়ে -এ স্বামীর গোপনাঙ্গ কেটে নেওয়ার অভিযোগ, স্ত্রী আটক জানুয়ারি মাসে ৫৫২ সড়ক দুর্ঘটনায় ৫৪৬ জন নিহত
আশুরার রোজা এক বছরের গুনাহ মাফের সুযোগ

আশুরার রোজা এক বছরের গুনাহ মাফের সুযোগ

অনলাইন ডেস্ক: আশুরা হলো মহররম মাসের ১০ তারিখ, যা ইসলামী বর্ষপঞ্জির প্রথম মাসের একটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ দিন। এই দিনে বহু ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় ঘটনা সংঘটিত হয়েছে।

এই দিনেই মহান আল্লাহ নবী মুসা (আ.) ও বনি ইসরাইল জাতিকে ফেরাউনের জুলুম থেকে মুক্তি দিয়েছিলেন। একই দিনে, নবী নূহ (আ.)-এর নৌকা জুদি পাহাড়ে স্থির হয়েছিল। এসব ঘটনার কারণে ইসলামী শরীয়তে আশুরার দিনটি অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ও গুরুত্ববহ হিসেবে বিবেচিত।

আশুরার রোযার ফজিলত

মহানবী (সা.) বলেন, ‘আমি আল্লাহর নিকট আশা রাখি যে, আশুরার রোযা বিগত এক বছরের গুনাহ মোচন করবে।’ (মুসলিম, হাদিস: ১১৬২)

এটি মহান আল্লাহর বিরাট করুণা যে, মাত্র এক দিনের রোজায় তিনি বান্দার এক বছরের গুনাহ মাফ করে দেন।

রাসূলুল্লাহ (সা.) আশুরার রোজা রাখার কারণ

ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, ‘নবী (সা.) মদীনায় আগমনের পর দেখলেন, ইহুদিরা আশুরার দিন রোজা রাখে। তিনি তাদের জিজ্ঞাসা করলেন, ‘তোমরা এ দিন কেন রোজা রাখ?’ তারা বলল, ‘এই দিনটি একটি মহান দিন, যেদিন আল্লাহ তায়ালা মূসা (আ.) ও তার কওমকে মুক্তি দিয়েছিলেন এবং ফেরাউন ও তার বাহিনীকে ধ্বংস করেছিলেন। কৃতজ্ঞতা স্বরূপ মূসা (আ.) এই দিন রোজা রাখতেন।’ তখন নবী (সা.) বললেন, ‘আমরা মূসার অনুসরণের জন্য তোমাদের চেয়ে বেশি হকদার।

’ এরপর তিনি নিজে রোজা রাখলেন এবং সাহাবীদেরও রোযা রাখার নির্দেশ দিলেন।’ (বুখারি, হাদিস: ১৮৬৫)

আশুরার রোজা রাখার সঠিক নিয়ম

হাদিসের ভাষ্য মতে রাসূল (সা.) শুধুমাত্র ১০ মহররমে রোজা রাখতেন না, বরং তিনি বলেন: “এই দিনে ইহুদিরাও রোজা রাখে, তাই তোমরা ইহুদিদের সঙ্গে মিল না রেখে ৯ তারিখও রোজা রাখো।” (মুসলিম, হাদিস: ১১৩৪)

তাই সুন্নত হলো ৯ ও ১০ মহররম দুদিন রোজা রাখা। আর যদি কোনো কারণে কেউ ৯ তারিখ রোজা রাখতে সক্ষম না হন; তাহলে ১০ ও ১১ মহররম এ দুদিনও রোযা রাখতে পারবেন। তবে মনে রাখতে হবে যে, শুধুমাত্র ১০ তারিখ রোজা রাখাও জায়েজ, কিন্তু এটি উত্তম পন্থা নয়।

ইমাম নববি (রহ.) বলেন, আশুরার রোজা ছোট গুনাহগুলো মাফ করে দেয়। বড় গুনাহগুলো ক্ষমার জন্য অবশ্যই তওবা করতে হয়।

শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়াহ (রহ.) বলেন: নামাজ, অজু, রমযানের রোজা, আরাফার রোজা এবং আশুরার রোজা শুধু ছোট গুনাহই মাফ করে।

(আল-ফাতাওয়াল কুবরা: ৫/৩৮২)

আশুরার রোজা রাখা একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। এটি বিগত বছরের ছোট গুনাহগুলো মাফ করে। আশুরার মাহাত্ম্য হলো, এ দিন আল্লাহ তায়ালা হযরত মূসা (আ.) ও তাঁর কওমকে মুক্তি দিয়েছিলেন।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ওয়েবসাইট এর কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পুর্ণ বেআইনি।
Design & Development BY : ThemeNeed.com