গাইবান্ধা প্রতিনিধি: “শিশুদের মধ্যে দেশপ্রেম, শৃঙ্খলা, মানবিকতা ও নেতৃত্ব বিকাশে কাব স্কাউটিং একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম। এটি শুধু একটি বিনোদনমূলক কার্যক্রম নয়, বরং শিশুদের ভবিষ্যৎ জীবন গঠনের জন্য একটি কার্যকর শিক্ষাঙ্গন।” বলেছেন নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ও বাংলাদেশ স্কাউটসের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

তিনি আরও বলেন, “কাব স্কাউটরা একদিন পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের দায়িত্ব গ্রহণ করবে। এদের সুশিক্ষা, সৃজনশীলতা এবং নেতৃত্বগুণ বিকাশে এমন আয়োজন অত্যন্ত জরুরি।”
ড. ইউনূস রাজধানী ঢাকায় থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে জাতীয় পর্যায়ে ‘কাব কার্নিভাল ২০২৫’-এর শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন। এই সময়ে দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রজেক্টরের মাধ্যমে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সরাসরি সম্প্রচার করা হয় এবং একই সময়ে জাতীয় সংগীতের সঙ্গে পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে উৎসবের সূচনা হয়। গাইবান্ধা সদর উপজেলাতেও একই নিয়মে এই কার্যক্রম পালিত হয়।
সোমবার (২৩ জুন) গাইবান্ধা সরকারি উচ্চ বালক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে উৎসবমুখর পরিবেশে দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হয় ‘কাব কার্নিভাল ২০২৫’। বাংলাদেশ স্কাউটস-এর প্রোগ্রাম বিভাগের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এবং গাইবান্ধা সদর উপজেলা স্কাউটস-এর আয়োজনে শতাধিক কাব স্কাউট এতে অংশ নেয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন গাইবান্ধার সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট জনাব সালাহ উদ্দিন মাহমুদ, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জনাব মোঃ মাহমুদ আল হাসান, স্কাউটার মোঃ সাইফুল ইসলাম (এ.এল.টি), গাইবান্ধা জেলা স্কাউটসের সম্পাদক মোঃ আব্দুল মালেক সরকার, মোঃ রেজাউল করিম, মোঃ রুহুল আমিন, মিনহাজুর রহমান নয়ন, মোঃ জাহিদ হোসেন জিমু, মোঃ সামিউল ইসলাম সাকিব ও মোছাঃ রাশেদা বেগমসহ বিভিন্ন পদে দায়িত্বপ্রাপ্ত স্কাউট কর্মকর্তা ও শিক্ষকবৃন্দ।

দিনের কার্যক্রম শুরু হয় জাতীয় সংগীত পরিবেশন ও পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে। এরপর কাব কার্নিভালের মধ্য দিয়ে চলে ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, স্কাউট স্টেশন, কুইজ, শারীরিক কসরত, সৃজনশীলতা ভিত্তিক শিল্পকর্ম ও স্কাউট আচরণভিত্তিক অনুশীলন।
প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অধিকার করে কলেজিয়েট মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দ্বিতীয় স্থান রায়দাশবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং তৃতীয় স্থান অধিকার করে গোবিন্দপুর পলাশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
রায়দাশবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও ইউনিট লিডার শাহজাদী হাবিবা সুলতানা (পলাশ) বলেন, “আমাদের বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে যে সাফল্য এনেছে, তা অত্যন্ত গর্বের। আমি তাদের ধন্যবাদ জানাই।”
সমাপনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন গাইবান্ধা সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুশান্ত কুমার দেব। সারাদিনের অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন স্কাউটার মোঃ সাইফুল ইসলাম (এ.এল.টি)।

স্কুলের শিক্ষার্থী অরপা রানী জানায়, “এই কার্নিভালে অংশ নিয়ে আমরা অনেক আনন্দ পেয়েছি, শিখেছি, ভবিষ্যতে এমন আয়োজনে আবার অংশ নিতে চাই।”
জাতীয় পর্যায়ে ‘কাব কার্নিভাল ২০২৫’-এর অংশ হিসেবে গাইবান্ধা সদর উপজেলার এই আয়োজনটি শুধু একটি দিনব্যাপী উৎসব ছিল না, বরং এটি ছিল শিশুদের নেতৃত্বগুণ, দেশপ্রেম ও সামাজিক চেতনা বিকাশের একটি সচেতন প্রয়াস। আয়োজকরা জানিয়েছেন, এই ধারা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
Leave a Reply