বিজ্ঞাপন:
সংবাদ শিরোনাম:
পঞ্চগড়ে পুকুরে ডুবে ৬ বছরের শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু নকলের সুযোগ’ না পেয়ে এইচএসসি পরীক্ষাকেন্দ্রে হামলা-ভাঙচুর, আহত ১০ মৌলভীবাজার জেলা কারাগারে কারারক্ষীর বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ লালমনিরহাটে সাংবাদিকের ওপর হামলার অভিযোগ, আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি পঞ্চগড়ে একই দিনে দুইজন সাপের কামড়ে আহত, সাপ সঙ্গে নিয়ে হাসপাতালে এসে পেলেন এন্টিভেনাম লালমনিরহাটে ছাগল বাঁচাতে গিয়ে গৃহবধূর মৃ’ত্যু পঞ্চগড়ে একদিনের ব্যবধানে আবারও করতোয়ায় ডুবে বৃদ্ধের মৃত্যু সৌহার্দ্য,পরিচিতি আর নতুন প্রত্যয়ে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা প্রেসক্লাবের অভিষেক সুন্দরগঞ্জে বন্যার পানিতে ভেসে আসলো অজ্ঞাত বৃদ্ধের অর্ধগলিত লাশ পঞ্চগড়ে জেলা পরিষদের উদ্যোগে দোয়া মাহফিল ও উপকরণ বিতরণ
রেললাইনে আড্ডা-সেলফি, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বছরে ট্রেনে কাটা পড়ে নিহত ৪৪

রেললাইনে আড্ডা-সেলফি, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বছরে ট্রেনে কাটা পড়ে নিহত ৪৪

ডেস্ক রিপোর্ট :: ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় রেললাইনে আড্ডা আর অসতর্কতার কারণে একের পর এক ঝরছে তাজা প্রাণ। জেলার ৭২ কিলোমিটার রেলপথে ২০২৫ থেকে ২০২৬ জুন পর্যন্ত এক বছরে ট্রেনে কাটা পড়ে প্রাণ হারিয়েছেন ৪৪ জন। কানে হেডফোন গুঁজে রেললাইনে হাঁটা, সেলফি তোলা, লাইনের ওপর বসে আড্ডা দেওয়া, ট্রেনের ছাঁদে ভ্রমণ ও লেভেল ক্রসিং পারাপার এই মৃত্যুর প্রধান কারণ বলছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রতিটি ট্রেনের হুইসেল যেন একেকটি সতর্কবার্তা। কিন্তু সেই তীব্র আওয়াজও যেন পৌঁছায় না রেললাইনে দাঁড়ানো মানুষগুলোর কানে। যে রেললাইন যোগাযোগের অন্যতম নিরাপদ মাধ্যম, অসচেতনতার কারণে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তাই এখন পরিণত হয়েছে একেকটি মরণফাঁদে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশনের পাশে বসবাসকারী সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, বিকেল হইলেই পোলাপাইন আইসা লাইনের ওপর বসে। কানে হেডফোন দিয়া গেম খেলে, ফেসবুক চালায়। ট্রেন আইসা হর্ন দিলেও শুনে না। চোখের সামনে কতটি তাজা প্রাণ শেষ হইতে দেখলাম, কিন্তু এদের কোনো হুঁশ হয় না।

বিজয়নগর উপজেলার কালাছড়া এলাকার বাসিন্দা তৌফিক বলেন, প্রতিদিন বিকেলে কিছু যুবক রেললাইনে চেয়ার ফেলে আড্ডায় মগ্ন থাকে। ট্রেনের হুইসেল শোনার পরে চেয়ার নিয়ে উঠে আবার অন্য জায়গায় যায়।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা নাগরিক ফোরামের সহ-সভাপতি নীহার সরকার বলেন, আমাদের ব্রাহ্মণবাড়িয়া সীমানায় রেলওয়ের এলাকা ৭০ কিলোমিটারের ওপরে। এখানে প্রতি ২ থেকে ৩ দিন পর পর ট্রেনে কাটা পড়ে কেউ না কেউ নিহত হন। রেলওয়ে থানা ও সংশ্লিষ্টরা প্রায় সময় দেখি তারা মানুষকে সচেতন করছেন তবুও আমরা মানি না।

তিনি আরও বলেন, আমরা সবকিছু প্রশাসনের ওপর দায় চাপিয়ে দিতে পছন্দ করি। কিন্তু আমাদেরও সচেতন হতে হবে। রেললাইনে বসে আড্ডা দিলে কঠোর আইন প্রয়োগের দাবি জানাচ্ছি এবং পারপারে ফুট ওভার ব্রিজ ব্যবহার আরও বাড়াতে হবে।

আইন অনুযায়ী, রেললাইনের দুপাশে ১৪ ফুটের মধ্যে সাধারণ মানুষের চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এবং আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। কিন্তু বাস্তবে সেই আইনের প্রয়োগ যেমন শিথিল, তেমনি সাধারণ মানুষের মধ্যেও রয়েছে চরম উদাসিনতা। কানে ইয়ারফোন গুঁজে লাইনের ওপর দিয়ে হেঁটে যাওয়া কিংবা ট্রেনের সামনে দাঁড়িয়ে সেলফি তোলার মতো আত্মঘাতী উন্মাদনা যেন থামছেই না। একটি মুহূর্তের রোমাঞ্চ কিংবা অসাবধানতা, চিরতরে স্তব্ধ করে দিচ্ছে একেকটি পরিবারের স্বপ্ন।

আখাউড়া রেলওয়ে জংশন থানার অফিসার ইনচার্জ এস এম শফিকুল ইসলাম বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার রেলওয়ের সীমানায় ট্রেনে কাটা পড়ে, ছাঁদ থেকে ছিটকে পড়ে ও বিভিন্ন সময় লেভেল ক্রসিং পারাপার হতে গিয়ে ৪৪ জন নিহত হয়েছেন। এই নিয়ে আমাদের পক্ষ থেকে ৫৬টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আমাদের পক্ষ থেকে সবসময় রেললাইনের পাশে বসবাসকারীদের, রেললাইনে আড্ডা দেওয়া, ট্রেনের ছাঁদে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা, লেভেল ক্রসিং পারাপারের ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষদের সবসময় সচেতন করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। সাধারণ মানুষ যদি এসব মানে তাহলে অবশ্যই দুর্ঘটনার সংখ্যা কমে আসবে। রেললাইন ভ্রমণের জন্য, আড্ডা জন্য নয়। একটি মুহূর্তের অসচেতনতা যে সারাজীবনের কান্না হতে পারে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার এই ৪৪টি লাশ তারই প্রমাণ। আর কত প্রাণ ঝরলে আমাদের চেতনা ফিরবে, এখন সেই প্রশ্নই সবচেয়ে বড়।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ওয়েবসাইট এর কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পুর্ণ বেআইনি।
Design & Development BY : ThemeNeed.com