মাহবুবুর রহমান :: লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলায় এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি মো. মামুন (২২) কে গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-১৩)।
র্যাব জানায়, ‘বাংলাদেশ আমার অহংকার’ মূলমন্ত্রকে ধারণ করে এলিট ফোর্স র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন চাঞ্চল্যকর হত্যা, অপহরণ, ধর্ষণ ও অন্যান্য গুরুতর সামাজিক অপরাধ দমনে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে আসছে। বিশেষ করে নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে সহিংসতার মতো স্পর্শকাতর ঘটনায় র্যাব পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে থাকে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভিকটিম দশম শ্রেণির একজন নিয়মিত ছাত্রী। স্কুলে যাতায়াতের পথে অভিযুক্ত আসামি প্রায়ই তাকে প্রেমের প্রস্তাব দিত এবং বিভিন্ন প্রলোভনের মাধ্যমে তার সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলে। পরে গত ২৫ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে ভিকটিমের পরিবারের সদস্যরা বাড়িতে না থাকার সুযোগে অভিযুক্ত মামুন ভিকটিমকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে পার্শ্ববর্তী এক আত্মীয়ের বাড়িতে নিয়ে যায়।
সেখানে ওইদিন রাত আনুমানিক ৯টার দিকে ভিকটিমের মাথায় হাত রেখে বিয়ের শপথ করার ভান করে সহযোগী আসামির ঘরে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনাটি কাউকে না জানাতে ভিকটিমকে হুমকিও দেওয়া হয়।
পরবর্তীতে বিষয়টি জানতে পেরে ভিকটিমের অভিভাবক গত ১ মার্চ ২০২৬ তারিখে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধিত ২০২০) এর ৯(১)/৩০ ধারায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন।
ঘটনার পর থেকে আসামিরা গ্রেফতার এড়াতে আত্মগোপনে চলে যায়। বিষয়টি চাঞ্চল্যকর হওয়ায় র্যাব গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ায় এবং আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান শুরু করে।
এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-১৩ এর সদর কোম্পানি, রংপুরের একটি আভিযানিক দল সোমবার (৯ মার্চ) বিকেল ৪টা ১০ মিনিটে রংপুর জেলার লালবাগ এলাকার প্রিয়ন্তী সুপার শপের সামনে অভিযান পরিচালনা করে মামলার প্রধান আসামি মো. মামুনকে গ্রেফতার করে।
গ্রেফতারকৃত আসামিকে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
র্যাব জানিয়েছে, ধর্ষণ, অপহরণ, হত্যা ও অন্যান্য অপরাধ প্রতিরোধে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং এ ধরনের অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে র্যাব সদস্যরা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
Leave a Reply