মনপুরা, ভোলা::ভোলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ মনপুরা। নদীর বুকে জন্ম নেওয়া এই দ্বীপের দেড় লাখের বেশি মানুষের একমাত্র আশ্রয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স।
তবে ১১ বছর আগে নির্মিত আধুনিক ৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল ভবনটি এখনও চালু হয়নি — পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে উন্নয়নের এক নিদর্শন হয়ে।
দূর থেকে দেখতে আধুনিক ভবন, কিন্তু কাছে গেলে চোখে পড়ে তালাবদ্ধ দরজা, ধুলায় ঢেকে থাকা করিডোর আর পরিত্যক্ত ভবনের নীরবতা।
বর্তমানে চিকিৎসাসেবা চলছে পুরনো জরাজীর্ণ ভবনে। সেখানে জায়গার অভাব, যন্ত্রপাতির সংকট, আর চিকিৎসক সংকট যেন নিত্যসঙ্গী।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মোঃ কবির সোহেল বলেন,
“বর্তমানে ৩১ শয্যার হাসপাতালে ৩১টি বেড থাকলেও, বেশিরভাগ সময় ৭০ জনের বেশি রোগী ভর্তি থাকেন। ৫০ শয্যা হাসপাতালের কার্যক্রম শুরু করতে পারলে এই সংকট অনেকটাই কমে আসবে।”
স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান,
“মনপুরা হাসপাতালে ডাক্তার সংকট তীব্র। আমাদের আরও ডাক্তারের প্রয়োজন, আর আমরা চাই দ্রুত ৫০ শয্যা হাসপাতালটি চালু হোক।”
চিকিৎসা নিতে আসা এক নারী বলেন,
“হাসপাতালে বাচ্চাদের নিয়ে এলে অনেক সময় দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। ডাক্তার বেশি থাকলে আমাদের জন্য অনেক সুবিধা হতো।”
দ্বীপবাসীর অভিযোগ, এক দশক ধরে নতুন ভবনটি ব্যবহার না হওয়ায় প্রতিদিনই ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ।
বিশেষ করে গর্ভবতী নারী ও শিশু রোগীদের চিকিৎসা এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অন্যদিকে নদীভাঙন, যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা আর চিকিৎসা সংকটে দিন কাটাচ্ছে এই দ্বীপের মানুষ।
তাদের একটাই দাবি—
১১ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে দ্রুত চালু করা হোক মনপুরার ৫০ শয্যা হাসপাতাল।
Leave a Reply