গাইবান্ধা প্রতিনিধি: গাইবান্ধায় তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরে এক নারী সাংবাদিক লাঞ্ছনার শিকার হয়েছেন। এ ঘটনায় নির্বাহী প্রকৌশলী মো. বেলাল আহমেদ ও উপ-সহকারী প্রকৌশলী শিশির চন্দ্র দেবনাথের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

বুধবার (১ অক্টোবর) রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন গাইবান্ধা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিনুর ইসলাম তালুকদার।
দৈনিক মুক্ত খবর পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি দিশা আক্তার বাদী হয়ে গাইবান্ধা সদর থানায় মামলাটি দায়ের করেন। এজাহারে উল্লেখ করা হয়, গত ২৪ সেপ্টেম্বর দুপুরে দিশা আক্তার তথ্য ও বিজ্ঞাপন সংগ্রহের জন্য শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরে যান। তার সঙ্গে ছিলেন আমাদের সময় পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি খায়রুল ইসলাম, দৈনিক বাঙালির কণ্ঠ এর শামীম রেজা ও দৈনিক ভোরের আওয়াজ এর আব্দুর মুনতাকিন জুয়েল।

সহকর্মীরা অন্য কক্ষে গেলে দিশা আক্তার একা উপ-সহকারী প্রকৌশলী শিশির চন্দ্র দেবনাথের কক্ষে প্রবেশ করেন। নিজ পরিচয় দিয়ে তথ্য ও বিজ্ঞাপনের বিষয়ে বলতেই তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। একপর্যায়ে তিনি দিশা আক্তারের ওপর চড়াও হয়ে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং শারীরিকভাবে আক্রমণ চালান। এ সময় সাংবাদিক দিশার হাত থেকে স্মার্টফোনও ছিনিয়ে নেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
ঘটনার পর ৩০ সেপ্টেম্বর দিশা আক্তার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. বেলাল আহমেদ ও উপ-সহকারী প্রকৌশলী শিশির চন্দ্র দেবনাথকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।

অভিযুক্ত শিশির চন্দ্র দেবনাথ বলেন, “মামলার বিষয়ে কিছু জানি না। আমি ছুটিতে আছি।”
অন্যদিকে নির্বাহী প্রকৌশলী বেলাল আহমেদ বলেন, “মামলা হয়েছে। আমরাও বিষয়টি দেখব।”
গাইবান্ধা সদর থানার ওসি শাহিনুর ইসলাম তালুকদার বলেন, “নারী সাংবাদিক দিশা আক্তারের অভিযোগ আমরা পেয়েছি। মামলা (নং-৪৯) নথিভুক্ত করা হয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এদিকে এ ঘটনার পর গাইবান্ধার সাংবাদিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। নারী সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিভিন্ন মহল।
প্রবা/আরইসআর
Leave a Reply