বিজ্ঞাপন:
 
সংবাদ শিরোনাম:
প্রিজন ভ্যানে পলককে উদ্দেশ্য করে ডিম ছুঁড়লেন ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীরা বিএনপিতে যোগ দিলেন জাতীয় পার্টির শতাধিক নেতাকর্মী পুঠিয়ায় তদন্তের তোয়াক্কা নেই, লুটের রাজত্ব কায়েম করে বহাল তবিয়তে অভিযুক্ত সুন্দরগঞ্জে রেণু বিদ্যাকাননে বই বিতরণ ও ক্লাস উদ্বোধন হাতীবান্ধায় জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহে ভবানীপুর কামিল মাদ্রাসার জয়কার,শ্রেষ্ঠ শিক্ষক মোকছেদ আলী হাদি হত্যার বিচার দাবিতে বাংলাদেশ পন্থী শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধে সেনাবাহিনীর বাঁধা, আহত ২৩ এখন তোমার সব হয়েছে, পর হয়েছি আমি : রুমিন ফারহানা মিয়ানমার থেকে ছোড়া গুলিতে বাংলাদেশী শিশু নিহত জাতীয় পার্টিকে নির্বাচন থেকে বিরত রাখতে হাইকোর্টের রুল মোটরসাইকেল কিনলে দুটি হেলমেট ফ্রি দেওয়া বাধ্যতামূলক হচ্ছে: বিআরটিএ চেয়ারম্যান
ঝুঁকিপূর্ন ভবনে চলছে পাঠদান, বড় দুর্ঘটনা এড়াতে নতুন ভবনের প্রত্যাশা

ঝুঁকিপূর্ন ভবনে চলছে পাঠদান, বড় দুর্ঘটনা এড়াতে নতুন ভবনের প্রত্যাশা

নিজস্ব প্রতিবেদক:: কলাপাড়া উপজেলাধীন মুসুল্লীয়াবাদ এ কে মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর পেরিয়ে গেছে অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময়। ১৯৭০ সালে যাত্রা শুরু করা এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সুনামের সাথে পথচলা অব্যাহত রেখেছে। কিন্তু ৫৫ বছর পরও নেই কোনো স্থায়ী আধুনিক ভবন। চার শতাধিক শিক্ষার্থী ও ১৪ জন শিক্ষক প্রতিদিন পাঠদান করছেন একতলা ভগ্নপ্রায় ভবন ও টিনশেড কক্ষে, যেন জীবনের ঝুঁকি নিয়েই চলছে শিক্ষা কার্যক্রম।

২০০২ সালে হিসাব শাখার অর্থায়নে নির্মিত একতলা ভবনটি এখন একেবারে জরাজীর্ণ। দেয়ালের প্লাস্টার খসে খসে পড়ছে, ছাদের অংশ ভেঙে পড়ে শিক্ষার্থী আহত হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে একাধিকবার। একটি কক্ষ অফিস হিসেবে আরেকটি কক্ষ প্রধান শিক্ষকের কার্যালয় হিসেবে ব্যবহৃত হলেও প্রতিদিনই ভয় নিয়ে সেখানে কাজ করতে হচ্ছে।

অন্যদিকে, অধিকাংশ শ্রেণির পাঠদান চলছে টিনশেড কক্ষে। তাতেও টিনের ছিদ্র দিয়ে বৃষ্টির পানি পড়ে ক্লাসরুম ভিজে যায়। বৃষ্টির দিনে শিক্ষার্থীরা বই-খাতা রক্ষা করতে হিমশিম খায়। দীর্ঘদিন অযত্নে পড়ে থেকে টয়লেটও এখন ব্যবহারের অনুপযোগী।

শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা প্রতিনিয়ত আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। তারা মনে করছেন, সরকারের তড়িৎ উদ্যোগ না এলে যে কোনো সময় ঘটে যেতে পারে বড় দুর্ঘটনা—যা থামিয়ে দিতে পারে এ বিদ্যালয়ের দীর্ঘদিনের শিক্ষাযাত্রা ও এলাকার স্বপ্ন।

অভিভাবক রাশেদা বেগম বলেন, ‘প্রতিদিন ভয় লাগে, কখন যে ভবনটা ভেঙে বাচ্চাদের ক্ষতি করে। সরকার দ্রুত নতুন ভবনের ব্যবস্থা না করলে বড় দুর্ঘটনা ঘটবে।’

আরেক অভিভাবক শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘এমন ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে সন্তানদের পাঠানো দুশ্চিন্তার। সরকারের কাছে জোর দাবি, দ্রুত নতুন ভবনের বরাদ্দ দেয়া হোক।’

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. ফকরুল ইসলাম বলেন, ‘প্রতিদিন ভগ্নপ্রায় ভবনের নিচে অফিস করতে হয়। ঝড়-বৃষ্টি হলে পাঠদান বন্ধ রাখতে হয়। অনতিবিলম্বে নতুন ভবন নির্মাণ প্রয়োজন।’

ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মো. রাসেল আহমেদ বলেন, ‘নতুন ভবনের জন্য বহুবার আবেদন করলেও কোনো বরাদ্দ পাওয়া যায়নি। শিক্ষা অফিস থেকে শুরু করে বিভিন্ন দপ্তরে যোগাযোগ করেছি, কিন্তু সমাধান মেলেনি। সরকার দ্রুত উদ্যোগ না নিলে যেকোনো মুহূর্তে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।’

কলাপাড়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘বিষয়টি আমরা অবগত আছি। ইতোমধ্যে দুটি নতুন ভবন ও ৯৬ জোড়া বেঞ্চের চাহিদা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। আশা করছি দ্রুত ইতিবাচক পদক্ষেপ আসবে।’

উল্লেখ্য, প্রতিকূল পরিবেশ সত্ত্বেও শিক্ষার্থীরা ফলাফলে রেখেছে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। এ বছরের এসএসসি পরীক্ষায় বরিশাল বোর্ডের সামগ্রিক ফল আশানুরূপ না হলেও কুয়াকাটা কেন্দ্রের অন্য সব বিদ্যালয়কে পিছনে ফেলে প্রথম হয়েছে মুসুল্লীয়াবাদ এ কে মাধ্যমিক বিদ্যালয়।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ওয়েবসাইট এর কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পুর্ণ বেআইনি।
Design & Development BY : ThemeNeed.com