নিজস্ব প্রতিবেদক::নীলফামারীর ডোমারে পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে মামা শ্বশুরের কামড়ে গুরুতর আহত হয়েছেন এক গৃহবধূ। বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাতে আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন স্বজনেরা।
পরদিন বৃহস্পতিবার দুপুরে ওই গৃহবধূর ভাই বাদী হয়ে মামা শ্বশুর হরিনচড়া শালমারা এলাকার নুরল হকের ছেলে মোঃ নুর হোসেনসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে ডোমার থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

জানা গেছে, ডোমার উপজেলার হরিনচড়া ইউনিয়নের শালমারা গ্রামের মৃত ওলিয়ার রহমানের ছেলে শরীফুল ইসলাম (২৮) এবং পূর্ব হরিনচড়া গ্রামের ওসমান গনির মেয়ে মোছাঃ জান্নাতুনের (২২) বিয়ে হয় পারিবারিক আলোচনার মাধ্যমে। তবে বিয়ের কয়েক মাস পর থেকেই শাশুড়ির শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছিলেন জান্নাতুন।
জান্নাতুন অভিযোগ করে বলেন,
“শ্বশুর মারা যাওয়ার পর থেকেই নানা বিষয় নিয়ে শাশুড়ি আমাকে নির্যাতন করতো। কয়েকদিন ধরে তিনি আমার নামে মিথ্যা অপবাদ ছড়াচ্ছিলেন। এ নিয়ে ঝগড়ার একপর্যায়ে শাশুড়ি আমার মামা শ্বশুরকে ডেকে আনে। আমার স্বামী বাইরে থাকায় তারা কয়েকজন মিলে আমাকে আক্রমণ করে, বাড়িঘর ভাঙচুর চালায় এবং মামা শ্বশুর আমার ডান হাতে কামড়ে গুরুতর আহত করে। পরে ভাই আমাকে হাসপাতালে ভর্তি করে।
জান্নাতুনের স্বামী শরীফুল ইসলাম বলেন,
“আমার স্ত্রীকে মামা এর আগেও কয়েকবার মারধর করেছে। লজ্জার কারণে কাউকে কিছু বলিনি। মায়ের বিরুদ্ধেও অভিযোগ সত্য।

জান্নাতুনের ভাই সুজন ইসলাম জানান,
“বোনের ফোন পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি সে গুরুতর আহত। উপস্থিতি দেখে অভিযুক্তরা আমাকেও হুমকি দেয়। পরে লোকজনের সহায়তায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করি এবং থানায় অভিযোগ দায়ের করি।”
অপরদিকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন জান্নাতুনের শাশুড়ি মোছাঃ ফুলবানু (৪৫) বলেন,
“বউ আমার ওপর হাত তোলায় হাতাহাতি হয়েছে। তবে কোনো পুরুষ তাকে মারেনি। স্বামীর মৃত্যুর পর থেকে সে সংসারের দায়িত্ব নেয় না, এ নিয়েই প্রায় সময় ঝগড়া হয়।
হরিনচড়া ইউপি চেয়ারম্যান রাছেল রানা বলেন,
“বউ-শাশুড়ির মারামারিতে উভয় পক্ষই আহত হয়েছে। তারা সুস্থ হলে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হবে। আগে কয়েকবার সমাধান করা হলেও স্থায়ী সমাধান হয়নি।”
ডোমার থানার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো. কাওছার আলী জানান, অভিযোগটি তদন্তাধীন রয়েছে।
Leave a Reply