বিজ্ঞাপন:
সংবাদ শিরোনাম:
পরীক্ষার হলে প্রকাশ্যে নকলের ভিডিও ভাইরাল তাবিজের দেওয়ার কথা বলে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে জামায়াত নেতা গ্রেপ্তার দেবীগঞ্জে জমি নিয়ে বিরোধ: কৃষকের দুই বিঘা জমির বোরো ধান নষ্ট পঞ্চগড়ের বোদায় ইউএনওর বিরুদ্ধে প্রায় দেড় কোটি টাকার উন্নয়নকাজে অনিয়মের অভিযোগ পারিবারিক কলহ থেকে হতাশা, রাজধানীতে তরুণ কনস্টেবলের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে বৃদ্ধের মৃত্যু পঞ্চগড়ে ছোট ভাই হত্যা: বড় বোন গ্রেপ্তার, অনৈতিক সম্পর্কের জেরে হত্যার দাবি পুলিশের আদিতমারীতে ২৯৬ বোতল এস্কাফ সিরাপসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার মারামারি আর ফাউলে ইংল্যান্ডের স্বপ্ন ভেঙে ফাইনালে আর্জেন্টিনা কুমিল্লা দাউদকান্দি থানা পুলিশের অভিযানে পিকআপ ভ্যান ভর্তি ৪৭ কেজি গাঁজা উদ্বার আটক-১
ঋণের বোঝায় সন্তান বিক্রির সিদ্ধান্তে শরীয়তপুরের এক অসহায় মা

ঋণের বোঝায় সন্তান বিক্রির সিদ্ধান্তে শরীয়তপুরের এক অসহায় মা

নিজস্ব প্রতিবেদক:: অভাব-অনটন আর ঋণের পাহাড়চাপ, সেইসাথে দেনাদারদের লাগাতার হুমকি—সবকিছু মিলিয়ে চরম সংকটে পড়েছেন শরীয়তপুরের জান্নাতুল ফেরদৌস নামের এক অসহায় মা। সংসারের চরম দুরবস্থায় তিনি যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তা শুনে যে কোনো হৃদয় কেঁপে উঠবে—নিজের কন্যা সন্তানকে বিক্রি করে দেওয়ার মর্মান্তিক সিদ্ধান্ত।

পরিবারের তথ্য অনুযায়ী, জান্নাতুল ফেরদৌসের স্বামী রুবেল সরদার স্থানীয় একটি বেকারিতে কাজ করতেন। কিন্তু ব্যবসায়িক লেনদেনের জটিলতায় তিনি বিপুল পরিমাণ ঋণের জালে জড়িয়ে পড়েন। একের পর এক ধার করে বর্তমানে প্রায় ১০ লক্ষ টাকার দেনা মাথায় চেপে বসেছে। দেনাদারদের নিত্যদিনের চাপ, ভয়ভীতি আর অপমান পুরো পরিবারকে দিশেহারা করে তুলেছে।

অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, ‘আমার তিন মেয়ে মানসুরা, মাইমুনা আর মরিয়মকে নিয়েই বেঁচে থাকতে চাই। কিন্তু আর্থিক সংকটে এখন আর খাবার জোগাড় করাও সম্ভব হচ্ছে না। অনেক দিন না খেয়ে বা অর্ধেক খেয়ে দিন পার করছি। দেনাদারদের চাপে ভেঙে পড়ে বাধ্য হয়েই এক মেয়েকে বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমি চাই না সন্তানদের থেকে আলাদা হতে। তাই সমাজের সচ্ছল ও হৃদয়বান মানুষদের কাছে সাহায্যের হাত বাড়াচ্ছি।’


রুবেল সরদারও নিজের অসহায়ত্বের কথা জানিয়ে বলেন, ‘দেনাদারদের ভয়ভীতি প্রতিদিন আমাদের অস্থির করে তুলছে। আমরা কোথাও কোনো শান্তি খুঁজে পাচ্ছি না। এখন সমাজের দয়ালু ও সহানুভূতিশীল মানুষ ছাড়া বাঁচার আর কোনো পথ নেই।’


এ বিষয়ে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আজাহার খান বলেন, ‘আমি পরিবারটির অসহায়তার খবর জানার পর থেকেই তাদের পাশে কিছুটা আর্থিকভাবে দাঁড়িয়েছি। সন্তান বিক্রির কথা জানার পর আমি তাদের ধৈর্য ধরতে বলেছি এবং এ সিদ্ধান্ত থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছি। সরকারিভাবে ও সামাজিকভাবে সাহায্য দেওয়ার চেষ্টা করছি। সমাজের সবাই একসাথে এগিয়ে এলে পরিবারটি অন্তত স্বাভাবিকভাবে বেঁচে থাকতে পারবে।’

বর্তমানে মানবিক সহায়তা ছাড়া এ পরিবারটির সামনে আর কোনো পথ খোলা নেই। স্থানীয় সমাজ ও দেশের হৃদয়বান মানুষের সহযোগিতাই এখন তাদের বেঁচে থাকার একমাত্র ভরসা।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ওয়েবসাইট এর কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পুর্ণ বেআইনি।
Design & Development BY : ThemeNeed.com