গাইবান্ধা প্রতিনিধি: গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে পারিবারিক জমিজমা ও গাছের আম পারাকে কেন্দ্র করে রক্তাক্ত সংঘর্ষে ভাতিজার ছুরিকাঘাতে নির্মমভাবে প্রাণ হারিয়েছেন জিয়াউর ইসলাম (৪৫)। হত্যাকাণ্ডের পরদিনই পুলিশ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে, যাদের একজন খোদ নিহতের ভাই, আরেকজন ভাবী এবং তৃতীয়জন ভাতিজা।

জিয়াউর ইসলামের বাড়ি সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বেলকা ইউনিয়নের মাঝবাড়ি গ্রামে। তিনি মৃত জাফর আলীর ছেলে।
আরো পড়ুন: ভাতিজার ছুরিকাঘাতে চাচা খুন, পারিবারিক বিরোধে রক্তাক্ত সুন্দরগঞ্জ
গত শুক্রবার (১১ জুলাই) রাত সাড়ে ৯টার দিকে পারিবারিক বসতবাড়ির আঙিনায় গাছের আম পারাকে কেন্দ্র করে ভয়াবহ সংঘর্ষ বাঁধে। মুহূর্তেই তা রক্তাক্ত সহিংসতায় রূপ নেয়। ধারালো ছুরি দিয়ে আক্রমণ করে সাইফুল ইসলাম নামের এক ভাতিজা। জিয়াউর ইসলামকে বুকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করা হয়। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
ছুরিকাঘাতে মারাত্মকভাবে আহত হন তার স্ত্রী আছমা বেগম (৩৯) ও ছেলে ইসমাইল হোসেন (১৭)। তারা বর্তমানে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।

শনিবার রাতে নিহতের স্ত্রী আছমা বেগম সুন্দরগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় পাঁচজনের নাম উল্লেখ করা হয় এবং অজ্ঞাত আরও ২–৩ জনকে আসামি করা হয়।
এজাহারে বলা হয়, ঘটনার রাতে পূর্বপরিকল্পিতভাবে লাঠি ও ছুরি হাতে হামলা চালায় অভিযুক্তরা। ওই সময় জিয়াউর ইসলাম ও তার স্ত্রীকে ঘিরে ধরে নির্মমভাবে কুপিয়ে ফেলা হয়। বাড়ির উঠোনেই লুটিয়ে পড়েন জিয়াউর।
ঘটনার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেফতার করে। তারা হলেন—ইব্রাহিম আলী (৫০), তার স্ত্রী শামছুন্নাহার বেগম (৪৫) এবং ছেলে ছামিউল ইসলাম (২৫)। নিহত জিয়াউরের ভাই, ভাবী ও ভাতিজাই তার ঘাতক হয়ে উঠেছে।
সুন্দরগঞ্জ থানার তদন্ত কর্মকর্তা মো. সেলিম রেজা জানান, গ্রেফতারদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলার প্রধান আসামিসহ পলাতকদের ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
গাইবান্ধা/প্রবা
Leave a Reply