মনজু হোসেন,স্টাফ রিপোর্টার, পঞ্চগড়:: পঞ্চগড় সদর উপজেলার হাফিজাবাদ ইউনিয়নের রাজমহল এলাকায় অবস্থিত একটি প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে এলাকাজুড়ে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকার পরিবর্তনের পর বিদ্যালয়টির নাম পরিবর্তন করা হয়েছে। তবে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি, নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করে আবেদন করার পরই নাম পরিবর্তনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, ২০১৫ সালে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টির আগের সাইনবোর্ডে “সায়মা ওয়াজেদ পুতুল অটিজম ও প্রতিবন্ধী স্কুল” লেখা থাকলেও বর্তমানে সেখানে “রাজমহল বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক বিদ্যালয়” নাম ব্যবহার করা হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নাম পরিবর্তনের ক্ষেত্রে যথাযথ প্রশাসনিক ও আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তাদের দাবি, প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়া নাম পরিবর্তন করা হয়ে থাকলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মফিজার রহমান বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আগেই বিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। তবে নাম পরিবর্তনসংক্রান্ত আবেদনের কপি চাইলে তিনি জানান, সেটি তার কাছে নেই; বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কাছে রয়েছে।
একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, বিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তন করা হয়নি, আগের নামই বহাল রয়েছে। তবে সরেজমিনে বিদ্যালয়ে নতুন সাইনবোর্ডে “রাজমহল বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক বিদ্যালয়” নামটি দেখা যায়, যা তার বক্তব্যের সঙ্গে অসঙ্গতি তৈরি করেছে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুমন বলেন, নিয়ম অনুযায়ী আবেদন করেই বিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তন করা হয়েছে।
সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপপরিচালক (ডিডি) অনিল চন্দ্র বর্মন বলেন, “বিষয়টি সম্পর্কে আমার জানা নেই। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলতে পারেন।”

পঞ্চগড় সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাহমিদা সুলতানা বলেন, “এ বিষয়ে আমার জানা নেই। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিস্তারিত তথ্য নিতে পারেন।”
এদিকে, স্থানীয়রা বিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তনের বৈধতা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন এবং শিক্ষা কার্যক্রম তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
Leave a Reply