মনজু হোসেন,স্টাফ রিপোর্টার:: হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর রয়েছে বলে বাদীপক্ষের দাবি। তবে সেই মামলার অভিযুক্ত আব্দুল হান্নান শেখ প্রকাশ্যেই পঞ্চগড় সদর থানার নতুন ভবন নির্মাণকাজের ঠিকাদারি পরিচালনা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

আব্দুল হান্নান শেখ পঞ্চগড় শহরের বাসিন্দা। তিনি একজন ব্যবসায়ী, ঠিকাদার এবং পঞ্চগড় জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান।
আদালত-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পঞ্চগড় সদর থানায় দায়ের হওয়া একটি হত্যা চেষ্টা মামলায় হান্নান শেখ গত ৪ মে উচ্চ আদালত থেকে ছয় সপ্তাহের আগাম জামিন পান। আদালত তাকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পঞ্চগড়ের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আত্মসমর্পণ করে নিয়মিত জামিনের আবেদন করতে নির্দেশ দেন। পাশাপাশি তদন্তে সহযোগিতা করা এবং মামলার সাক্ষীদের প্রভাবিত না করারও নির্দেশনা দেওয়া হয়।

সূত্রের দাবি, আগাম জামিনের মেয়াদ শেষ হলেও তিনি নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করেননি। ফলে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর রয়েছে বলে মামলার বাদীপক্ষ দাবি করেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পরোয়ানা কার্যকর থাকার পরও তিনি প্রকাশ্যে চলাফেরা করছেন, ব্যবসা পরিচালনা করছেন এবং বিভিন্ন সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ তদারকি করছেন। এমনকি পঞ্চগড় সদর থানার নির্মাণাধীন নতুন ভবনের কাজও নিয়মিত দেখভাল করছেন। অথচ তাকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।
মামলার বাদী বলেন, “উচ্চ আদালত শর্তসাপেক্ষে আগাম জামিন দিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আত্মসমর্পণ করেননি। এরপরও প্রকাশ্যে সরকারি কাজ করছেন। আইনের দৃষ্টিতে সবাই সমান হওয়া উচিত।”
অভিযোগের বিষয়ে আব্দুল হান্নান শেখ বলেন, “আমি এখনো জামিনে নেই। আমি কোনো জামিনের কাগজে স্বাক্ষর করিনি।”

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পঞ্চগড় আদালতের এক আইনজীবী বলেন, আগাম জামিন স্থায়ী জামিন নয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করে নিয়মিত জামিনের আবেদন না করলে উচ্চ আদালতের দেওয়া অন্তর্বর্তীকালীন সুরক্ষা কার্যকর থাকে না। এরপর মামলার আইনগত অবস্থান অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।
এ বিষয়ে পঞ্চগড় সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফুল ইসলাম বলেন, “বিষয়টি উচ্চ আদালতের আদেশের কাগজপত্র যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ায় রয়েছে।”
তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন, যদি আদালতের শর্ত অনুযায়ী আগাম জামিনের মেয়াদ শেষ হয়ে থাকে এবং গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর থাকে, তাহলে একজন অভিযুক্ত ব্যক্তি কীভাবে প্রকাশ্যে সরকারি প্রকল্পের কাজ পরিচালনা করছেন? বিশেষ করে থানার নতুন ভবনের নির্মাণকাজে তার সম্পৃক্ততা এবং তাকে গ্রেপ্তার না করার বিষয়টি নিয়ে জনমনে নানা আলোচনা চলছে।
Leave a Reply