বিজ্ঞাপন:
 
সংবাদ শিরোনাম:
চরফ্যাশনে মাদক ও চাঁদাবাজি চক্রের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান, গ্রেফতার ৩ লালমনিরহাটে ১০ দিনের নবজাতক বাড়ির উঠান থেকে উদ্ধার,এলাকাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য সংসদ নির্বাচনের তফশিল ঘোষণা; ভোটগ্রহণ ১২ ফেব্রুয়ারি চোরকে চিনে ফেলায় র‌্যাব সদস্যের স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যা, স্বর্ণালঙ্কার লুট প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ সীমান্তে ১৫ বিজিবি’র চোরাচালান বিরোধী বিশেষ অভিযানে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় শাড়ি জব্দ মিসরে কোরআন প্রতিযোগিতায় ৭০টি দেশের মধ্যে প্রথম বাংলাদেশের হাফেজ আনাস পঞ্চগড়ে জনবল কাঠামো নীতিমালা অন্তর্ভুক্ত করে এমপিও’র দাবিতে মানববন্ধন দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিলে এদেশে আর কখনো ফ্যাসিবাদের জন্ম হবে না: ড. মাসুদ ৩৫ ফুটের গর্তে পড়া ২ বছরের শিশুটি ১০ ঘণ্টায়ও উদ্ধার হয়নি
পুলিশ কমিশনারের গ্রিন সিগন্যালে আমাকে গ্রেপ্তার করা হয় : মাহমুদুল হক

পুলিশ কমিশনারের গ্রিন সিগন্যালে আমাকে গ্রেপ্তার করা হয় : মাহমুদুল হক

অনলাইন ডেস্ক ::‘হাজিরহাট থানার নামটা আমি কয়েকবার শুনেছি। আমি রংপুরে খুব বেশি দিনের মানুষ নই। হাজিরহাট থানা বা তার এলাকা এখনো আমি চিনি না। এটা উত্তরে না দক্ষিণে, পূর্বে না পশ্চিমে আমি চিনি না। সেই এলাকায় একটা হত্যাকাণ্ড হয়েছে অথবা মৃত্যু হয়েছে কারও সেই মামলায় আমাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আমি আশ্চর্য হলাম হাজিরহাট থানার মামলায় পুলিশ আমাকে কোতোয়ালি থানায় নিয়ে যায়। সেখান থেকে খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে আদালতে তুলে আমাকে কারাগারে পাঠানো হয়।’

মঙ্গলবার (২৪ জুন) দুপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) কবি হেয়াত মামুদ ভবনের সামনে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মাহমুদুল হক। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় হার্ট অ্যাটাকে মারা যাওয়া মুদি দোকানি ছমেছ উদ্দিন হত্যা মামলায় জামিনে মুক্ত হওয়ার দুইদিন পর তিনি এই সংবাদ সম্মেলন করেন।

অধ্যাপক মাহমুদুল হক দাবি করেন, ‎একটি সংঘবদ্ধ চক্রের পরিকল্পনায় তাকে এই মামলায় আসামি করা হয়েছে। চক্রটি তার বিরুদ্ধে সক্রিয় হয়ে উঠেছে। তারাই মামলা করাচ্ছে। হাজিরহাট থানায় যে মামলায় তার নামে দেওয়া হয়েছে, সেই ব্যক্তি হার্ট অ্যাটাকে মারা গিয়েছে। তাকে তিনি চেনেন না, এমনকি ঘটনাস্থল কিংবা হাজিরহাট থানা এলাকাও তার অজানা। অথচ পুলিশ কমিশনারের গ্রিন সিগন্যালে তাকে হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়।

তিনি বলেন, ২০০৯ সালে দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর ২০১৯ সালে আমি বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে প্রভাষক হিসেবে যোগদান করি। ২০২০ সালের দিকে আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের দুর্নীতিবিরোধী একজন সক্রিয় কর্মী হিসেবে যুক্ত হই। তৎকালীন উপাচার্যের বিরুদ্ধে ৭৯০ পৃষ্ঠার একটি শ্বেতপত্র প্রকাশ করি। বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতীয় পতাকা অবমাননার ঘটনায় গোল বৃত্তকে চারকোনা বানানোর বিষয়ে আমি একটি মামলা করি। এর ফলে আমার পক্ষে-বিপক্ষে কিছু গোষ্ঠী দাঁড়িয়ে যায়। আমি অধিকার নিয়ে কাজ করতে গিয়ে আমার কিছু বিপক্ষ গ্রুপ দাঁড়িয়েছে গেছে এই বিশ্ববিদ্যলেয়ে।

গ্রেপ্তার হওয়ার ঘটনা বলতে গিয়ে ‎‎অধ্যাপক মাহমুদুল হক বলেন, ঘটনার দিন বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি প্রোগ্রাম শেষে আমি বাসায় যাই। তখন আমার তের বছরের ছেলে ও আমি বাসায় ছিলাম। আমার পরিবার রাজশাহীতে ছিল। হঠাৎ সাদা পোশাক ও ইউনিফর্ম পরিহিত কিছু পুলিশ সদস্য ওসিসহ আমার বাসায় আসে। তারা আমাকে ছমেছ উদ্দিন হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার করে। আমি ওই মামলার সবশেষ ৫৪ নম্বর আসামি। আমাকে সরাসরি কোতোয়ালি থানায় নেওয়া হয়। আমি অবাক হয়ে যাই, কারণ মামলা ছিল হাজিরহাট থানায়, অথচ আমাকে কোতোয়ালি থানায় নেওয়া হয়। সেখানে কিছু কাগজপত্র তৈরি করা হয়। এরপর দ্রুত আমাকে আদালতে নিয়ে কয়েক সেকেন্ড শুনানি শেষে জেলহাজতে পাঠানো হয়।

তিনি আরও বলেন, এর আগেও অটোচালক মানিক হত্যা মামলায় আমাকে হয়রানি করা হয়। সেখানে আমি ছিলাম ১৯ নম্বর আসামি। কেন এসব হয়রানিমূলক মামলা করা হচ্ছে, তা আমি বুঝতে পেরেছি। আমি দীর্ঘদিন ধরে অধিকার নিয়ে কথা বলেছি, মানুষের পক্ষে দাঁড়িয়েছি। এসব কারণেই একটি সংঘবদ্ধ চক্র আমার বিরুদ্ধে সক্রিয় হয়ে উঠেছে। তারাই এসব মামলা করাচ্ছে এবং বাদীকে প্রভাবিত করছে। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আমাকে সরাতে, আমার পরিবারকে হেয় করতে এসব মামলা করা হয়েছে।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ওয়েবসাইট এর কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পুর্ণ বেআইনি।
Design & Development BY : ThemeNeed.com