মনজু হোসেন, স্টাফ রিপোর্টার :: পঞ্চগড় জেলা শহরে বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ২১ জন আহত হয়েছেন। আহতদের পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে গুরুতর আহত চারজনকে রংপুরে রেফার করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে একজন পুলিশ সদস্যও রয়েছেন।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টার দিকে জেলা শহরের তেঁতুলিয়া বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে পঞ্চগড়-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নওশাদ জমিরের সমর্থকেরা একটি মিছিল বের করেন। মিছিলটি এমআর কলেজ মোড়ে পৌঁছালে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ও পঞ্চগড়-২ আসনের সংসদ সদস্য ফরহাদ হোসেন আজাদের সমর্থকদের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া শুরু হয়। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও সংঘর্ষ শুরু হয়।

এ সময় লাঠিসোঁটা হাতে দুই পক্ষের লোকজন মহাসড়কে অবস্থান নেন। থেমে থেমে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষ চলতে থাকে। এতে মহাসড়কে যান চলাচল প্রায় দুই ঘণ্টা বন্ধ হয়ে যায়। আটকা পড়ে শত শত যানবাহন।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। পরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। রাত গভীর হওয়ার পর দুই পক্ষই ঘটনাস্থল থেকে সরে যায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার সকালে জেলা বিএনপির কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত একটি মতবিনিময় সভায় সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদের উপস্থিতিতে বোদা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আসাদুল্লাহ আসাদের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা ও হট্টগোল হয়। ওই ঘটনার জের ধরে রাতে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয় বলে জানা গেছে।

পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. রেজওয়ানুল্লাহ বলেন, ‘মোট ২১ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে চারজনকে রংপুরে রেফার করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে একজন পুলিশ সদস্য রয়েছেন।’
পঞ্চগড়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শইমী ইমতিয়াজ বলেন, ‘পরিস্থিতি এখন পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
Leave a Reply