বিজ্ঞাপন:
সংবাদ শিরোনাম:
পঞ্চগড়ে পরকীয়ার জেরে স্বামীকে ওষুধ খাইয়ে হত্যার অভিযোগ, স্ত্রী আটক কুড়িগ্রামে সার না পেয়ে ডিলার পয়েন্টে হট্টগোল করে সার লুট করল কৃষকরা লালমনিরহাটে সবুজ সেবার উদ্যোগে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বৃক্ষরোপণ ও বৃক্ষ বিতরণ কর্মসূচি লালমনিরহাটে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ, ধর্ষকের যাবজ্জীবন ও ২ লাখ টাকা জরিমানা‎‎‎‎​ লালমনিরহাটে ‘Clean & Green Monday’ কর্মসূচির উদ্বোধন অভাবের সংসারে জমজ সন্তানের জন্ম, দুধ কেনার টাকা নেই দিনমজুর বাবার! লালমনিরহাটে তুহিনকে ঘিরে মা’দক কারবারের অভিযোগ! জনমনে উঠেছে নানান প্রশ্ন টাঙ্গাইল থেকে লালমনিরহাটে ছুটে এলেন মানবিক সোহেল: বদলে গেল আব্দুল আওয়ালের জীবন লালমনিরহাটে সারের দাবিতে রংপুর-বুড়িমারী মহাসড়ক অবরোধ, ডিলার ও মাঠকর্মী অবরুদ্ধ, প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক ফুটফুটে জমজ দুই ছেলের মুখে অন্ন তুলে দিতে অসহায় পিতা
পঞ্চগড়ে পরকীয়ার জেরে স্বামীকে ওষুধ খাইয়ে হত্যার অভিযোগ, স্ত্রী আটক

পঞ্চগড়ে পরকীয়ার জেরে স্বামীকে ওষুধ খাইয়ে হত্যার অভিযোগ, স্ত্রী আটক

মনজু হোসেন,স্টাফ রিপোর্টোর :: পঞ্চগড় সদর উপজেলার চাকলা ইউনিয়নের শিংরোড প্রধানপাড়া গ্রামে পরকীয়ার জেরে স্ত্রীকে দিয়ে স্বামীকে বিষাক্ত ওষুধ খাইয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী মৌসুমী আক্তার (২৫)-কে আটক করেছে পুলিশ।


নিহত আলম হক (৩০) একই এলাকার তোসলিম উদ্দীনের ছেলে। সোমবার বিকেলে স্থানীয়দের খবরের ভিত্তিতে পঞ্চগড় সদর থানা পুলিশ মৌসুমী আক্তারকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আলম হকের সঙ্গে মৌসুমী আক্তারের প্রায় নয় বছরের দাম্পত্য জীবন। শনিবার রাতে স্ত্রীর হাতে ভাত খাওয়ার পর হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন আলম হক। প্রথমে পেটে ব্যথা শুরু হয় এবং পরে তিনি বমি করতে থাকেন। এ সময় পরিবারের সদস্যদের কাছে তিনি বিষ খাওয়ার আশঙ্কার কথা জানান।

অভিযোগ রয়েছে, পরিবারের সদস্যরা জড়ো হওয়ার পর পানি খাওয়ানোর কথা বলে শরবতের সঙ্গে আরও ওষুধ মিশিয়ে আলমকে খাওয়ানো হয়। এতে তার শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হলে তাকে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুরে নেওয়ার পরামর্শ দেন। তবে রংপুরে নেওয়ার পথেই আলম হকের মৃত্যু হয়।


রোববার পরিবারের পক্ষ থেকে বিষয়টি পঞ্চগড় সদর থানায় জানানো হলে পুলিশ মরদেহের ময়নাতদন্তের ব্যবস্থা করে। পরে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ নিজ এলাকায় দাফন করা হয়।

নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, দাফনের একদিন পর সোমবার স্থানীয়দের কাছে মৌসুমী আক্তার তার স্বামীকে ওষুধ খাওয়ানোর বিষয়টি স্বীকার করেন। স্থানীয়দের দাবি, একই গ্রামের বাবুল নামে এক ব্যক্তির নির্দেশেই তিনি আলমকে ওই ওষুধ খাইয়েছিলেন। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়রা জড়ো হয়ে পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মৌসুমী আক্তারকে আটক করে।

আটকের পর মৌসুমী আক্তার দাবি করেন, বাবুল নামে ওই ব্যক্তি প্রায় এক বছর ধরে তাকে বিভিন্নভাবে বিরক্ত করতেন। মোবাইল ফোন, ইমু ও হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করে তাকে দেখা করার জন্য চাপ দিতেন বলেও দাবি করেন তিনি।

মৌসুমীর ভাষ্য অনুযায়ী, আলম হককে খাওয়ানোর জন্য বাবুল তাকে একটি ওষুধ দিয়েছিলেন এবং সেটি ঘুমের ওষুধ বলে জানিয়েছিলেন। ওষুধ না খাওয়ালে তার সন্তানদের নিয়ে যাওয়ার ভয় দেখানো হয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি।

নিহত আলম হকের ছোট বোন বলেন, “আমার ভাবি আমার ভাইকে এভাবে বিষ খাইয়ে মারবে, এটা আমরা কল্পনাও করতে পারিনি। সে অন্য কারও সঙ্গে চলে যেতে চাইলে চলে যেতে পারত। কিন্তু আমার ভাইকে মেরে ফেলল কেন? আমরা এর বিচার চাই।”


এ বিষয়ে পঞ্চগড় সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোখলেছুর রহমান বলেন, “এ ঘটনায় মরদেহের ময়নাতদন্ত হয়েছে। গতকাল পরিবারের পক্ষ থেকে একটি ইউডি মামলা করা হয়েছিল। আজ স্থানীয়রা ফোন করে জানায়, মৃত আলমের স্ত্রী নাকি ঘটনার বিষয়ে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মৌসুমী আক্তার নামে একজনকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। এ বিষয়ে অভিযোগ পেলে আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।”

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ ও এর সঙ্গে অন্য কারও সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ওয়েবসাইট এর কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পুর্ণ বেআইনি।
Design & Development BY : ThemeNeed.com