মনজু হোসেন,স্টাফ রিপোর্টোর: পঞ্চগড় সদর উপজেলার জগদল বাজারে চিকিৎসক না হয়েও রোগীদের প্রেসক্রিপশন লিখে অ্যান্টিবায়োটিকসহ বিভিন্ন ধরনের ওষুধ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে রোকসানা আক্তার নামে এক ফার্মেসি ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, সাত মাসের এক অন্তঃসত্ত্বা নারীকে অ্যান্টিবায়োটিকসহ কয়েক ধরনের ওষুধ দেওয়ার পর তাঁর গর্ভের সন্তান মারা যায়।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সরেজমিনে জগদল বাজারের ওই ফার্মেসিতে গিয়ে রোকসানা আক্তারের সঙ্গে কথা হলে তিনি রোগীদের প্রেসক্রিপশন দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন। তবে তাঁর দাবি, রোগীদের ওষুধ লেখার অনুমতি রয়েছে তাঁর।
পরিবারের অভিযোগ, সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা ওই নারী অসুস্থ হয়ে রোকসানা আক্তারের কাছে চিকিৎসার জন্য গেলে তিনি অ্যান্টিবায়োটিকসহ কয়েক ধরনের ওষুধ দেন। পরবর্তীতে ওই নারীর গর্ভের সন্তান মারা যায়। পরিবারের সদস্যদের দাবি, চিকিৎসক না হয়েও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকা অন্তঃসত্ত্বা নারীকে ওষুধ দেওয়ার বিষয়টি তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন।

তবে ওই ওষুধ সেবনের কারণেই গর্ভের সন্তানের মৃত্যু হয়েছে কি না, তা চিকিৎসা-সংক্রান্ত তদন্ত ও বিশেষজ্ঞ মতামত ছাড়া নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।
স্থানীয় সচেতন মহলের একরামুল হক বলেন, “রোগীটি সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন এবং ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ছিলেন। চিকিৎসক না হয়ে এভাবে প্রেসক্রিপশন করে ওষুধ দেওয়া ঠিক হয়নি। প্রশাসনের উচিত এ ধরনের ওষুধের দোকানে নিয়মিত নজরদারি করা।”
এ বিষয়ে পঞ্চগড়ের সিভিল সার্জন ডা. মিজানুর রহমান বলেন, “চিকিৎসক না হলে এ ধরনের ওষুধ লেখার কোনো সুযোগ নেই। এ বিষয়ে অভিযোগ করা হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

স্থানীয়দের অভিযোগ, চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া রোগীদের প্রেসক্রিপশন দেওয়া এবং অ্যান্টিবায়োটিকসহ বিভিন্ন ওষুধ বিক্রির বিষয়টি নিয়মিত তদারক করা প্রয়োজন। বিশেষ করে গর্ভবতী নারীদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ গ্রহণ মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের মাধ্যমে রোকসানা আক্তার আদৌ চিকিৎসা দেওয়ার বা প্রেসক্রিপশন লেখার বৈধ অনুমতি রাখেন কি না এবং ওই অন্তঃসত্ত্বা নারীর গর্ভের সন্তান মৃত্যুর প্রকৃত কারণ কী—তা পরিষ্কার হওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
Leave a Reply