আনোয়ারুল ইসলাম রনি,রংপুর ব্যুরো: রংপুর জেলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল, তাঁর স্ত্রী, ছেলে ও মেয়েকে হত্যার ঘটনায় পুলিশের তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও নেপথ্যের পরিকল্পনাকারীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবিতে মানববন্ধন করেছে সংগঠনটি।

বুধবার (২৬ আগস্ট) দুপুরে রংপুর নগরীর প্রেস ক্লাবের সামনে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে সুজনের জেলা ও মহানগর কমিটির নেতাকর্মীদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, চারজন মানুষকে হত্যার ঘটনায় তদন্তের বিভিন্ন দিক নিয়ে জনমনে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। শুধু কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেই তদন্ত শেষ না করে হত্যাকাণ্ডের পেছনে কোনো পরিকল্পনা, নির্দেশদাতা বা অন্য কোনো পক্ষের সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা গভীরভাবে অনুসন্ধান করা প্রয়োজন।
সুজনের জেলা সভাপতি ফখরুল আনাম বেঞ্জু বলেন, রংপুরে পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট ও জনবল বাড়লেও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে প্রত্যাশিত পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে না। পুলিশের সঙ্গে জনগণের যে ধরনের আস্থা ও সহযোগিতার সম্পর্ক থাকা প্রয়োজন, সেটিও পুরোপুরি তৈরি হয়নি।

তিনি বলেন, ‘একজন বা দুজন মাদকাসক্ত ব্যক্তি চারজন মানুষকে এমনভাবে হত্যা করতে পারে কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা দরকার। মাদকের বিষয়টিকে সামনে এনে প্রকৃত অপরাধী, পরিকল্পনাকারী কিংবা নির্দেশদাতাদের আড়াল করা হচ্ছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা জরুরি।’
ঘটনাটিতে পুলিশের তদন্তের পাশাপাশি সরকারের সংশ্লিষ্ট উচ্চপর্যায়ের নীরবতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের শনাক্ত করে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান সুজনের এই নেতা।
সুজন রংপুর মহানগর সভাপতি অ্যাডভোকেট জোবায়দুল ইসলাম বুলেট বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদের পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে অন্য কারও সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা বের করা প্রয়োজন ছিল। আসামিদের ডোপ টেস্ট না করা, ঘটনার আগাম তথ্য কীভাবে কারও কাছে পৌঁছেছিল এবং হত্যার সময় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার বিষয়টিও তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, দুর্বল তদন্ত হলে প্রকৃত অপরাধীরা আইনের ফাঁক গলে বেরিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেতে পারে। হত্যাকাণ্ডটি দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার কোনো পরিকল্পনার অংশ কি না, সে বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন। নগরীর নিরাপত্তা জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন এবং কার্যকর কমিউনিটি পুলিশিং চালুর আহ্বান জানান তিনি।
সুজনের জেলা সদস্য ও নারী নেত্রী মঞ্জুশ্রী সাহা বলেন, ঘটনাটি নিয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত ডোম ও ফরেনসিক চিকিৎসকের বক্তব্যে কিছু অসামঞ্জস্য রয়েছে বলে তাদের মনে হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন বিষয় অস্বীকার করার প্রবণতাও জনমনে প্রশ্ন তৈরি করছে।
তিনি দাবি করেন, নিহত তরুণীর সঙ্গে তাঁর এক বান্ধবীর কথোপকথনে হত্যার হুমকি এবং জিডি করার বিষয়টি উঠে এসেছিল। ওই বিষয়টি যথাযথভাবে তদন্ত করা হয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। দ্রুত কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে তদন্তের একটি নির্দিষ্ট বয়ান দাঁড় করানোর পরিবর্তে সব সম্ভাব্য দিক বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত পরিচালনার আহ্বান জানান।

মঞ্জুশ্রী সাহা আরও বলেন, বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়া এবং ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ না থাকার বিষয়গুলোও গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা দরকার। চারজনের হত্যাকাণ্ডের পর রংপুরের মানুষের মধ্যে যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে, তা দূর করতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
মানববন্ধন থেকে রংপুর নগরীর সার্বিক নিরাপত্তা জোরদার, কোনো ধরনের রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক প্রভাবমুক্ত তদন্ত, হত্যাকাণ্ডের সব সম্ভাব্য দিক অনুসন্ধান এবং প্রকৃত অপরাধীদের বিচারের মুখোমুখি করার দাবি জানানো হয়।

কর্মসূচিতে আরও বক্তব্য দেন সুজন রংপুর মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন স্বাধীন, সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাহে আলম, প্রচার সম্পাদক ও সাংবাদিক ফরহাদুজ্জামান ফারুকসহ জেলা ও মহানগর কমিটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
প্রবা/আরইসআর
Leave a Reply