বিজ্ঞাপন:
হামে আরও ১৬ শিশুর মৃত্যু, ঈদে সংক্রমণ বৃদ্ধির ঝুঁকি

হামে আরও ১৬ শিশুর মৃত্যু, ঈদে সংক্রমণ বৃদ্ধির ঝুঁকি

জাহিদ হাসান,নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশে হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়ে শিশুমৃত্যুর সংখ্যা পাঁচশ ছাড়িয়েছে। আক্রান্তের সংখ্যাও ৭২ হাজারের বেশি বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। জনস্বাস্থ্যবিদদের আশঙ্কা, ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে বাড়তি জনসমাগম, গণপরিবহণে ভিড় এবং পারিবারিক ও সামাজিক অনুষ্ঠানের কারণে হামের সংক্রমণ আরও দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, হাম অত্যন্ত সংক্রামক একটি ভাইরাসজনিত রোগ। আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শ, হাঁচি-কাশি কিংবা বাতাসের মাধ্যমেও এটি ছড়াতে পারে। ঈদে বাস, ট্রেন ও লঞ্চযাত্রার পাশাপাশি শপিংমল, ঈদের জামাত ও পারিবারিক সমাবেশ সংক্রমণের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।

২৪ ঘণ্টায় আরও ১৬ শিশুর মৃত্যু:
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার সকাল ৮টা থেকে রোববার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ১৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১২৮ শিশুর শরীরে নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে। এছাড়া ১ হাজার ৩০৬ শিশু হামের লক্ষণ নিয়ে হাসপাতালে এসেছে, যাদের মধ্যে ১ হাজার ১৬৯ জনকে ভর্তি করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত নিশ্চিত হাম ও উপসর্গ মিলিয়ে দেশে পাঁচ শতাধিক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে নিশ্চিত হাম আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ৮৬ শিশু। উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে আরও ৪৪২ শিশু।

ঢাকায় সবচেয়ে বেশি মৃত্য:
বিভাগভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি শিশুমৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে। সেখানে ২২৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া রাজশাহীতে ৮২, সিলেটে ৫৩, চট্টগ্রামে ৫২, বরিশালে ৫১, ময়মনসিংহে ৩৯ এবং খুলনায় ২১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সবচেয়ে কম মৃত্যু হয়েছে রংপুর বিভাগে।

ঈদযাত্রা নিয়ে সতর্কতার আহ্বান:
চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম আক্রান্ত একজন ব্যক্তি ১২ থেকে ১৮ জন সুস্থ মানুষের মধ্যে সংক্রমণ ছড়াতে পারেন। শরীরে ভাইরাস প্রবেশের পর উপসর্গ প্রকাশের আগেই আক্রান্ত ব্যক্তি অন্যদের সংক্রমিত করতে সক্ষম হন।

বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিশু বিভাগের অধ্যাপক ডা. মো. আতিয়ার রহমান বলেন, হাম ভাইরাস বাতাসের মাধ্যমে ছড়ায় এবং কোনো বস্তুর ওপরও কিছু সময় সক্রিয় থাকতে পারে। ঈদযাত্রায় শিশু, বয়োবৃদ্ধ ও অসুস্থ ব্যক্তিদের নিয়ে অপ্রয়োজনীয় ভিড় এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেন তিনি।

বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের চিকিৎসক ডা. মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, অনেক সময় শুরুতে কেবল হালকা জ্বর দেখা দিলেও তখন থেকেই আক্রান্ত ব্যক্তি অন্যদের মধ্যে সংক্রমণ ছড়াতে পারে। ফলে ঈদের সময় বড় ধরনের জনসমাগম সংক্রমণ বিস্তারের বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

হাসপাতালগুলোতে বিশেষ নির্দেশনা:
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, ঈদের ছুটিকালেও সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। শিশু ওয়ার্ড ও হাম আইসোলেশন ইউনিটে পর্যাপ্ত চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া যেসব হাসপাতালে হাম রোগীদের চিকিৎসা চলছে, সেখানে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ও নার্সদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ওয়েবসাইট এর কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পুর্ণ বেআইনি।
Design & Development BY : ThemeNeed.com