চরফ্যাশন (ভোলা) প্রতিনিধি:: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর ও সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক মজিবুর রহমান বলেছেন, স্বাধীনতার ৫৪ বছরে জনগণ তিনটি রাজনৈতিক দলের শাসন দেখেছে। এসব দলগুলো দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থেকেও দুর্নীতি, অর্থপাচার ও সন্ত্রাসের রাজনীতি থেকে বের হতে পারেনি। অথচ জামায়াতে ইসলামের দু’জন মন্ত্রী ও ২২ জন সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে সামান্যতম দুর্নীতির অভিযোগও পাওয়া যায়নি। বর্তমানে একটি রাজনৈতিক দল বেকার ভাতা ও ফ্যামেলী কার্ডের কথা বলে ভোট চাইছে। এই ভাতা পেলে যুব সমাজকে অলস করে তুলবে এবং বেকারত্ব আরও বাড়াবে।

বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১ টার দিকে ভোলা-৪ আসনের চরফ্যাশন সরকারি টি.বি. মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে চরফ্যাশন উপজেলা জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এসময় হাজার হাজার মানুষের অংশগ্রহণে জনসভাস্থল কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে।
অধ্যাপক মজিবুর রহমান বলেন, এবার দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে জামায়াতে ইসলামীকে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দিন। আপনাদের ভোটে জামায়াত ক্ষমতায় এলে বেকারদের ভাতা নয়, কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে, যাতে তারা আত্মমর্যাদা নিয়ে সমাজ ও রাষ্ট্রের উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারে। এবং রাষ্ট্রের প্রতিটি ক্ষেত্রে ঘুষ ও দুর্নীতি বন্ধ করা হবে। কেউ ঘুষ বা চাঁদাবাজির শিকার হলে অ্যাপসের মাধ্যমে সরকারকে জানাতে পারবেন, অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এতে অপরাধ প্রবণতা কমে আসবে।

ভোলা-বরিশাল সেতু নির্মাণের দাবির বিষয়ে তিনি বলেন, এ দাবি সম্পূর্ণ যৌক্তিক ও দীর্ঘদিনের। দুর্নীতি বন্ধ হলে রাষ্ট্র পরিচালনায় অর্থের সংকট থাকবে না। তখন ভোলা-বরিশাল সেতুসহ যেকোনো বড় অবকাঠামো নির্মাণ সরকারের জন্য সহজ হবে। পরে তিনি ভোলা-৪ (চরফ্যাশন-মনপুরা) আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত ১১ দলীয় জোটের সংসদ সদস্য প্রার্থী অধ্যক্ষ মাওলানা মোস্তফা কামালের হাতে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক তুলে দিয়ে তার পক্ষে ভোট চান।
এসময় ভোলা-৪ আসনের জামায়াত ইসলামীর নির্বাচনী পরিচালক কাজী মাওলানা হারুন-অর রশিদের সভাপতিত্বে ও চরফ্যাশন উপজেলা জামায়াত ইসলামীর আমীর অধ্যক্ষ মীর মোহাম্মদ শরীফ হোসেনের সঞ্চালনায় জনসভায় প্রধান বক্তা ছিলেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম, বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান এডভোকেট আনোয়ারুল হক চান,জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন হেলাল, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিপি রিয়াজুল ইসলাম রিয়াজ,হাইকোর্টের আপিল বিভাগের সিনিয়র আইনজীবী এডভোকেট পারভেজ হোসেন প্রমুখ।

অন্যদিকে, চরফ্যাশন উপজেলা জামায়াত ইসলামীর কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এসময় অভিযোগ করা হয়, জনসভায় আসার পথে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে জামায়াতে ইসলামের নেতাকর্মীদের ওপর বিএনপির নেতাকর্মীরা হামলা চালায়। এতে ১৫–২০ জন আহত হন এবং তারা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। অভিযোগে বলা হয়, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করলেও পরবর্তীতে অজ্ঞাত কারণে ছেড়ে দিয়েছে।
Leave a Reply