বিজ্ঞাপন:
 
সংবাদ শিরোনাম:
ক্ষমতায় গেলে ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তুলবে জামায়াত চরফ্যাশনে নির্বাচনী প্রচারণায় জামায়াতের হামলায় বিএনপির ৮ নেতাকর্মী আহত ৯ তলা থেকে লাফ দিয়ে প্রাণ দিলেন কিশোরী তিন বোন আমরা তিস্তাকে জীবন দিবো, লালমনিরহাটের হাতীবান্ধার তিস্তা ব্যারেজ হেলিপ্যাডে জামায়াতে আমীর ডা. শফিকুর রহমান বেকার ভাতা নয়, ক্ষমতায় গেলে কর্মসংস্থান দেবে জামায়াত: চরফ্যাশনে অধ্যাপক মজিবুর রহমান ‎একটি ভণ্ড ও মোনাফেকের দল খুচরা টাকায় ভোট কিনতে চায়: নুরুল ইসলাম নয়ন হাসনাত আব্দুল্লাহর ব্যানারে আগুন, প্রতিনিধির ওপর হামলা নিলাম ছাড়াই সেতু ভেঙে বাড়িতে নিলেন ইউপি চেয়ারম্যান তারেক-জুবাইদার বিবাহবার্ষিকী আজ, সংগ্রাম পেরিয়ে পার হল ৩২ বসন্ত বিএনপি প্রার্থীর পক্ষে টাকা বিতরণের সময় ৬ জন আটক, ১৫ দিনের কারাদণ্ড
‘আপু’ বলায় চটে গেলেন লালমনিরহাটের কালীগঞ্জের ইউএনও

‘আপু’ বলায় চটে গেলেন লালমনিরহাটের কালীগঞ্জের ইউএনও

নিজস্ব প্রতিবেদক::সরকারি কর্মকর্তাকে ‘আপু’ সম্বোধন করা কি অপরাধ? লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামিমা আক্তার জাহানের আচরণে এখন এই প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। একটি চড়ুইভাতি অনুষ্ঠানের আয়োজক তাকে ‘আপু’ বলে ডাকায় ফোনালাপেই মেজাজ হারিয়ে কড়া জবাব দিয়েছেন এই কর্মকর্তা।

ঘটনাটি ঘটে উপজেলার ‘রয়েল ফুটবল একাডেমি’র ১০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে। জানা গেছে, প্রতিবছরের মতো এবারও চড়ুইভাতির আয়োজন করেছিল একাডেমিটি। তবে অনুষ্ঠান শেষ করতে রাত ১২টা বেজে যাওয়ায় একাডেমির সহসভাপতি মেহেরবান মিঠুকে ফোন করেন ইউএনও শামিমা আক্তার জাহান।

ফোনালাপের একপর্যায়ে পরিস্থিতির ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে মিঠু বলেন, ‘এক্ষুনি শেষ হয়ে যাবে, আপু।’ আর এই ‘আপু’ শব্দটি শোনা মাত্রই অগ্নিশর্মা হয়ে ওঠেন ইউএনও। তিনি পাল্টা জবাবে বলেন, “আমি আপনার আপু নই, ফোর ইওর কাইন্ড ইনফরমেশন। আপনার অনুমতি নেওয়ার সময় তো এত রাত হওয়ার কথা ছিল না। আপনি কি এই অনুষ্ঠানের অনুমতি নিতে এসেছিলেন?”

ইউএনওর এমন কঠোর ও রূঢ় মনোভাবে হকচকিয়ে যান আয়োজক মিঠু। তিনি তাৎক্ষণিক দুঃখ প্রকাশ করলেও ইউএনওর ক্ষোভ কমেনি। পরে দ্রুত অনুষ্ঠানটি বন্ধ করে দেওয়া হয়।

এই ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে ফেসবুকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে সমালোচনার ঝড় ওঠে। নেটিজেনদের বড় একটি অংশ বলছেন, সরকারি কর্মকর্তাদের ‘স্যার’ বা ‘ম্যাম’ ডাকার কোনো সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা নেই। ‘আপু’ একটি অত্যন্ত সম্মানজনক ও আন্তরিক সম্বোধন হওয়া সত্ত্বেও ইউএনওর এমন প্রতিক্রিয়াকে অনেকে ‘প্রশাসনিক অহমিকা’ হিসেবে দেখছেন।

আয়োজক মেহেরবান মিঠু বলেন, “আমি অত্যন্ত সম্মান থেকেই তাকে ‘আপু’ বলেছিলাম। কাউকে অপমান করার কোনো উদ্দেশ্য আমার ছিল না। সময়ের চেয়ে দেরি হওয়ায় আমি ক্ষমা চেয়েছি, কিন্তু তিনি কেন এতোটা চটে গেলেন তা বুঝতে পারছি না।”

একাডেমির সাধারণ সম্পাদক রিবুল ভূঁইয়া আক্ষেপ করে বলেন, “আমরা ভেবেছিলাম ইউএনও মহোদয় এসে আমাদের ক্ষুদে খেলোয়াড়দের উৎসাহিত করবেন। কিন্তু তার কাছ থেকে এমন আচরণ আমরা আশা করিনি। যুবসমাজকে খেলাধুলায় উদ্বুদ্ধ করতে কাজ করছি, সেখানে প্রশাসনের এমন অসহযোগিতা কাম্য নয়।”

তবে নিজের আচরণের পক্ষে সাফাই গেয়ে ইউএনও শামিমা আক্তার জাহান বলেন, “আমি আপু বলার জন্য নয়, বরং গভীর রাত পর্যন্ত অনুষ্ঠান চলায় রাগান্বিত হয়েছি। আমি নিজেই ফোন করে অনুষ্ঠান বন্ধ করতে বলেছি।”

উল্লেখ্য, শামিমা আক্তার জাহানের বিরুদ্ধে বিতর্কের ঘটনা এটিই প্রথম নয়। এর আগে কালাই উপজেলায় দায়িত্ব পালনকালে উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দুদকের মামলায় তার নাম জড়িয়েছিল। এছাড়া জাতীয় শিক্ষানীতি উপেক্ষা করে পরীক্ষার পাসের নম্বর বাড়িয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েও তিনি ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন। নতুন এই ‘আপু’ বিতর্ক তার প্রশাসনিক আচরণের ওপর আবারও নেতিবাচক আলোকপাত করল।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ওয়েবসাইট এর কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পুর্ণ বেআইনি।
Design & Development BY : ThemeNeed.com