বিজ্ঞাপন:
 
সংবাদ শিরোনাম:
ক্ষমতায় গেলে ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তুলবে জামায়াত চরফ্যাশনে নির্বাচনী প্রচারণায় জামায়াতের হামলায় বিএনপির ৮ নেতাকর্মী আহত ৯ তলা থেকে লাফ দিয়ে প্রাণ দিলেন কিশোরী তিন বোন আমরা তিস্তাকে জীবন দিবো, লালমনিরহাটের হাতীবান্ধার তিস্তা ব্যারেজ হেলিপ্যাডে জামায়াতে আমীর ডা. শফিকুর রহমান বেকার ভাতা নয়, ক্ষমতায় গেলে কর্মসংস্থান দেবে জামায়াত: চরফ্যাশনে অধ্যাপক মজিবুর রহমান ‎একটি ভণ্ড ও মোনাফেকের দল খুচরা টাকায় ভোট কিনতে চায়: নুরুল ইসলাম নয়ন হাসনাত আব্দুল্লাহর ব্যানারে আগুন, প্রতিনিধির ওপর হামলা নিলাম ছাড়াই সেতু ভেঙে বাড়িতে নিলেন ইউপি চেয়ারম্যান তারেক-জুবাইদার বিবাহবার্ষিকী আজ, সংগ্রাম পেরিয়ে পার হল ৩২ বসন্ত বিএনপি প্রার্থীর পক্ষে টাকা বিতরণের সময় ৬ জন আটক, ১৫ দিনের কারাদণ্ড
নিলাম ছাড়াই সেতু ভেঙে বাড়িতে নিলেন ইউপি চেয়ারম্যান

নিলাম ছাড়াই সেতু ভেঙে বাড়িতে নিলেন ইউপি চেয়ারম্যান

গাইবান্ধা প্রতিনিধি: গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে এক ইউপি চেয়ারম্যান কর্তৃক কোনো দরপত্র বা নিলাম ছাড়াই দুই যুগ পুরোনো একটি সেতু ভেঙে এর নির্মাণসামগ্রী ব্যক্তিগতভাবে নিজের বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় চার গ্রামের প্রায় ১০ হাজার মানুষ যাতায়াত সংকট ও নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে পড়েছেন।

অভিযুক্ত ধোপাডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মোখলেছুর রহমান মণ্ডল নতুন সেতু নির্মাণের অজুহাত দেখালেও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) দাবি করেছেন, সেতুটি অপসারণের কোনো নিলাম প্রক্রিয়া এখনো শুরুই হয়নি।

স্থানীয় সূত্র ও সরেজমিন পরিদর্শনে জানা যায়, সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ধোপাডাঙ্গা ইউনিয়নের দক্ষিণ রাজিবপুর গ্রামে অবস্থিত ভেলার বাজার-দক্ষিণ রাজিবপুর সংযোগ সড়কের প্রায় ২০ মিটার দৈর্ঘ্যের এই সেতুটি প্রায় দুই যুগ ধরে চারটি গ্রামের একমাত্র যাতায়াত পথ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল। গত মাসের শুরুতে চেয়ারম্যান মোখলেছুর রহমান তার ব্যক্তিগত শ্রমিক নিয়ে এসে নতুন সেতুর টেন্ডার পাওয়ার দাবি করে পুরোনো সেতু ভাঙার কাজ শুরু করেন। টানা ৮-১০ দিনের কাজে প্রায় ১৫ থেকে ২০ হাজার ইট এবং অজস্র লোহার রড ট্রাক্টর ও ভ্যানে করে চেয়ারম্যানের বাড়িতে সরিয়ে নেওয়া হয়। এরপর হঠাৎ করেই সকল কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়। সেতুটির অর্ধেকের বেশি অংশ ধ্বংস হওয়ায় বাকি অংশ ঝুলে থাকা অবস্থায় রয়েছে, যা মারাত্মক দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি করেছে।

স্থানীয়রা বাধ্য হয়ে সড়কের দুপাশ মাটি কেটে একটি বিপজ্জনক ঢালু পথ তৈরি করেছেন। রিকশা, ভ্যান ও পথচারীরা সেখান দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন। স্থানীয় সিএনজি চালক নজরুল ইসলাম বলেন, এখন চলাচল আগের চেয়েও ভয়ঙ্কর। সামনে বর্ষা এলে স্কুল-কলেজে যাওয়া শিশুদের কী অবস্থা হবে, ভাবলেই শঙ্কা হয়।

এ ব্যাপারে চেয়ারম্যান মোখলেছুর রহমান প্রথমে বলেন, নতুন ব্রিজ নির্মাণের জন্য এটি ভাঙা হচ্ছে এবং অনুমতি সংক্রান্ত কাগজপত্র উপজেলা অফিসে আছে। তবে পরবর্তীতে এক সাক্ষাৎকারে তিনি উত্তেজিত হয়ে বলেন, ‘ব্রিজ টেন্ডারে আমি পেয়েছি। ভোটের কারণে কাজ আপাতত বন্ধ রেখেছি। বাকি অংশও ভোটের পরে নিয়ে আসব।’

এদিকে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. মশিউর রহমান চেয়ারম্যানের দাবিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দেন। তিনি বলেন, ‘সেতুটি অপসারণের জন্য এখনো কোনো নিলাম বা টেন্ডার প্রক্রিয়া শুরু হয়নি। চেয়ারম্যানকে বারবার নিষেধ করা সত্ত্বেও তিনি এটি ভেঙেছেন। এটি সম্পূর্ণ বেআইনি ও অনিয়ম।’

সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ঈফফাত জাহান তুলি বলেন, নিলাম ছাড়া কোনো সরকারি স্থাপনা ভাঙা সম্পূর্ণ অনিয়ম। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ওয়েবসাইট এর কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পুর্ণ বেআইনি।
Design & Development BY : ThemeNeed.com