বিজ্ঞাপন:
 
দেবীগঞ্জ অলদিনী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে পুনঃভর্তিতে কৌশলে অতিরিক্ত ফি আদায় করছে প্রধান শিক্ষক

দেবীগঞ্জ অলদিনী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে পুনঃভর্তিতে কৌশলে অতিরিক্ত ফি আদায় করছে প্রধান শিক্ষক

মনজু হোসেন, স্টাফ রিপোর্টার,পঞ্চগড়:: পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে সরকারি সিদ্ধান্তকে বৃদ্ধাঙ্গুল দেখিয়ে অতিরিক্ত ফি আদায় করছেন অলদিনী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক প্রদীপ কুমার সিংহ। প্রধান শিক্ষক দাবি করেন পিটিএ কমিটি টাকা উত্তোলন করে তাদের হিসাব নম্বরে টাকা জমা রেখে খরচ করেন কিন্তু পিটিএ কমিটির সভাপতি মশিউর রহমান বলেন, প্রধান শিক্ষক টাকা উত্তোলন করে নিজের কাছেই রেখে খরচ করে। এ বিষয়ে তিনি তেমন কিছু জানেন না।


দেবীগঞ্জ অলদিনী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে পুনঃভর্তি সরকারের নির্দেশিত ফি’র সাথে, নানা কৌশলে অতিরিক্ত আরো ১হাজার ৫০০ টাকা সহ প্রায় ৩ হাজার টাকা আদায় করছে। ফলে ভর্তি ফি নিয়ে বিদ্যালয়ে চরম নৈরাজ্য তৈরি হয়েছে। অভিভাবকদের মাঝে ক্ষোভ এবং আর্থিক চাপে পড়ছেন তারা।

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক প্রদীপ কুমার সিংহ বলেন, প্রতিষ্ঠানে পরিমানের তুলনায় শিক্ষক কম থাকায়,গেষ্ট শিক্ষকের ভাতা দেওয়ার জন্য কিছু অভিভাবক মিটিং করে এ অর্থ আদায়ের সিদ্ধান্ত নেয়।পেরেন্টস টিচার এসোসিয়েশন
(পিটিএ) নামে কমিটি করা আছে। তারা অর্থ আদায় করে এবং তাদের হিসাব নম্বরে জমা রাখেন।পরে সেখান থেকে গেষ্ট শিক্ষকের ভাতা প্রদান করা হয়।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়,ষষ্ঠ শ্রেণীতে -১১০ জন, সপ্তমে-১১০ জন, অষ্টমে-১১০জন, নবম-১০৭জন ও দশম শ্রেণীতে ৮৮ জন ছাত্রী রয়েছে।শিক্ষকের পদ ২৭ টি থাকলেও কর্মরত রয়েছে ১১ জন শিক্ষক।পুনঃভর্তি ফি ১হাজার ৪৩৫ থেকে শ্রেণীভেদে ১হাজার ৪৬৫ টাকা।কিন্তু নেওয়া হয়েছে দুই হাজার ৯৩৫ থেকে দুই হাজার ৯৬৫ টাকা পর্যন্ত।

অভিভাবকদের অভিযোগ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি ও অন্যান্য ফি আদায়ে অনিয়ম দীর্ঘদিনের হলেও গতবছর অভিযোগ ওঠার পরও তা ঠেকাতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখা যায় না। এজন্যই। লুটপাটের উদ্দেশ্য লোক দেখানো কমিটি করে প্রতি বছর অতিরিক্ত টাকা উত্তোলন করে তা আত্মসাৎ করেছেন। এ বিষয়ে তারা সরকারের হস্তক্ষেপ দাবি করেন।

দেবীগঞ্জ থানা পাড়া এলাকার পারভেজ বলেন,তার মেয়ে সপ্তম শ্রেণী থেকে অষ্টম শ্রেণীতে উত্তীর্ণ হয়েছে। তার কাছে পুনঃভর্তিসহ মোট দুই হাজার ৯৩০ টাকা নিয়েছেন।

চয়নুল ইসলামের মেয়ে সপ্তম শ্রেণী থেকে অষ্টম শ্রেণীতে উত্তীর্ণ হয়েছে তার কাছেও নিয়েছেন, দুই হাজার ৯৩০ টাকা।

ষষ্ঠ শ্রেণী থেকে সপ্তম শ্রেণীতে উত্তীর্ণ ছাত্রীর বাবা নুরনবী দিয়েছেন দুই হাজার ৯৩০ টাকা।একইভাবে দিয়েছেন আসাদুজ্জামান দোলনসহ একাধিক ব্যক্তিরাও।

বিদ্যালয় পেরেন্টস টিচার এসোসিয়েশন কমিটির সভাপতি মশিউর রহমান বলেন, পরিমানের তুলনায় শিক্ষক কম থাকায় কিছু অভিভাবক মিটিং করে, গেষ্ট শিক্ষকদের ভাতা দেওয়ার জন্য অর্থ উত্তোলনের সিদ্ধান্ত হয়।বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অর্থ উত্তোলন করে এবং তারাই ভাতা প্রদান করবেন। গত বছরেও অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে, তবে আমি এবার সভাপতি হিসেবে নতুন।


দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও বিদ্যালয়ের সভাপতি মাহমুদুল হাসান বলেন, সরকারি ফি এর অতিরিক্ত কোন অর্থ আদায় করতে পারবে না। অভিভাবক কমিটি বা পিটিএ কমিটির বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। তদন্ত করে প্রমানিত হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন এ কর্মকর্তা।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ওয়েবসাইট এর কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পুর্ণ বেআইনি।
Design & Development BY : ThemeNeed.com