বিজ্ঞাপন:
 
বগুড়ায় পরীক্ষার্থীদের স্বস্তির আশ্রয়— ‘মিশু’ স্বেচ্ছাসেবীদের হেল্প ডেস্ক

বগুড়ায় পরীক্ষার্থীদের স্বস্তির আশ্রয়— ‘মিশু’ স্বেচ্ছাসেবীদের হেল্প ডেস্ক

ছবি: প্রতিনিধি

রাশেদুল ইসলাম রাশেদ,স্টাফ রিপোর্টার: ‘পরীক্ষা’ —শব্দটি তরুণ প্রজন্মের কাছে স্বপ্নের সঙ্গে সামান্য উদ্বেগেরও প্রতীক। বিশেষ করে নতুন কেন্দ্রে শত শত পরীক্ষার্থীর ভিড়ে নিজের কক্ষ খুঁজে নেওয়া এবং সময়মতো জরুরি তথ্য জানা অনেকের জন্য মানসিক চাপের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ঠিক এমন সময়ে, সরকারি আজিজুল হক কলেজে ২য় বর্ষের পরীক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়েছে ‘মুগ্ধ আইডিয়াল স্টুডেন্ট হিউম্যানিটিস অর্গানাইজেশন’ (মিশু) এর একঝাঁক তরুণ স্বেচ্ছাসেবক।

কলেজ ক্যাম্পাসের কোণে একটি হেল্প ডেস্কে দাঁড়িয়ে থাকে মিশু’র স্বেচ্ছাসেবকরা। পরীক্ষা কেন্দ্রের এই তথ্যকেন্দ্রটি পরীক্ষার্থীদের জন্য এক টুকরো স্বস্তির আশ্রয়। তবে তাদের কাজ কেবল তথ্য দেওয়া পর্যন্ত সীমাবদ্ধ ছিল না। তারা অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে পরীক্ষার্থীদের নতুন ভবনের পথ, সিঁড়ি ও কক্ষ নম্বর খুঁজে দিতে সাহায্য করেছেন। এছাড়া তারা অ্যাডমিট কার্ড, রেজিস্ট্রেশন কার্ড, পরীক্ষার নিয়ম-কানুন এবং জরুরি তথ্যও বোঝান। বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ ও হাসিমুখে তারা শিক্ষার্থীদের মানসিক চাপও কমিয়ে দিচ্ছেন।

মৌমিতা কবির নামের এক পরীক্ষার্থী জানান, মিশু স্বেচ্ছাসেবকরা আমাকে কক্ষ খুঁজে দিতে সাহায্য করেছে, পরীক্ষার নিয়ম বুঝিয়ে দিয়েছে এবং বন্ধুত্বপূর্ণভাবে কথা বলার মাধ্যমে আমার চাপ কমিয়েছে। তাদের সহায়তা না থাকলে হয়তো এত সহজভাবে পরীক্ষা দিতে পারতাম না।”

জান্নাতুল ফেরদৌস সীমা নামের আরেক পরীক্ষার্থী জানান, “মিশু স্বেচ্ছাসেবকরা আমাদের পরীক্ষা কেন্দ্রে খুব সহায়তা করেছেন। তারা কক্ষ খুঁজতে সাহায্য করেছেন এবং সব জরুরি তথ্য সহজভাবে বুঝিয়েছেন। তাদের সহায়তা পেয়ে পরীক্ষার আগে আমি অনেকটা স্বস্তি অনুভব করেছি।”

মিশু’র এই উদ্যোগ প্রমাণ করে যে প্রকৃত শিক্ষা শুধুমাত্র পাঠ্যপুস্তকের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; মানবসেবা ও সহমর্মিতার মধ্যেও শিক্ষা নিহিত। তরুণ সমাজ আজও সমাজের প্রতি দায়বদ্ধ এবং মানবিক মূল্যবোধে বলীয়ান। পরীক্ষার্থীরাও সামান্য টেনশনে থাকলেও, মিশু’র স্বেচ্ছাসেবকরা নিজেদের মূল্যবান সময় ব্যয় করে তাদের পাশে দাঁড়াচ্ছেন। এই নিঃস্বার্থ প্রচেষ্টা কলেজের শিক্ষার্থীদের উপকৃত করছে এবং সমাজের অন্যান্য স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও তরুণদের জন্যও এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করছে।

মিশু’র “সামান্য প্রচেষ্টা” পরীক্ষার্থীদের মনোবল বাড়াচ্ছে এবং চাপমুক্ত পরিবেশে পরীক্ষার হলে প্রবেশের সুযোগ তৈরি করছে। শিক্ষার্থীদের জন্য এই ধরনের উদ্যোগ নিঃসন্দেহে অনুকরণীয়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে মিশু’র মতো স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রম বিস্তার পেলে, স্বেচ্ছাসেবার মাধ্যমে অর্জিত অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীকে দায়িত্বশীল ও মানবিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলবে।

মুগ্ধ আইডিয়াল স্টুডেন্ট হিউম্যানিটিস অর্গানাইজেশন (মিশু)-এর সভাপতি এম. আরিফ বলেন, “আমাদের সংগঠনের লক্ষ্য শুধু শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় সহায়তা করা নয়, বরং তাদের পাশে থেকে মানসিকভাবে স্বস্তি দেওয়া। অনেক সময় সামান্য একটি দিকনির্দেশনা বা হাসিমুখই পরীক্ষার্থীর আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিতে পারে। আমরা চাই, শিক্ষার্থীরা যেন চাপমুক্ত থেকে ভালোভাবে পরীক্ষা দিতে পারে—এই চিন্তা থেকেই আমাদের হেল্প ডেস্ক উদ্যোগ।”

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মুগ্ধ আইডিয়াল স্টুডেন্ট হিউম্যানিটিস অর্গানাইজেশন (মিশু)-এর সাধারণ সম্পাদক সালজার রহমান রেহান প্রতিদিনের বাংলাদেশ’কে বলেন, “আমরা চাই প্রতিটি পরীক্ষার্থী যেন পরীক্ষার হলে প্রবেশের আগে নিরাপদ ও নিশ্চিন্ত বোধ করে। তাই স্বেচ্ছাসেবীরা শুধুমাত্র দিকনির্দেশনা দিচ্ছে না, তারা পরীক্ষার্থীদের পাশে থেকে বন্ধুর মতো সহায়তা করছে। শিক্ষার্থীদের মুখে স্বস্তির হাসি দেখাই আমাদের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।”

মিশু স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সকল সদস্যকে এই মানবিক উদ্যোগের জন্য আন্তরিক সাধুবাদ জানিয়েছেন কলেজের ইতিহাস বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক শাহজাহান আলী। তিনি বলেন,  আশা করা যায়-  তাদের সেবামূলক যাত্রা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

প্রবা/আরইসআর


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ওয়েবসাইট এর কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পুর্ণ বেআইনি।
Design & Development BY : ThemeNeed.com