অনলাইন ডেস্ক::বগুড়ার রাজনীতিতে ফের তোলপাড় সৃষ্টি করেছে আরিফুজ্জামান শামীমকে ঘিরে বিতর্ক। দীর্ঘদিন যুবলীগের কুখ্যাত নেতা ও ক্যাডার হিসেবে পরিচিত এই শামীম হঠাৎ করেই জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর যুবশক্তির সংগঠক হয়ে উঠেছেন—সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে এমন দাবী উঠতেই রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোড়ন শুরু হয়েছে।

ভিডিও প্রকাশের পর থেকেই রাজনৈতিক মহল ও সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় শামীম ছিলেন যুবলীগ নেতা আদিল ও লিটন পোদ্দারের ঘনিষ্ঠ সহযোগী। আন্দোলনের সময় ছাত্রদের ওপর হামলা, বিএনপি কার্যালয় ভাঙচুরসহ নানা কর্মকাণ্ডে তার জড়িত থাকার কথাও শোনা যাচ্ছে।
৫ আগস্ট-পরবর্তী বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে তিনি এনসিপির রাজনীতিতে সক্রিয় হয়েছেন। ভিডিওতে আরও বলা হয়েছে, শামীমের উত্থানের পেছনে রয়েছেন ডা. সানী, ইজাজ আল ওয়াসী জীম ও সাকিব মাহাদীর প্রত্যক্ষ সহযোগিতা। এমনকি আওয়ামী লীগপন্থী বলয়ের সাথেও তিনি যোগাযোগ ও আর্থিক লেনদেন চালিয়ে যাচ্ছেন বলে দাবী উঠেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, শামীমের মতো বিতর্কিত ব্যক্তিকে যুবশক্তির নেতৃত্বে আনা এনসিপির ভাবমূর্তিকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। তাদের মতে, এটি মূলত বগুড়ায় যুবলীগের প্রভাব বিস্তারের নতুন কৌশল।

এনসিপি উত্তরাঞ্চলের যুগ্ম মুখ্য সংগঠক সাকিব মাহদির সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। তবে জেলা শাখার সদস্য সচিব ইজাজ আল ওয়াসী জীম বলেন— “শামীম ২০২০ সাল পর্যন্ত যুবলীগে ছিল। আমরা যাচাই-বাছাই করেই তাকে আমাদের সংগঠনে নিয়েছি। এর পর থেকে তার যুবলীগের সাথে কোনো সম্পৃক্ততা পাইনি। আমি ও শামীম দুজনেই বগুড়া জিলা স্কুলের প্রাক্তন শিক্ষার্থী, এ কারণে আমাকে টার্গেট করা হচ্ছে। গুজব ছড়ানো ছাড়া আর কিছু নয়।”
অন্যদিকে শ্রমিক উইংস কেন্দ্রীয় কমিটির সংগঠক ডা. সানী অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন— “শামীম ইজাজ আল ওয়াসী জীমের সাথে রাজনীতি করে। আমাকে উদ্দেশ্য করে একটি ফেসবুক পেজ ভিডিও বানায়, আমি সেখানে মন্তব্যে প্রতিবাদ করেছিলাম। এর জেরে ভিডিওতে আমার নাম জুড়ে দেয়া হয়েছে। যুবশক্তির সাথে আমার কোনো সম্পর্ক নেই।”
রাজনৈতিক মহল বলছে, এই ভিডিও এবং বিতর্ক কেবল ব্যক্তিগত প্রতিদ্বন্দ্বিতার বিষয় নয়; বরং বগুড়ার রাজনীতিতে ক্ষমতাসীন ও বিরোধী ঘরানার প্রভাব বিস্তারের নতুন এক অধ্যায় সূচনা করছে।
Leave a Reply