অনলাইন ডেস্ক::অনলাইন জুয়া খেলে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীর যুবক আল আমিন পেশায় পিকআপ চালক। পাশাপাশি দুটি টমটম ও দুটি পিকআপের মালিক। গত এক বছরে অনলাইনে জুয়া-নাইন অ্যাপসের মাধ্যমে জুয়া খেলে এখন পর্যন্ত ৮ লাখ টাকা হেরেছেন তিনি। শুধু তাই নয়, জুয়ার নেশায় তার একটি টমটম ও পিকআপ বিক্রিও করেছেন। এখন প্রায় নিঃস্ব হয়ে গেছেন।

এমন সর্বনাশা জুয়া আর খেলবেন না বলে দুধ দিয়ে গোসল করেছেন আল আমিন (৩০)। সোমবার (০১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার কটিয়াদি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বেশ কিছু মানুষের সামনে তিনি দুধ দিয়ে গোসল করেন। আল আমিন আচমিতা ইউনিয়নের অষ্টগড়িয়া এলাকার সুলতান উদ্দিনের ছেলে। গোসলের সেই মুহূর্তে ধারণ করা ৩ মিনিট ২৮ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়লে ভাইরাল হয়।

ভিডিওতে দেখা যায়, স্থানীয় কয়েকজন প্লাস্টিকের মগ ও বোতল দিয়ে আল আমিনের মাথায় দুধ ঢালছেন। উৎসুক জনতা তাঁকে ঘিরে দেখছেন। কেউ কেউ মুঠোফোনে সেই দৃশ্য ধারণ করছেন। দুধ ঢেলে গোসলের সময় আল আমিনকে বলতে শোনা যাচ্ছে, ‘আমি পিকআপ চালাই। জুয়া খেলে আমার জীবন শেষ। গত এক বছরে আমার ৮ লাখ টাকা গেছে। আমার ৪টি গাড়ির মধ্যে ২টি গাড়ি বিক্রি করেছি। আমি সবার কাছে দোয়া চাই। আমি যত দিন বেঁচে থাকব, ততদিন আর কোনোদিন জুয়া খেলব না। আমার এ দৃশ্য দেখে যদি কোনো একজন ব্যক্তি ভালো হয়ে যান, ভালো।’

স্থানীয়রা জানায়, আল আমিন পেশায় একজন পিকআপ চালক। আল আমিন দুটি টমটম ও দুটি পিকআপের মালিক। গত এক বছর ধরে অনলাইনে জুয়া-নাইন অ্যাপসের মাধ্যমে জুয়া খেলে এখন পর্যন্ত ৮ লাখ টাকা হেরেছেন। শুধু তাই নয়, জুয়ার নেশায় তার একটি টমটম ও পিকআপ বিক্রি করে দিয়েছেন। এখন প্রায় নিঃস্ব হয়ে গেছেন।

আল আমিনের চাচা এখলাস মিয়া জানান, আল আমিন আমার সাথে আগে মেশিনারিজের ব্যবসা করত। কর্মঠ থাকায় মেশিনের ইঞ্জিন চালিত টমটম ও পিকআপ ক্রয় করে। ভালোই চলছিল তার সংসার। গত এক বছরে অনলাইন জুয়ায় আসক্ত হয়ে দুটি গাড়ি বিক্রি করে দেয়। এখন অর্থনৈতিকভাবেও দুর্বল হয়ে গেছে। আমাদের কাছে এখন কথা দিয়েছে, আর কোনোদিন জুয়া খেলবে না। এ কারণে দুপুরে কটিয়াদী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় লিমন মিস্ত্রির গ্যারেজের সামনে ৬ কেজি দুধ দিয়ে গোসল করেছে। আমরাও দোয়া করি, সে আর জুয়া খেলায় যেন না যায়।
আল আমিন জানায়, স্থানীয়দের কাছ থেকে অনলাইন জুয়া খেলা শিখেছি। তাদের খেলা দেখে আমিও খেলেছি। আমি পিকআপ চালাই। জুয়া খেলে আমার জীবন শেষ। গত এক বছরে আমার ৮ লাখ টাকা গেছে। আমার ৪টি গাড়ির মধ্যে ২টি গাড়ি বিক্রি করেছি। আমি সবার কাছে দোয়া চাই। আমি যত দিন বেঁচে থাকব, ততদিন আর কোনোদিন জুয়া খেলব না।
Leave a Reply