বিজ্ঞাপন:
 
সংবাদ শিরোনাম:
আ.লীগ নেতার বিরুদ্ধে অসহায় পরিবারের জমি দখলের অভিযোগে, সংবাদ সম্মেলন ‎ বার কাউন্সিল ভাইভা পরীক্ষায় শিবরাম স্কুলের প্রধান শিক্ষক লতা উত্তীর্ণ বারবার ফেলের তালিকায় আমি, তবুও বার কাউন্সিল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ আইনজীবীদের অভিনন্দন কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এলোপাতাড়ি গুলিতে ‘কন্টেন্ট ক্রিয়েটর’ আহত পঞ্চগড়ে ভাইরাল পকেটমার কাণ্ডে প্রধান অভিযুক্ত গ্রেফতার, টাকা উদ্ধার ৫ জেলায় নতুন জেলা প্রশাসক (ডিসি) নিয়োগ দিয়েছে সরকার মির্জা আব্বাসকে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি চাঁদপুরে গ্যাস লিকেজের আগুন, পুড়ল পুলিশের গাড়ি ও অটোরিকশা ভাড়া বাসা থেকে জাবি ছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার ভারত থেকে এলো ১৬ টন চাল
নদীভাঙনের দুঃসহ যন্ত্রণায় দিশেহারা লালমনিরহাটবাসী

নদীভাঙনের দুঃসহ যন্ত্রণায় দিশেহারা লালমনিরহাটবাসী

লালমনিরহাট প্রতিনিধি: বন্যার ক্ষয়ক্ষতির দাগ এখনও শুকায়নি, তার আগেই লালমনিরহাটবাসী পড়েছেন আরও ভয়াবহ দুর্যোগের মুখে। তিস্তা আর ধরলার তীব্র স্রোতে প্রতিদিনই গ্রাস হয়ে যাচ্ছে মানুষের ঘরবাড়ি, ফসলি জমি আর জীবনের স্বপ্নগুলো। সকালবেলায় দাঁড়িয়ে থাকা বসতবাড়ি বিকেলের মধ্যেই মিলিয়ে যাচ্ছে নদীগর্ভে। চোখের সামনে ভিটেমাটি ভেঙে নদীতে তলিয়ে যেতে দেখে হাহাকার করে কাঁদছেন অসহায় মানুষ। কোথাও নেই আশ্রয়, কোথাও নেই নিরাপত্তা—শুধুই দিশেহারা টিকে থাকার সংগ্রাম।

লালমনিরহাট সদর উপজেলার খুনিয়াগাছ ইউনিয়নের হরিণচড়া, কুটিপাড়া, আদর্শ বাজার, চীনাতলি, রাজপুর ইউনিয়নের তাজপুর, আদিতমারীর মহিষখোচা ইউনিয়ন, কালীগঞ্জের ভোটমারি, হাতিবান্ধার সিন্ধুনায় এবং সদর উপজেলার মঘোলহাট ইউনিয়নের ধরলা নদীর বাম তীর ঘেঁষা এলাকাজুড়ে এখন ভয়াবহ ভাঙন চলছে।

সরেজমিনে খুনিয়াগাছ ইউনিয়নের হরিণচড়া গ্রামে গিয়ে দেখা গেছে, তিস্তার ডান তীরবর্তী এ গ্রামে ইতোমধ্যেই প্রায় ৫০টি পরিবারের বসতভিটা নদীতে বিলীন হয়েছে। ঝুঁকিতে রয়েছে আরও শতাধিক পরিবার। শুধু বসতবাড়িই নয়, ভাঙনের কবলে পড়ে প্রায় ৩ শতাধিক বিঘা জমির ধান, সবজি ও বিভিন্ন ফসলও নদীগর্ভে তলিয়ে গেছে। আতঙ্কে দিন-রাত নির্ঘুম সময় কাটাচ্ছেন এখানকার সাধারণ মানুষ।

ভাঙনের হুমকিতে রয়েছে খুনিয়াগাছ ইউনিয়নের ৪, ৫, ৬ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ড। বিশেষ করে আদর্শপাড়া, কুঠিপাড়া, মিলনবাজার ও প্রেমেরবাজার এলাকায় ভাঙনের গতি মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। সবচেয়ে বড় শঙ্কা দেখা দিয়েছে খুনিয়াগাছ-রাজপুর-রংপুর সড়ক নিয়ে—এ অঞ্চলের হাজারো মানুষের যাতায়াতের একমাত্র পাকা রাস্তা সেটিও এখন ভাঙনের হুমকিতে।

হরিণচড়া গ্রামের কৃষক আব্দুল হাকিম কণ্ঠ রুদ্ধ হয়ে বলেন, “তিস্তার ভাঙনে আমরা সর্বস্বান্ত হয়ে পড়েছি। নদীর স্রোত হঠাৎ দিক বদলে ডানপাড়ে ধেয়ে আসায় ভয়াবহ ভাঙন শুরু হয়েছে। আমাদের কৃষিজমি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ, কমিউনিটি ক্লিনিক, বাজার এমনকি একমাত্র পাকা রাস্তা—সবকিছুই এখন ঝুঁকির মুখে।”

প্রায় ১২ হাজার মানুষের বসবাস এই গ্রামে। অনেক পরিবারকে তাদের বসতভিটা তিন থেকে পাঁচবার পর্যন্ত সরাতে হয়েছে। কেউ হারিয়েছেন ফসলের জমি, কেউ হারিয়েছেন আশ্রয়। যাদের একসময় স্বচ্ছল জীবনযাপন ছিল, আজ তারা ঠাঁই নিয়েছেন উঁচু রাস্তার পাশে অথবা আত্মীয়ের বাড়িতে। নিঃস্ব হয়ে পড়া এসব পরিবার মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন।

স্থানীয় সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মালেক সরকার জানান, “আগে নিজেরা অর্থ সংগ্রহ করে বালুর বস্তা ফেলে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু তিস্তার প্রবল স্রোতে সেই বাঁধ টেকেনি। বর্তমানে প্রায় তিন কিলোমিটার এলাকায় ভাঙন চলছে। সরকারিভাবে টেকসই উদ্যোগ না নিলে এ অঞ্চলের মানুষ নিঃস্ব হয়ে যাবে।”

লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শূনিল কুমার রায় বলেন, জেলার তিস্তা নদীতে প্রায় ৪৮টি স্থানে ছোট-বড় ভাঙন হচ্ছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে জিও ব্যাগ ফেলার কাজ চলছে। তবে বরাদ্দের ঘাটতির কারণে সব জায়গায় একসাথে কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না। তিনি জানান, “যথাযথ বরাদ্দ পাওয়া গেলে জরুরি ভিত্তিতে আরও জিও ব্যাগ ফেলা হবে।”

অভিযোগ রয়েছে, বছরের পর বছর নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও টেকসই ও দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বর্ষা এলেই তিস্তা আর ধরলা তীরবর্তী মানুষ আতঙ্কে দিন কাটান। স্থানীয়দের আক্ষেপ, “প্রতিবার ভাঙন এলেই আশ্বাস পাওয়া যায়, কিন্তু টেকসই সমাধান পাওয়া যায় না।” তারা দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপের জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ওয়েবসাইট এর কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পুর্ণ বেআইনি।
Design & Development BY : ThemeNeed.com