ডেস্ক রিপোর্ট :: চিকিৎসকদের চামার আখ্যা দেওয়ায় সাংবাদিক মাসুদ কামালকে আইনি নোটিশ দেওয়া হয়েছে। আজ বুধবার (১০ জুন) চিকিৎসকদের সংগঠন ডক্টরস মুভমেন্ট ফর জাস্টিসের পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সৈয়দ আব্দুল মুহাইমিন আলী রাজী নাসিফ এই আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন। এতে সাংবাদিক মাসুদ কামালকে নোটিশ প্রাপ্তির তিন দিনের মধ্যে নিঃশর্তভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করতে বলা হয়েছে।

নোটিশে বলা হয়েছে, সম্প্রতি ‘চ্যানেল এস’ নামক একটি টেলিভিশন চ্যানেলে সরাসরি সম্প্রচারিত একটি টকশোতে আপনি অন্যান্য বক্তব্যের পাশাপাশি সুনির্দিষ্টভাবে কিছু মন্তব্য করেছেন, যা এরকম— ‘ডাক্তারদের মতো চামার দ্বিতীয় কোন শ্রেণি আছে কীনা পৃথিবীতে….আমাদের এই দেশে! আমাদের এই ডাক্তাররা হলো ওষুধ কোম্পানির ক্যানভাসার। অর্থাৎ, আমি সন্দেহ করি এই দেশে ডাক্তারদের মতো আর কোনো দুর্নীতিবাজ শ্রেণি আছে কীনা। আমাদের ডাক্তাররা হলো ওষুধ কোম্পানির ক্যানভাসার।’ এই বক্তব্য সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, বেপরোয়া এবং অত্যন্ত মানহানিকর, যার কোনো বাস্তব ভিত্তি বা প্রমাণ নেই।
এতে আরও বলা হয়, আপনার এই মন্তব্য বাংলাদেশের সমগ্র চিকিৎসক সমাজের সুনাম, মর্যাদা এবং পেশাগত অবস্থানকে ক্ষুণ্ন করেছে, যার ফলে তাদের দীর্ঘদিনের সুনাম এবং জনসাধারণের আস্থার মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে।

আইনি নোটিশে বলা হয়েছে, চিকিৎসা পেশা বিশ্বব্যাপী অন্যতম মহৎ পেশা হিসেবে স্বীকৃত, যার জন্য অসাধারণ স্তরের প্রতিশ্রুতি, ত্যাগ এবং অধ্যবসায়ের প্রয়োজন হয়। বাংলাদেশে একজন মানুষকে ডাক্তার হিসেবে যোগ্য করে তুলতে বছরের পর বছর কঠোর প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনা, অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক ভর্তি প্রক্রিয়া, ব্যাপক ক্লিনিকাল প্রশিক্ষণ এবং অবিচ্ছিন্ন পেশাগত উন্নয়নের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। চিকিৎসকরা নিয়মিত অত্যন্ত মানসিক চাপ, দীর্ঘ কর্মঘণ্টা এবং জীবন-মরণের দায়িত্বের মধ্যে কাজ করেন, যেখানে তারা প্রায়শই নিজেদের ব্যক্তিগত আরাম-আয়েশের চেয়ে রোগীর কল্যাণকে প্রাধান্য দিয়ে থাকেন।
এতে বলা হয়েছে, আপনার এই ঢালাও এবং অবমাননাকর মন্তব্য চিকিৎসকদের অপরিসীম ত্যাগ, নৈতিক দায়িত্ব এবং সামগ্রিকভাবে সমাজে তাদের অবদানকে সম্পূর্ণভাবে উপেক্ষা করেছে। সম্মানিত একটি পেশার বিরুদ্ধে এই ধরনের ঢালাও এবং সাধারণীকরণ করা অভিযোগ বাংলাদেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী মানহানির শামিল এবং এর জন্য দেওয়ানি ও ফৌজদারি— উভয় ধরনের আইনি ব্যবস্থার মুখোমুখি হতে হবে। একইসঙ্গে আপনার এই বক্তব্য চিকিৎসকদের প্রতি জনসাধারণের মনে অবিশ্বাস ও শত্রুতা তৈরি করতে উস্কে দিয়েছে, যা কেবল ব্যক্তিগতভাবে চিকিৎসকদের জন্যই ক্ষতিকর নয়, বরং সামগ্রিকভাবে স্বাস্থ্য ব্যবস্থার জন্যও অত্যন্ত ক্ষতিকর।

আইনি নোটিশে পত্রপ্রাপ্তির তিন দিনের মধ্যে বাংলাদেশের চিকিৎসকদের কাছে নিঃশর্তভাবে প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়ে একই বা সমমানের মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম থেকে সমপরিমাণ গুরুত্বের সাথে সম্প্রচার বা প্রকাশ করা, পূর্বে করা বক্তব্য অবিলম্বে পরিষ্কার ও দ্ব্যর্থহীন ভাষায় প্রত্যাহার করা এবং ভবিষ্যতে চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে এই ধরনের কোনো মিথ্যা, অবমাননাকর বা মানহানিকর মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
এতে বলা হয়, যদি আপনি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এসব নির্দেশনা মানতে ব্যর্থ হন, তবে আপনার বিরুদ্ধে বাংলাদেশের প্রচলিত আইনের অধীনে উপযুক্ত আইনি প্রক্রিয়া (দেওয়ানি ও ফৌজদারি উভয়) শুরু করা হবে। এর ফলে সৃষ্ট যাবতীয় খরচ এবং পরিণতির জন্য সম্পূর্ণভাবে আপনি নিজেই দায়ী থাকবেন এবং এর জন্য পুনরায় কোনো প্রকার যোগাযোগ করা হবে না।
Leave a Reply