ডেস্ক রিপোর্ট :: নেত্রকোণার মদন উপজেলায় এক মাদরাসা শিক্ষকের লালসার শিকার হয়ে ১২ বছরের এক শিশু শিক্ষার্থী ৫ মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েছে। এই নক্কারজনক ঘটনায় ভুক্তভোগী ছাত্রীর মা বাদী হয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগরের বিরুদ্ধে মদন থানায় মামলা দায়ের করেছেন।

অভিযুক্ত আমান উল্লাহ সাগর উপজেলার কাইটাইল ইউনিয়নের পাঁচহার বড়বাড়ি গ্রামের মৃত শামসুদ্দিন মিয়ার ছেলে। তিনি নিজে পাঁচহার গ্রামে ‘হযরত ফাতেমা তুজ্জহুরা মহিলা কওমি মাদরাসা’ প্রতিষ্ঠা করে সেটির পরিচালক ও শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ওই মাদরাসায় তার স্ত্রীও প্রধান শিক্ষিকা হিসেবে কর্মরত।
মামলার বিবরণ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা পরিবার ছেড়ে চলে যাওয়ায় তার মা জীবিকার তাগিদে সিলেটে গৃহপরিচারিকার কাজ করেন। শিশুটি তার নানির কাছে থেকে ওই মাদরাসায় পড়াশোনা করত। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগর ওই ছাত্রীকে ধর্ষণ করেন এবং ঘটনাটি জানাজানি করলে প্রাণনাশের হুমকি দেন।

গত ১৮ এপ্রিল অভিযুক্ত শিক্ষক মাদরাসা থেকে ছুটিতে গিয়ে আর ফিরে আসেননি। অন্যদিকে, শারীরিক অসুস্থতার কারণে ওই ছাত্রীও গত পাঁচ মাস ধরে মাদরাসায় যাওয়া বন্ধ করে দেয়। সম্প্রতি শিশুটির শারীরিক পরিবর্তন দেখে পরিবারের সন্দেহ হয়। মা সিলেট থেকে ফিরে এসে মেয়েকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে শিক্ষকের কুকীর্তির কথা প্রকাশ করে। এরপর তাকে স্থানীয় একটি ক্লিনিকে গাইনি বিশেষজ্ঞ ডা. সায়মা আক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে আল্ট্রাসনোগ্রাফির মাধ্যমে জানা যায়, শিশুটি ৫ মাসের অন্তঃসত্ত্বা।
চিকিৎসক ডা. সায়মা আক্তার অত্যন্ত আক্ষেপের সাথে জানান, শিশুটি প্রচণ্ড রক্তশূন্যতায় ভুগছে। তার বয়স এতটাই কম যে, প্রথম মাসিক হওয়ার আগেই সে গর্ভবতী হয়ে পড়েছে। একজন শিশুর যেখানে শিশু বিশেষজ্ঞের কাছে যাওয়ার কথা, সেখানে তাকে গাইনোকোলজিস্টের কাছে আসতে হয়েছে এক ভয়াবহ অভিজ্ঞতা নিয়ে। এই ঘটনায় শিশুটির জীবন ও স্বাস্থ্য চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

এ বিষয়ে মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম জানান, ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। যেহেতু তিনি নতুন যোগদান করেছেন, তাই বিষয়টি খতিয়ে দেখে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে আশ্বস্ত করেন। বর্তমানে পলাতক শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগরকে গ্রেপ্তারে চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ।
Leave a Reply