বিজ্ঞাপন:
সংবাদ শিরোনাম:
প্রথম নির্বাচনেই অভিনেতা বিজয়ের দলের বড় চমক ক্যারাম খেলা নিয়ে উত্তেজনা, জকসুর ক্রীড়া সম্পাদককে নারী শিক্ষার্থীর থাপ্পড় রাস্তায় পড়ে ছিল এসএসসি পরীক্ষার তিন বান্ডিল খাতা সোনামনিরা কেমন আছো, নকল আর চলবে না: শিক্ষামন্ত্রী পবা দলিল লেখক কল্যাণ সমিতির আহবায়ক কমিটি গঠন : আহবায়ক মোজাহার, সদস্য সচিব রবিউল কালবৈশাখী ও বজ্রসহ ভারী বৃষ্টির কবলে পড়তে যাচ্ছে সারা দেশ ‎লালমনিরহাটে মা’দক মা’মলায় ইউপি চেয়ারম্যানের কারাদ’ণ্ড ‎ সুন্দরগঞ্জে কলা খাওয়ার লোভ দেখিয়ে শিশুকন্যাকে ধর্ষণচেষ্টা, অভিযুক্ত গ্রেফতার থৈ থৈ পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে কৃষকের স্বপ্ন পঞ্চগড়ে ট্রাক চাপায় আইনজীবীর মৃত্যু
ক্যারাম খেলা নিয়ে উত্তেজনা, জকসুর ক্রীড়া সম্পাদককে নারী শিক্ষার্থীর থাপ্পড়

ক্যারাম খেলা নিয়ে উত্তেজনা, জকসুর ক্রীড়া সম্পাদককে নারী শিক্ষার্থীর থাপ্পড়

ডেস্ক রিপোর্ট :: জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) অষ্টম ইনডোর গেমস টুর্নামেন্টে ক্যারাম খেলাকে কেন্দ্র করে জকসুর ক্রীড়া সম্পাদক জর্জিস আনোয়ার নাঈম ও শিক্ষার্থী সাদিয়া সুলতানা নেলীর মধ্যে এক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। নিয়ম ভঙ্গ ও পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলে সবার সামনে জকসুর ক্রীড়া সম্পাদককে থাপ্পড় দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে নেলীর বিরুদ্ধে।

বুধবার (২৯ এপ্রিল) বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনডোর গেমসের ক্যারাম ফাইনাল ম্যাচ চলাকালে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। সাদিয়া সুলতানা নেলী নওয়াব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানী হল সংসদ নির্বাচনে ছাত্রদল প্যানেলের সাবেক জিএস পদপ্রার্থী ছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ফাইনাল ম্যাচ চলাকালে খেলার নিয়ম ভাঙার অভিযোগ উঠে। এ নিয়ে অংশগ্রহণকারী নেলী ও ক্রীড়া সম্পাদক জর্জিস আনোয়ার নাঈমের মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। এক পর্যায়ে সাদিয়া সুলতানা নেলী তাকে থাপ্পড় দেন।

এ বিষয়ে জকসুর ক্রীড়া সম্পাদক জর্জিস আনোয়ার নাঈম বলেন, নিয়ম অনুযায়ী একটি দলের দুই খেলোয়াড় একই বিভাগের হওয়ার কথা থাকলেও ফাইনালে উঠা একটি দলের খেলোয়াড় ভিন্ন বিভাগের ছিল। বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে গেলে উত্তেজনা তৈরি হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে তিনি প্রস্তাব দেন আসন্ন আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় টুর্নামেন্টের জন্য খেলোয়াড় বাছাইকে প্রাধান্য দিয়ে দুই দলকেই যৌথ চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করা হোক। তবে নেলী এতে রাজি হননি; তার দাবি ছিল, কোনো ম্যাচ ছাড়াই তাদের দলকে একক চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করতে হবে।


তিনি আরও জানান, বিষয়টি ক্রীড়া উপকমিটির উপর ছেড়ে দেওয়ার কথা বললে নেলী তাকে বিভিন্নভাবে চাপ এবং হুমকি দেন। পরে পুরস্কার বিতরণ শেষে বিজনেস অনুষদের ডিন ও জকসুর ভিপির সঙ্গে অডিটোরিয়াম থেকে বের হওয়ার সময় নেলী আবার কথা বলতে এসে এক পর্যায়ে সবার সামনে তাকে থাপ্পড় মারেন এবং অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করেন।

এ ঘটনায় তিনি প্রক্টর ও উপাচার্যকে অবহিত করেছেন এবং প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদন জমা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানান। ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানান তিনি।


এ ঘটনার পর সাদিয়া সুলতানা নেলী তার ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি পোস্ট দেন।

সেখানে তিনি লিখেন, মিস্টার জর্জিস আনোয়ার নাইম (জকসুর ক্রীড়া সম্পাদক) এর পর থেকে খেলায় স্বজনপ্রীতি করলে এর চেয়ে বেশি থাপ্পড় খাবেন। এখন তো শুধু একটা দিয়েছি। আপনার স্বজনপ্রীতির সব প্রমাণ কিন্তু আছে আমার কাছে। কিন্তু ইতোমধ্যেই আপনার ছাত্রীসংস্থার মেয়েরা লিখছে আমি নাকি স্যারের পাওয়ার দেখিয়ে আপনার গায়ে হাত তুলছি। যেখানে অন্যায় আপনার, অন্যায়ভাবে রুলসের বাইরে গিয়ে ২টা টিমকে একসঙ্গে চ্যাম্পিয়ন করতে চাইছেন সেখানে কারোর পাওয়ার লাগে না। ক্রীড়া সম্পাদক হয়ে ঠিকঠাক দায়িত্ব পালন করেন। অবৈধভাবে কাউকে চ্যাম্পিয়ন করার চেষ্টাও করবেন না।


থাপ্পড় দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে সাদিয়া সুলতানা নেলী বলেন, ডাবল গেমসে দুই খেলোয়াড় একই বিভাগের হওয়ার নিয়ম থাকলেও প্রতিপক্ষ দল তা মানেনি। বিষয়টি ক্রীড়া কমিটির দায়িত্বপ্রাপ্তদের জানানো হলে তারা যাচাই করে প্রতিপক্ষ দলকে বাতিল করে তাদের দলকে বিজয়ী ঘোষণা করেন। কিন্তু ক্রীড়া সম্পাদক সেই সিদ্ধান্ত না মেনে অভিযুক্তদের পক্ষে অবস্থান নেন এবং তাদের বিরুদ্ধে মন্তব্য করেন।

তিনি অভিযোগ করেন, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাতে চাইলেও জর্জিস তা গুরুত্ব দেননি এবং উল্টো হুমকিসূচক বক্তব্য দেন। এতে বাগবিতণ্ডার এক পর্যায়ে তিনি তাকে থাপ্পড় দেন।

পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলে নেলী বলেন, একজন নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে জর্জিস ব্যক্তিগতভাবে কোনো পক্ষ নিতে পারেন না। এছাড়াও তিনি বলেন, অন্যায়কে প্রশ্রয় দেওয়া হয়নি, প্রয়োজনে প্রশাসনের শাস্তিও মেনে নেব।

এ বিষয়ে ক্রীড়া কমিটির সদস্য সচিব গৌতম কুমার দাস জানান, থাপ্পড় দেওয়ার সময় তিনি ঘটনাস্থলে ছিলেন না। তবে পরবর্তীতে তিনি বিষয়টি জানতে পারেন।

তিনি বলেন, নিয়ম অনুযায়ী একই বিভাগের খেলোয়াড় নিয়ে দল গঠনের কথা থাকলেও একটি দল তা লঙ্ঘন করেছিল। বিষয়টি নিয়ে তর্ক হলেও পরে খেলা শেষ হয় এবং পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

তিনি আরও জানান, পুরস্কার বিতরণের পর অডিটোরিয়াম এলাকা থেকে বের হওয়ার সময় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থলে ক্রীড়া কমিটির আহ্বায়ক উপস্থিত ছিলেন। পরবর্তীতে তারা উপাচার্যের কাছে বিষয়টি অবহিত করেন এবং একটি তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ওয়েবসাইট এর কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পুর্ণ বেআইনি।
Design & Development BY : ThemeNeed.com