বিজ্ঞাপন:
সংবাদ শিরোনাম:
পঞ্চগড়ে মাঠে কৃষিকাজের সময় বজ্রাঘাতে প্রাণ গেল যুবকের গাইবান্ধায় কঙ্কাল হয়ে দাঁড়িয়ে ৩০ কোটি টাকার সেতু, নেই সংযোগ সড়ক আমের বিপুল সমারোহেও বিক্রেতার মুখে হাসি নেই হাদি হত্যাকাণ্ড নিয়ে মমতার বক্তব্যে নতুন আলোচনা শিশু রামিসা হত্যা, আজ যুক্তিতর্ক শেষে জানা যাবে রায়ের দিন প্রেমের টানে আর্জেন্টিনা সমর্থকের ফ্ল্যাটে ঢুকে ধরা খেলেন ব্রাজিল সমর্থক ছিনতাইয়ের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই উদ্ধার প্রাইভেটকার, গ্রেপ্তার ৩ মানুষের পাশে থেকে জনপ্রিয়তার শীর্ষে আনিছুর রহমান জনদুর্ভোগ কমাতে শামসুদ্দিন স্পিনিং-কাশিমপুর সড়ক নির্মাণের সূচনা আসছে শক্তিশালী এল নিনো, খাদ্যবাজারে বড় ধাক্কার শঙ্কা!
হাদি হত্যাকাণ্ড নিয়ে মমতার বক্তব্যে নতুন আলোচনা

হাদি হত্যাকাণ্ড নিয়ে মমতার বক্তব্যে নতুন আলোচনা

স্টাফ রিপোর্টার: ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ড নিয়ে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা ব্যানার্জির সাম্প্রতিক বক্তব্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তার বক্তব্যকে ঘিরে বাংলাদেশ ও ভারতের বিভিন্ন মহলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

মঙ্গলবার কলকাতার ধর্মতলায় এক জনসভায় মমতা ব্যানার্জি দাবি করেন, বাংলাদেশের একটি বহুল আলোচিত হত্যা মামলার আসামি ভারতের মেঘালয় হয়ে পশ্চিমবঙ্গে প্রবেশের পর গ্রেফতার হয়েছিল। তিনি অভিযোগ করেন, বিষয়টি নিয়ে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে তাকে প্রকাশ্যে মন্তব্য না করার অনুরোধ জানানো হয়েছিল। একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিতপূর্ণভাবে বলেন, হত্যাকাণ্ডের পেছনে কারা জড়িত ছিলেন সে বিষয়ে তিনি অবগত।

মমতার এই বক্তব্যের পর হাদি হত্যাকাণ্ড নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। জনমনে প্রশ্ন উঠেছে, হত্যার পেছনে প্রকৃত পরিকল্পনাকারী বা মাস্টারমাইন্ড কারা এবং এ ঘটনায় কোনো আন্তর্জাতিক বা রাজনৈতিক যোগসূত্র রয়েছে কি না।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম জানিয়েছেন, ভারতে গ্রেফতার থাকা আসামিদের দ্রুত দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে। এ বিষয়ে ভারত সরকারের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। মমতা ব্যানার্জির বক্তব্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে প্রয়োজনীয় রাষ্ট্রীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।

বাংলাদেশ পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) জানিয়েছে, হাদি হত্যা মামলার তদন্ত প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। সিআইডির ভারপ্রাপ্ত প্রধান আলি আকবর খান বলেন, মামলাটি রাষ্ট্রীয়ভাবে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে এবং বিদেশে অবস্থানরত আসামিদের দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তিনি আরও জানান, তদন্তের প্রয়োজনে যেকোনো ব্যক্তির বক্তব্য যাচাই করা হতে পারে।

অন্যদিকে ইনকিলাব মঞ্চের নেতারা দাবি করেছেন, মমতা ব্যানার্জির বক্তব্য হত্যাকাণ্ডের তদন্তে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তাদের মতে, বক্তব্যটি ঘটনাটির আন্তর্জাতিক ও রাজনৈতিক দিকগুলো নতুন করে পর্যালোচনার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে।

প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর পল্টন এলাকায় জুমার নামাজ শেষে ফেরার পথে মোটরসাইকেল আরোহী দুর্বৃত্তদের গুলিতে আহত হন শরিফ ওসমান বিন হাদি। পরে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তার মৃত্যু হয়। তিনি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় রামপুরা এলাকার অন্যতম সমন্বয়ক এবং পরবর্তী সময়ে ভারতীয় আধিপত্যবিরোধী আন্দোলনের পরিচিত মুখ হিসেবে আলোচনায় ছিলেন। একই সঙ্গে তিনি ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন।

তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, এটি ছিল একটি সুপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। তবে তদন্তের স্বার্থে এবং বিষয়টির আন্তর্জাতিক ও রাজনৈতিক সংবেদনশীলতার কারণে তারা এখনই বিস্তারিত মন্তব্য করতে রাজি নন।

ভারতের জাতীয় তদন্ত সংস্থা (এনআইএ) ইতোমধ্যে ভারতে গ্রেফতার মূল শুটার ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগীদের জিজ্ঞাসাবাদ করছে বলে জানা গেছে। বাংলাদেশে এ মামলায় গ্রেফতার হওয়া কয়েকজন আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন।

সিআইডি সূত্রে জানা গেছে, তদন্তে অর্থায়ন, অস্ত্র সরবরাহ এবং পরিকল্পনাকারীদের সম্ভাব্য ভূমিকা নিয়ে বিভিন্ন তথ্য উঠে এসেছে। তবে তদন্ত এখনও চলমান থাকায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বা মন্তব্য থেকে বিরত রয়েছে।

মমতা ব্যানার্জির বক্তব্যের পর হাদি হত্যাকাণ্ডের তদন্ত এবং এর পেছনের প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটনের দাবি নতুন করে জোরালো হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে সব প্রশ্নের উত্তর জনসমক্ষে তুলে ধরা প্রয়োজন।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ওয়েবসাইট এর কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পুর্ণ বেআইনি।
Design & Development BY : ThemeNeed.com