বিজ্ঞাপন:
 
সংবাদ শিরোনাম:
পঞ্চগড়ে বাসের ধাক্কায় সড়কে প্রাণ গেল মা-মেয়ের, আহত ২ জলঢাকায় ট্রাক চাপায় ৫ বছরের শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু লালমনিরহাটের পাটগ্রামে মেয়েকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে বাবা গ্রেপ্তার বন্দুক ঠেকিয়ে বরের সামনেই নববধূকে অপহরণ প্রাক্তনের লালমনিরহাট বিমানবন্দর, তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে সরকার কাজ শুরু করবে : মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু হাজারের বেশি ‘রাজনৈতিক হয়রানিমূলক’ মামলা প্রত্যাহারের অনুমোদন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিএনপি নেতার মামলায় বৈষম্যবিরোধী নেতা জেল হাজতে রংপুরে সিনিয়র সাংবাদিক মহিউদ্দিন মখদুমীর ওপর সন্ত্রাসী হামলা পঞ্চগড়ে -এ স্বামীর গোপনাঙ্গ কেটে নেওয়ার অভিযোগ, স্ত্রী আটক জানুয়ারি মাসে ৫৫২ সড়ক দুর্ঘটনায় ৫৪৬ জন নিহত
হাড় না ভাঙা পর্যন্ত স্ত্রীকে মারতে পারবে স্বামী, তৈরি হল নতুন আইন

হাড় না ভাঙা পর্যন্ত স্ত্রীকে মারতে পারবে স্বামী, তৈরি হল নতুন আইন

অনলাইন ডেস্ক: বউকে পেটানো যাবে যত খুশি, শুধু হাড় না ভাঙলেই হলো। তালিবানি আইনে গোটা বিশ্বের চক্ষু চড়কগাছ। আফগানিস্তানে এখন বিবাহিত পুরুষরা চাইলেই নিজের স্ত্রীকে মারধর করতে পারবেন। কেউ কিছু বলতে আসবে না।

আফগানিস্তানে চালু হয়েছে দাসপ্রথা। চলতি বছরের জানুয়ারিতে রীতিমতো ঢাকঢোল পিটিয়ে ‘ক্রিমিনাল প্রসিডিওর কোড ফর কোর্টস’ চালু করেছে তালিবানরা (Taliban)। বুধবার জানা গেল, এতে গার্হস্থ্য হিংসাকেও (Domestic Violence) আইনি স্বীকৃতি দিয়েছে তারা। সোজা কথায়, আফগানিস্তানে বিবাহিত পুরুষরা এখন চাইলেই বউ পেটাতে (Afghan Man Physically Punish Their Wives) পারবেন। কেউ কিছু বলতে আসবে না। তালিবানি ফৌজদারি আইন ছাপার অক্ষরে প্রকাশ করেছে ‘রাওয়াদারি’ নামে একটি মানবাধিকার সংগঠন। সেখানেই উঠে এসেছে এই তথ্য।

২০০৯ সালে ‘মহিলাদের বিরুদ্ধে সহিংসতা নির্মূল আইন’ চালু হয়েছিল আফগানিস্তানে। গার্হস্থ্য হিংসা বন্ধে এই পদক্ষেপ করেছিলেন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি হামিদ কারজ়াই (Hamid Karzai)। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে এই আইন তুলে দেয় তালিবান সরকার। বদলে নিয়ে আসে নতুন ফৌজদারি আইন। সেখানেই এই বিধি চালু করা হয়েছে।

‘ক্রিমিনাল প্রসিডিওর কোড ফর কোর্টস’-এ স্পষ্ট ভাষায় বলা হয়েছে, স্ত্রীকে শাসন করার অধিকার রয়েছে আফগানিস্তানের পুরুষদের। মারধরও করতে পারেন তাঁরা। এতে কোনও আইন লঙ্ঘন হবে না। শুধু মারের চোটে যদি হাড়গোড় ভেঙে যায় বা রক্তপাত (Broken Bones or Open Wounds) হয়, তখনই তা অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এর জন্য ১৫ দিনের জেলের সাজা দেওয়া হয়েছে। তবে স্ত্রীকে আদালতে গিয়ে নির্যাতনের প্রমাণ দিতে হবে।

মজার বিষয় হলো, স্বামী যে তাঁকে মারধর করেছেন, সেটা স্বামীর সঙ্গেই আদালতে গিয়ে প্রমাণ করতে হবে স্ত্রীকে। কারণ নতুন আইনে আফগান মহিলাদের একা বাইরে বেরনোর অনুমতি দেওয়া হয়নি। অবশ্য বাড়ির অন্য কোনও পুরুষ সদস্যের সঙ্গেও তিনি আদালতে যেতে পারেন বলে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি, কোনও বিবাহিত মহিলা যদি স্বামীর অনুমতি ছাড়া বাপের বাড়ি বা আত্মীয়ের কাছে যান, তা হলে তিন মাসের কারাদণ্ডের বিধানও দেওয়া হয়েছে নতুন আইনে।

এমন ‘সর্বনাশা’ আইন নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলি। তাঁদের দাবি, মহিলাদের উপরে গার্হস্থ্য হিংসাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছে তালিবানরা। রাষ্ট্রপুঞ্জের কাছে অবিলম্বে এই আইন বন্ধের আর্জি জানিয়েছে মানবাধিকার সংগঠন ‘রাওয়াদারি’। উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপুঞ্জের বিশেষ প্রতিবেদক রিম আল সালেমও। তাঁর কথায়, ‘তালিবানরা বুঝতে পেরেছে, তাদের থামানোর কেউ নেই। তাই যা খুশি করছে।’


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ওয়েবসাইট এর কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পুর্ণ বেআইনি।
Design & Development BY : ThemeNeed.com