লালমনিরহাট প্রতিনিধি।। লালমনিরহাটে আল-নাহিয়ান ট্রাস্টের সাবেক উপ-তত্ত্বাবধায়ক মোঃ আব্দুল হাকিম সহ আরো ১০/১৫ জন কর্মকর্তা কর্মচারীর বিরুদ্ধে কোন প্রকার নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই চাকরিতে নিয়োগ দেয়ার অভিযোগ উঠেছে।
অনুসন্ধান ও অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, আল-নাহিয়ান শিশু পরিবার লালমনিরহাটের সাবেক উপ-তত্ত্বাবধায়ক মোঃআব্দুল হাকিম বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের আমলে বগুড়া আজিজুল হক কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় আওয়ামী লীগের ক্যাডার ছিলেন। সেই ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে ২০১৮ সালে তৎকালীন আওয়ামী সরকারের সাবেক সমাজকল্যাণ মন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদের নির্দেশে আল নাহিয়ান লালমনিরহাট প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৮০০০/- টাকা বেতনে খন্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে যোগদান করে। আবারো সমাজ কল্যাণ মন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদের নির্দেশে গত ২০২০ সালের ৭ জুন কোন প্রকার নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই ছাত্রলীগ ক্যাডার আঃ হাকিম উপ-তত্ত্বাবধায়ক পদে নিয়োগপ্রাপ্ত হন। এর পরেই মোঃ আব্দুল হাকিম তড়িঘড়ি করে সম্প্রতি সময়ে তদবিরের মাধ্যমে ঢাকা মিরপুর শিশু পরিবারে বদলি নেন। ঢাকায় বদলি নেওয়ার পরপরই ২০২৬ সালের ১৪ মে তিনি তার পরিবারের ৬ সদস্যের পরিচয় গোপন রেখে বিভিন্ন ঠিকানা ব্যবহার করে। প্রথমে তার স্ত্রী সুমি বেগমকে আল নাহিয়ান উচ্চ বিদ্যালয়, মিরপুরে সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগ প্রদান করেন। পরে মিরপুর শিশু পরিবারের (অবসরপ্রাপ্ত) নিরাপত্তা প্রহরী আব্দুর রশিদ ও (অবসরপ্রাপ্ত) নিম্নমান সহকারী অমল কৃষ্ণ পাল ও নির্বাহী পরিচালকসহ যোগসাজশে সিন্ডিকেট তৈরি করে আরো প্রায় ২৫ জন কর্মচারী যথাক্রমে ট্রাস্ট বনানী, মিরপুর ও লালমনিরহাট শিশু পরিবারে প্রতি পদের জন্য মোটা অংকের উৎকোচের বিনিময়ে তাদেরকে চাকরি প্রদান করা হয়েছে বলে অভিযোগ সূত্রে জানা যায়।
উল্লেখ্য, নিয়োগকৃত কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নাম ও পদবি হলো- (১) ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের ক্যাডার মোঃ আব্দুল হাকিম, (২) হাকিমের স্ত্রী সুমি বেগম- সহকারী শিক্ষক, মিরপুর। (৩) হাকিমের বড় ভাবি মঞ্জিলা খাতুন- শিশু মাতা, লালমনিরহাট। (৪) হাকিমের মামাতো বোন রাশেদা বেগম- সহকারী শিক্ষক, লালমনিরহাট। (৫) হাকিমের খালাতো বোন ছামিনা বেগম- সহকারি শিক্ষক, লালমনিরহাট। (৬) কুলসুম বেগম- শিশু মাতা, লালমনিরহাট। (৭) ওবায়দুল হক- দপ্তরী আল নাহিয়ান প্রাথমিক বিদ্যালয়, লালমনিরহাট। (৮) ট্রাস্টের পিয়ন মোঃ মোসলিম উদ্দিনের শ্যালক শফিকুল ইসলাম- সহকারী শিক্ষক, (৯) কুদ্দুসুর রহমান- সহকারী শিক্ষক, লালমনিরহাট। (১০) ট্রাস্ট কার্যালয়ের মিরপুর শিশু পরিবারের কর্মচারী ফিরোজ মোল্লার ছেলে। (১১) শরিফ মিয়া- সহকারী শিক্ষক, মিরপুর ঢাকা। (১২) রুবেল মিয়া- সহকারী শিক্ষক, মিরপুর ঢাকা,( ১৩) লাবনী আক্তার শিশু মাতা (১৪) মোঃ আশরাফুল ইসলাম বিদ্যুৎতিক মিস্ত্রি সহ আরো অজ্ঞাত ১০/১৫ জনকে নিয়োগ প্রদান করেন। কিন্তু সম্পন্ন সিন্ডিকেটের মাধ্যমে যার কোন বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়নি। এতে বঞ্চিত হয়েছে। যোগ্যতা সম্পূর্ণ অনেক মেধাবী বেকার যুবক- যুবতী।
অভিযোগে আরো জানা যায়, মিরপুর শিশু পরিবারের নিবাসী ছাত্রীর সংখ্যা ৫০ থেকে ৬০ জন। লালমনিরহাট শিশু পরিবারে নিবাসী সংখ্যা মোট ৬৫ জন। নিবাসী হাউজের সংখ্যা ৪টি করে, তার মধ্যে লালমনিরহাট আল নাহিয়ান প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৩৫ জন। ৩৫ জন শিক্ষার্থীকে পড়াতে নতুন করে আরো ৪ জন শিক্ষক নিয়োগ প্রদান করেছেন তিনি।
অভিযোগকারী, সাংবাদিক মোঃ রাসেল ইসলাম বলেন, একটি নির্বাচিত সরকারের আমলে কোন প্রকার নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ও পরীক্ষা ছাড়াই কিভাবে সিন্ডিকেট কারিগন ২৫-৩০ জন নতুন কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ করে তা জানার বিষয় এখন সর্বমহলে। বিষয়টি সরেজমিনে তদন্ত করে এতিম নিবাসীদের স্বার্থ বিবেচনা করে সিন্ডিকেট কারীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ জানান তিনি।
সাবেক উপ- তত্ত্বাবধায়ক মোঃ আব্দুল হাকিমের বিরুদ্ধে অসংখ্য বিভিন্ন অনিয়ম ও দূনীর্তির অভিযোগ তদন্তাধীন রয়েছে।
এ বিষয়ে আল নাহিয়ান শিশু পরিবারের উপ-তত্ত্বাবধায়ক মোঃ আব্দুল হাকিমের সাথে একাধিকবার মুঠো ফোনে যোগাযোগ করে তাকে পাওয়া যায়নি।
Leave a Reply