গাইবান্ধা প্রতিনিধি : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগের রাতে গাইবান্ধা-৩ আসনে ‘সমর্থন’ নিয়ে ছড়ানো গুজব ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন ঘোড়া প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী এস এম খাদেমুল ইসলাম খুদি।

নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার ছয় দিন পর বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে নিজের ফেসবুক আইডিতে একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করে অভিযোগগুলোর প্রতিবাদ জানান এবং সুষ্ঠু তদন্তের দাবি তোলেন।
ভিডিও বার্তায় খুদি দাবি করেন, ১২ ফেব্রুয়ারির ভোটের আগের রাতে পরিকল্পিতভাবে প্রচার করা হয়—তিনি ও আরও কয়েকজন প্রার্থী নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন এবং ঘোড়া, ঢেঁকি ও ট্রাক প্রতীকের প্রার্থীরা ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থীদের সমর্থন দিয়েছেন। রাতারাতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন এলাকায় এ তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া হয়।

তিনি বলেন, বিষয়টি নজরে আসার পরপরই ভিডিও বার্তায় তিনি স্পষ্ট করেন—কাউকে সমর্থন দেননি, নির্বাচন থেকেও সরে দাঁড়াননি। তবে গভীর রাতে ছড়ানো এ গুজব ভোটের পরিবেশ ও ফলাফলে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
খুদি বলেন, ‘রাজনীতিতে গুজব নতুন নয়, কিন্তু একটি জাতীয় নির্বাচনের মতো গুরুত্বপূর্ণ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় এমন বিভ্রান্তিমূলক প্রচারণা শুধু প্রার্থীদের ক্ষতিগ্রস্ত করে না, ভোটারদের আস্থা ও বিশ্বাসও নষ্ট করে। এতে সমান প্রতিযোগিতার পরিবেশ সংকুচিত হয় এবং গণতন্ত্র প্রশ্নবিদ্ধ হয়।’
তিনি ও অন্যান্য ক্ষতিগ্রস্ত প্রার্থীরা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, দায়ীদের জবাবদিহি এবং ভবিষ্যতে এমন অপপ্রচার রোধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান।

অভিযোগ রয়েছে, ভোটের আগের রাতে রাত ১১টার পর থেকে ধানের শীষ প্রতীকের কিছু চিহ্নিত নেতাকর্মী ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে দাবি করেন, ঘোড়া, ঢেঁকি ও ট্রাক প্রতীকের প্রার্থীরা নির্বাচন থেকে সরে গিয়ে তাদের প্রার্থীকে সমর্থন দিয়েছেন। কিছু সময় পর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের নেতাকর্মীরাও অনুরূপ পোস্ট দিয়ে সমর্থনের দাবি প্রচার করেন। ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমজুড়ে রাতভর আলোচনা-সমালোচনার ঝড় ওঠে।
উল্লেখ্য, সাদুল্লাপুর ও পলাশবাড়ী উপজেলা নিয়ে গঠিত গাইবান্ধা-৩ আসনে ১০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। চূড়ান্ত ফলাফলে ১১ দলীয় জোট সমর্থিত জামায়াত প্রার্থী আবুল কাওছার মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম লেবু দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ১ লাখ ৬২ হাজার ৪৫৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী ডা. সাদিক পান ১ লাখ ৩৯ হাজার ৮৬৪ ভোট। ২২ হাজার ৫৯৩ ভোটের ব্যবধানে জয় নিশ্চিত হয়।
তৃতীয় স্থানে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী এটিএম আওলাদ হোসাইন পলাশ (হাতপাখা) পান ২ হাজার ৮৩৫ ভোট। চতুর্থ হন এস এম খাদেমুল ইসলাম খুদি—২ হাজার ৪৫ ভোট। ট্রাক প্রতীকের সুরুজ্জামান সুরুজ মিয়া পান ১ হাজার ৭৯২ ভোট, ঢেঁকি প্রতীকে আজিজার রহমান ১ হাজার ১৪২ এবং লাঙ্গল প্রতীকে মইনুর রাব্বি পান ১ হাজার ৬০৮ ভোট।

নির্বাচন অফিসের তথ্যানুযায়ী, মোট বৈধ ভোট ৩ লাখ ১২ হাজার ৫৯৯, বাতিল ৭ হাজার ৪৫০। এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ৬ হাজার ১৮৫।
Leave a Reply