বিজ্ঞাপন:
সংবাদ শিরোনাম:
আদর্শ ইসলামিক ক্যাডেট স্কুলের অভিভাবক সমাবেশ, ফলাফল প্রকাশ ও পুরস্কার বিতরণী ৯ ঘণ্টার ব্যবধানে স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যু, একই শ্মশানে পাশাপাশি চিতা বকশীগঞ্জে শ্বশুরবাড়িতে ডেকে নিয়ে যুবককে পিটিয়ে জখমের অভিযোগ! পঞ্চগড় পৌরসভায় ২৭টি ডাস্টবিন বিতরণ তথ্য অধিকার আইনে আবেদন করেও তথ্য না পাওয়ার অভিযোগ, পঞ্চগড়ে ক্ষুব্ধ সংবাদকর্মীরা পঞ্চগড়ে সুইসগেট ভাঙার এক বছরেও হয়নি সেতু, দুর্ভোগে হাজার হাজার মানুষ নজরুল বর্ষের সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় তৃতীয় স্থান শিবরাম স্কুলের নুহা বকশীগঞ্জ সীমান্তে ৫৬৭ পিস ভারতীয় কসমেটিকস পণ্য জব্দবকশীগঞ্জ সীমান্তে ৫৬৭ পিস ভারতীয় কসমেটিকস পণ্য জব্দ লালমনিরহাটে থ্যালাসেমিয়া ও ক্যান্সার রোগীদের আজীবন ফ্রি রক্ত দেবে ‘বিডিএসএল’ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে মাসব্যাপী সদস্য সংগ্রহ করছে ‘রক্তদাতা যুব সেবা কল্যাণ সংগঠন’
৯ ঘণ্টার ব্যবধানে স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যু, একই শ্মশানে পাশাপাশি চিতা

৯ ঘণ্টার ব্যবধানে স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যু, একই শ্মশানে পাশাপাশি চিতা

মনজু হোসেন, স্টাফ রিপোর্টার :: পঞ্চগড়ের আটোয়ারীতে স্বামীর মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে রেললাইনে কাটা পড়ে মারা গেছেন তার স্ত্রী। পরিবারের সদস্যদের দাবি, স্বামীর মৃত্যুর শোক সইতে না পেরে তিনি রেললাইনে গিয়ে প্রাণ দিয়েছেন। পরে একই দিনে স্বামী-স্ত্রীর মরদেহ পাশাপাশি চিতায় দাহ করা হয়েছে।


মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ভোরে আটোয়ারী উপজেলার রাধানগর ইউনিয়নের মালিগাঁও এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত দম্পতি হলেন—মালিগাঁও গ্রামের হরেন্দ্রনাথ বর্মণ (৮০) ও তার স্ত্রী নিত্যবালা বর্মণ। হরেন্দ্রনাথ স্থানীয় একটি মন্দিরের পূজারী ছিলেন। তার স্ত্রী নিত্যবালাও নিয়মিত পূজার কাজে যুক্ত ছিলেন।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, সোমবার রাত ৯টার দিকে বার্ধক্যজনিত কারণে নিজ বাড়িতে মারা যান হরেন্দ্রনাথ বর্মণ। স্বামীর মৃত্যুর পর রাতভর তার মরদেহের পাশে বসে কান্নাকাটি করেন নিত্যবালা। মঙ্গলবার ভোরে তিনি বাড়ি থেকে বের হয়ে যান। পরে দীর্ঘ সময় তাকে না পাওয়ায় পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।


এর মধ্যে সকালে স্থানীয়রা রেললাইনের ওপর একজনের মরদেহ দেখতে পান। খবর পেয়ে স্বজনরা ঘটনাস্থলে গিয়ে নিত্যবালা বর্মণকে শনাক্ত করেন। পরে তার মরদেহ বাড়িতে নিয়ে আসা হয়।

নিহতের ছেলে রবীন চন্দ্র বর্মণ বলেন, “আমার বাবা দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় ভুগছিলেন। সোমবার রাত ৯টার দিকে তিনি মারা যান। মা-বাবাকে অনেক ভালোবাসতেন। বাবার মৃত্যুর পর মা সারারাত তার পাশে বসে কাঁদছিলেন। সকালে কোনো একসময় মা বাড়ির বাইরে বের হন। পরে তাকে আর পাওয়া যাচ্ছিল না। এরপর রেললাইনে তার মরদেহ পাওয়া যায়।”

তিনি আরও বলেন, “সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত আমরা বাবা-মায়ের মরদেহ দাহ করেছি।”

প্রতিবেশী যতীন চন্দ্র বর্মণ বলেন, “তারা আমার কাকা-কাকি। ছোটবেলা থেকেই দেখেছি কাকি কাকাকে অনেক ভালোবাসতেন। কাকার মৃত্যুর পর কাকিও মারা গেলেন। বিষয়টি আমাদের জন্য অত্যন্ত কষ্টের।”


মঙ্গলবার সকাল ৮টার দিকে বাড়ির পাশে নিজেদের ফসলি জমিতে তৈরি শ্মশানে হরেন্দ্রনাথ ও নিত্যবালা বর্মণের মরদেহ পাশাপাশি চিতায় দাহ করা হয়।

ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

আটোয়ারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মতিয়ার রহমান বলেন, “ঘটনার পর স্বজনরা মরদেহ উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে সৎকার করেছেন। পরে আমরা বিষয়টি জানতে পারি। রেললাইনে কাটা পড়ে মৃত্যুর ঘটনা হওয়ায় এ বিষয়ে রেলওয়ে পুলিশ প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেবে।”


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ওয়েবসাইট এর কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পুর্ণ বেআইনি।
Design & Development BY : ThemeNeed.com