বিজ্ঞাপন:
       
লালমনিরহাটে আবাসিক হোটেলের আড়ালে ব্ল্যা’কমেইল ও অ’নৈতিক কর্মকাণ্ডের অ’ভিযোগ

লালমনিরহাটে আবাসিক হোটেলের আড়ালে ব্ল্যা’কমেইল ও অ’নৈতিক কর্মকাণ্ডের অ’ভিযোগ

লালমনিরহাট প্রতিনিধি :: লালমনিরহাট শহরের অন্যতম ব্যস্ত ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকা মিশন মোড়ে অবস্থিত ‘হোটেল সীমান্ত আবাসিক’-এর বিরুদ্ধে নারী-পুরুষকে কক্ষ ভাড়া দিয়ে অ’নৈতিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ করে দেওয়া এবং ব্যক্তিগত ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যা’কমেইলের অ’ভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষো’ভ ও সামাজিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাতে খবর পেয়ে ওই আবাসিক হোটেলে যায় পুলিশ। এ সময় এক নারী ও এক পুরুষকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তাদের পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, হোটেলটির আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে নারী-পুরুষকে কক্ষ ভাড়া দেওয়ার মাধ্যমে অ’নৈতিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে হোটেলে অবস্থানরত অতিথিদের ব্যক্তিগত ভিডিও ধারণ করে তা দেখিয়ে ব্ল্যা’কমেইলের মাধ্যমে অর্থ আদায়ের অ’ভিযোগও রয়েছে।

অভি’যোগ রয়েছে, সিসিটিভি ক্যামেরা কিংবা গোপন কোনো ডিভাইসের মাধ্যমে অতিথিদের ব্যক্তিগত মুহূর্ত ধারণ করা হয়ে থাকতে পারে। পরবর্তীতে এসব ভিডিও ব্যবহার করে ভুক্তভোগীদের ভ’য়ভীতি দেখানো বা ব্ল্যা’কমেইল করা হয় বলেও অ’ভিযোগ রয়েছে। সামাজিক মর্যাদা ও লোকলজ্জার কারণে অনেক ভুক্তভোগী বিষয়টি প্র’কাশ্যে আনতে চান না বলেও স্থানীয়দের দাবি।

এর আগে একই হোটেলকে ঘিরে লালমনিরহাট সদর থানায় লিখিত অভিযোগ করেন মতিউর রহমান (২৮) নামে এক ব্যক্তি। অভিযোগে তিনি দাবি করেন, গত ২৫ জুলাই স্ত্রীকে নিয়ে হোটেলটির একটি কক্ষ ভাড়া নেন। পরদিন সকালে হোটেল থেকে বের হওয়ার সময় হোটেল মালিকের পক্ষের লোকজন তার কাছে ৫ লাখ টাকা দাবি করেন এবং টাকা না দিলে তাদের যেতে দেওয়া হবে না বলে হু’মকি দেন।

লিখিত অভিযোগে মতিউর রহমান আরও দাবি করেন, একপর্যায়ে ভ’য়ভীতি দেখিয়ে তার কাছ থেকে ১ লাখ ৫ হাজার টাকা নেওয়া হয়। পরে বিকাশের মাধ্যমে আরও টাকা দেওয়ার পর তাদের হোটেল থেকে বের হতে দেওয়া হয়। এ সময় তার মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া এবং তার স্ত্রীকে অন্য কক্ষে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টারও অ’ভিযোগ করেন তিনি।

এদিকে সচেতন মহলের দাবি, হোটেলটির বি’রুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা প্রয়োজন। বিশেষ করে হোটেলের সিসিটিভি ফুটেজ, ব্যবহৃত ডিজিটাল ডিভাইস ও অন্যান্য তথ্য-উপাত্ত যাচাই করলে অ’ভিযোগের সত্যতা উদঘাটন হতে পারে। একই সঙ্গে আবাসিক হোটেলগুলোতে অতিথিদের জাতীয় পরিচয়পত্র যাচাইসহ নিয়মিত তদারকি জোরদারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, মিশন মোড়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ত এলাকায় আবাসিক হোটেলের আড়ালে কোনো ধরনের আইনবহির্ভূত কর্মকাণ্ড পরিচালিত হলে তা শহরের পরিবেশ ও নিরাপত্তার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই অভিযোগ প্রমাণিত হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

অভিযোগের বিষয়ে হোটেল সীমান্তের বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক আল মামুন শুভ্র বলেন, শুক্রবার রাতে এক নারী ও এক পুরুষ হোটেলে এসে তথ্যের অসংগতি দেন। পরে তাদের ভিডিও ধারণ করা হয়েছে- এমন অভিযোগ নিয়ে হট্টগোল সৃষ্টি হলে তারা পুলিশের শরণাপন্ন হন। তিনি দাবি করেন, সম্প্রতি একটি পক্ষ তার হোটেলকে নিয়ে ষ’ড়যন্ত্র করছে। তবে টাকা গ্রহণের অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেন।

লালমনিরহাট সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাদ আহমেদ বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই নারী ও পুরুষকে থানায় নিয়ে আসে। পরে তাদের পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে। তবে এ ধরনের কর্মকাণ্ডের অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ওয়েবসাইট এর কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পুর্ণ বেআইনি।
Design & Development BY : ThemeNeed.com