নাটোর প্রতিনিধি :: নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শিশু রোগীর মাকে ধর্ষণের ঘটনায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত তিন পরিচ্ছন্নতাকর্মীকে গ্রেপ্তারের পর এবার ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ।

একই সঙ্গে আগামী পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (০৯ জুন) সন্ধ্যায় নাটোরের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ মশিউর রহমান তদন্ত কমিটি গঠনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর মধ্যে স্বাস্থ্য বিভাগের হাসপাতালের বাইরের দুইজন কর্মকর্তা ও হাসপাতালের একজনকে তদন্ত কমিটিতে রাখা হয়েছে। তবে তদন্তের স্বার্থে তাদের নাম পরিচয় গোপন রাখা হয়েছে।

জানা যায়, গত রোববার (৭ জুন) রাতে রোগীর জন্য ওষুধ দেওয়ার কথা বলে ২৬ বছর বয়সী এক নারীকে ডেকে নিয়ে হাসপাতালের ছয়তলার সিঁড়ি ঘরে ধর্ষণ করা হয়। ভুক্তভোগী নারীর অভিযোগ, ধর্ষণের দৃশ্য মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করে অভিযুক্তরা তাকে ব্ল্যাকমেইল করার চেষ্টা করে।
সিসিটিভি ফুটেজ দেখে হাসপাতালের আনসার সদস্যরা হাতেনাতে অভিযুক্তদের ধরে ফেললেও, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে তাদের ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর বাবা বাদী হয়ে নাটোর সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করলে পুলিশ অভিযুক্ত তিন পরিচ্ছন্নতাকর্মী-অমিত (২৩), অনিল (২৪) এবং প্রাঙ্গনকে (২৩) গ্রেপ্তার করে।

ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ মশিউর রহমান বলেন, “আমি সদ্য যোগদান করেছি। ঘটনার পরপরই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে পুলিশকে অবহিত করা হয়েছে এবং এখন আইন অনুযায়ী তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ধামাচাপা দেওয়ার অভিযোগটি সঠিক নয়। এছাড়া গতকাল ভুক্তভোগীদের অনাপত্তি থাকার কারণে অভিযুক্তদের সাময়িক ছেড়ে দেওয়া হয় এবং সেসময় তারা একটা জবানবন্দি দিয়েছিলেন। সেটা মামলার সঙ্গে যুক্ত করতে পুলিশকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
নাটোর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনসুর রহমান জানান, ভুক্তভোগী নারীর জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়েছে এবং ডাক্তারি পরীক্ষার (ডিমেনশন) কার্যক্রম চলমান রয়েছে। জব্দ করা হয়েছে সিসিটিভি ফুটেজ। ওসি বলেন, মামলাটি অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে। অপরাধী যেই হোক, কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।
![]()
এদিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। ভুক্তভোগীর পরিবারের দাবি, কর্তৃপক্ষ শুরুতে বিষয়টিকে গুরুত্ব দেয়নি, যা অপরাধীদের পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দিয়েছিল। বর্তমানে ভুক্তভোগী নারী ও তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। আর পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত অভিযুক্তদের রিমান্ডে নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
Leave a Reply