লালমনিরহাট প্রতিনিধি: চাকরি দেওয়ার নামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে অনুসন্ধানী সংবাদ প্রকাশের পর এক সাংবাদিককে মুঠোফোনে প্রাণনাশের হুমকি ও অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে লালমনিরহাট সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন ভুক্তভোগী সাংবাদিক।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) রাতে দায়ের করা জিডি সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী আশাদুল ইসলাম সবুজ লালমনিরহাট থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক নতুন বাংলার সংবাদ-এর সম্পাদক এবং দৈনিক নয়াদিগন্ত-এর লালমনিরহাট জেলা প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
অভিযোগে বলা হয়, অভিযুক্ত মো. নয়ন (৩৩), শহরের ওয়ারলেস কলোনি এলাকার মৃত জয়নাল আবেদীনের ছেলে এবং বাংলাদেশ রেলওয়ের একজন কর্মচারী। রেলওয়ের চাকরির প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তিকে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগে সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে একটি অনুসন্ধানী সংবাদ প্রকাশ করেন সাংবাদিক সবুজ।

এরপর ওই সংবাদ প্রকাশকে কেন্দ্র করে গত বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক ১০টা ১১ মিনিটে অভিযুক্ত নয়ন তার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর থেকে সাংবাদিকের ব্যক্তিগত নম্বরে কল করেন। এ সময় তিনি অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করার পাশাপাশি সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিকতাকে “চিরতরে বন্ধ করে দেওয়ার” এবং সুযোগ পেলে বড় ধরনের ক্ষতি করার হুমকি দেন বলে জিডিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনার পর নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত হয়ে সাংবাদিক আশাদুল ইসলাম সবুজ লালমনিরহাট সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। থানায় দায়ের করা জিডির নম্বর-২৫১।
লালমনিরহাট সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “সাংবাদিককে হুমকি দেওয়ার অভিযোগে একটি সাধারণ ডায়েরি গ্রহণ করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্তের জন্য একজন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এদিকে সংবাদ প্রকাশের জেরে একজন কর্মরত সাংবাদিককে হুমকি দেওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জেলার সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ। তারা বলেন, অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা গণমাধ্যমের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। কোনো সংবাদে ক্ষুব্ধ হয়ে একজন সাংবাদিককে হুমকি দেওয়া মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতার পরিপন্থী।
তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীর বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
Leave a Reply