বগুড়া প্রতিনিধি: বগুড়ার নন্দীগ্রামে পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রীকে (১২) ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে তারই বান্ধবীর বাবার বিরুদ্ধে। ওই ছাত্রী চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিশুর পরিবার গত সোমবার (১ জুন) নন্দীগ্রাম থানায় মামলা করেছে। মামলার পর থেকেই অভিযুক্ত মো. দোলা হোসেন (৩৫) পলাতক রয়েছেন।

অভিযুক্ত দোলা হোসেন পেশায় একজন আইসক্রিম বিক্রেতা এবং ওই গ্রামের মো. মোজাফফর হোসেনের ছেলে। তিনি ভুক্তভোগী শিশুর বাবার প্রতিবেশী চাচাতো ভাই।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিশুটি মঙ্গলবার দুপুরে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এ ২২ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে। জবানবন্দি গ্রহণ করেন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আফসান এলাহী।

মামলা ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ১৩ জানুয়ারি সকালে ওই স্কুলছাত্রী তার প্রতিবেশী বান্ধবীর খোঁজে তাদের বাড়িতে যায়। সে সময় বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে বান্ধবীর বাবা দোলা হোসেন ওই শিশুর ওপর চড়াও হয়। একপর্যায়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে তাকে ধর্ষণ করা হয়। লোকলজ্জা ও প্রাণনাশের ভয়ে শিশুটি এতদিন বিষয়টি গোপন রেখেছিল।
সম্প্রতি ওই শিশুর শারীরিক পরিবর্তন লক্ষ্য করে গত ২৪ মে তার মা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। তখন কোনো উপায় না পেয়ে শিশুটি মায়ের কাছে ঘটনার বিস্তারিত খুলে বলে। পরবর্তীতে মায়ের উদ্যোগে তার আল্ট্রাসনোগ্রাফি করা হলে রিপোর্টে জানা যায়, সে চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা।

ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয়ভাবে মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও তা ব্যর্থ হয়। অবশেষে কোনো সুরাহা না পেয়ে ভুক্তভোগীর পরিবার নন্দীগ্রাম থানার শরণাপন্ন হয় এবং সোমবার লিখিত অভিযোগ দায়ের করে, যা পরবর্তীতে নিয়মিত মামলা হিসেবে রুজু হয়।
ধর্ষণের ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জেলা পুলিশের মিডিয়া মুখপাত্র ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আতোয়ার রহমান বলেন, এই নৃশংস ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত আসামি দোলা হোসেন পলাতক রয়েছে। তাকে দ্রুত গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশি অভিযান অব্যাহত আছে।
Leave a Reply