অনলাইন ডেস্ক: ফিফা বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে শিরোপা হারানোর পর আর্জেন্টিনার রাজপথে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা নেমে এসেছে। মেগা ফাইনালে পরাজয়ের পর দেশটির রাজধানী বুয়েনস আইরেসসহ বিভিন্ন এলাকায় ফুটবল সমর্থকদের সাথে পুলিশের ব্যাপক সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দেশটির দাঙ্গা পুলিশকে কাঁদানে গ্যাস (টিয়ারশেল) ও জলকামান ব্যবহার করতে হয়েছে।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোর বরাতে জানা গেছে, ফাইনালের শেষ বাঁশি বাজার পরপরই হাজার হাজার বিক্ষুব্ধ সমর্থক বুয়েনস আইরেসের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত ঐতিহাসিক জাতীয় স্মৃতিস্তম্ভ ‘ওবেলিস্ক’ প্রাঙ্গণে জড়ো হন। একপর্যায়ে একদল উগ্র সমর্থক নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যদের লক্ষ্য করে কাচের বোতল, পাথর ও বিভিন্ন শক্ত বস্তু ছুড়তে শুরু করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।

প্রায় ১৫ মিনিট ধরে চলা এই তুমুল সংঘর্ষে কয়েক ডজন মানুষ আহত হয়েছেন এবং পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে অন্তত ১৫ জনকে আটক করেছে। ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সংঘর্ষের বেশ কিছু ভিডিও ও ছবি ভাইরাল হয়েছে, যেখানে দাঙ্গা পুলিশ ও সমর্থকদের মুখোমুখি মারমুখী অবস্থানে দেখা গেছে।
মাঠের বাইরের এই উত্তেজনার পাশাপাশি ফাইনাল ম্যাচ শেষে আর্জেন্টিনা দলের খেলোয়াড়দের আচরণ নিয়েও ক্রীড়াবিশ্বে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। খেলা শেষে মাঠের মধ্যেই স্পেনের খেলোয়াড়দের ওপর চড়াও হওয়া, ঘুষি-লাথি মারা এবং পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের সময় স্পেনের খেলোয়াড়দের দিকে পিঠ ফিরিয়ে দাঁড়িয়ে অসৌজন্যমূলক আচরণ করার অভিযোগ উঠেছে আলবিসেলেস্তেদের বিরুদ্ধে।
তবে মাঠ ও মাঠের বাইরের এই চরম হতাশা এবং বিশৃঙ্খলার মধ্যেও দলের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছেন আর্জেন্টিনার প্রধান কোচ লিওনেল স্কালোনি। মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ম্যাচ শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘এই মুহূর্তে অবশ্যই আমাদের সবার মন খারাপ। তবে এই ছেলেদের প্রতি আমি চিরকৃতজ্ঞ। ফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছাতে তাদের অসাধারণ পরিশ্রম করতে হয়েছে। জয়ের সময় যেমন আমরা মর্যাদা বজায় রেখেছি, পরাজয়ের সময়ও তেমনটাই রাখতে হবে। ছেলেরা মাঠে তাদের সর্বস্ব উজাড় করে দিয়েছে।’

এদিকে এমন হৃদয়ভাঙা পরাজয়ের পরও ফুটবল দলকে সম্মানিত করতে এবং তাদের দীর্ঘ পথচলাকে বরণ করে নিতে দেশে ‘জাতীয় ছুটি’ ঘোষণার সিদ্ধান্ত পুনর্ব্যক্ত করেছেন আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) এক পোস্টে তিনি জানান, জাতীয় দলের এই অনন্য অর্জন উদযাপনের জন্য খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফরা যে দিনটি উপযুক্ত মনে করবেন, তাদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সেই দিনটিতেই সারা দেশে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হবে।
উল্লেখ্য, কুসংস্কারের কারণে প্রেসিডেন্ট মিলেই নিজে নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ফাইনাল ম্যাচটি দেখতে যাননি। তাঁর বিশ্বাস ছিল, পুরো টুর্নামেন্টে মাঠে না গিয়ে যেহেতু দল ফাইনালে উঠেছে, তাই শেষ ম্যাচে তাঁর উপস্থিতি দলের জন্য ‘দুর্ভাগ্য’ বয়ে আনতে পারে। তবে শেষ পর্যন্ত প্রেসিডেন্টের কুসংস্কার কিংবা মার্তিনেসের বীরত্ব—কোনো কিছুই আর্জেন্টিনাকে শিরোপা ধরে রাখতে সাহায্য করতে পারেনি।
Leave a Reply