রাসেল ইসলাম, লালমনিরহাটঃ প্রশাসনের যথাযথ নজরদারির অভাবে লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন (পিআইও) অফিস যেন অনিয়ম ও ঘুষের আখড়ায় পরিণত হয়েছে। শত শত অনিয়ম দুর্নীতি করে ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন পিআইও এইচ এম মাজহানুর রহমান ও কার্য সহকারি মোঃ রওশনুজ্জামান। সরকারের গুরুত্বপূর্ণ এই দপ্তরটি যেন দেখার কেউ নেই।

জানা গেছে, পিআইও মাজহানুর রহমান যোগদানের পর থেকে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন তিনি। প্রতিটি প্রকল্প থেকে ঘুষ নিলেও সবসময় ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকছেন সরকারি এ কর্মকর্তা। কালীগঞ্জ উপজেলার ইউনিয়নগুলোর প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলোর তদারকি করেন পিআইও মাজহানুর রহমান ও কার্য সহকারি রওশনুজ্জামান। অভিযোগ উঠেছে এ তদারকির সুযোগ কাজে লাগিয়ে প্রতিটি প্রকল্প থেকে হাতিয়ে নেন মোটা অংকের টাকা। পিআইও’র আদেশে টিআর, কাবিখা, কাবিটা, অতি দরিদ্রের জন্য কর্মসংস্থানসহ সকল প্রকল্প থেকেই অফিস খরচ বাবদ মোটা অংকের টাকা আদায় করে রওশনুজ্জামান।
সম্প্রতি কালীগঞ্জ উপজেলায় টিআর, কাবিটা, কাবিখা, কর্মসূচিসহ একাধিক প্রকল্প ঘুরে দেখা গেছে অধিকাংশ প্রকল্পেই পূর্ণাঙ্গ কাজ করা হয়নি। আংশিকভাবে কাজ সমাপ্ত করা হয়েছে। এসব প্রকল্পের বেশ কয়েকজন প্রকল্প সভাপতি জানান, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মাজহানুর রহমানের আদেশে বরাদ্দের টাকার ১৫ থেকে ১৮ শতাংশ টাকা অফিস স্টাফ রওশনুজ্জামানকে দিতে হয়। এ ছাড়া মাস্টাররোলেও খরচ করতে হয়। অনেক সময় মসজিদ, মন্দির, মাদ্রাসার বরাদ্দেও ছাড় দিতে চান না তিনি। ফলে উন্নয়ন কাজ পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয় না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কালীগঞ্জ উপজেলার একটি ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ও প্রকল্প সভাপতি বলেন, পিআইও মাজহানুর রহমান ও কার্য সহকারীর রওশনুজ্জামানের বিরুদ্ধে অভিযোগ দেওয়ার সাহস কারো নেই। কেননা পিআইও নিজেকে ডিসির আত্মীয় বলে পরিচয় দেন। তাই অফিসে এখন ঘুষ বাণিজ্য হচ্ছে প্রকাশ্যে। ঊদ্ধর্তন কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসন জানে প্রতিটি প্রকল্প থেকে অফিস খরচের নামে পিআইও অফিস টাকা নেয়। পিআইও এবং কার্য সহকারী রওশনুজ্জামান এ ঘুষ বাণিজ্যের সাথে জড়িত। যেখানে প্রশাসনের ঊর্ধতন কর্মকর্তারা ব্যবস্থা নেন না, সে কারনে আমাদের মত ইউপি সদস্যরা অভিযোগ করলেই বিপাকে পড়তে হয়।
জেলার সচেতন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি বীর মুক্তিযোদ্ধা জয়নাল হোসেন বলেন, গত বছরের ৫ আগস্টে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থাণে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরেও অনেক আমলরা এখনও একই স্টাইলে দুর্নীতি করে যাচ্ছে। গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে এ ধরণের অনিয়ম-দুর্নীতির বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্টদের দ্রুত নজদারি করা প্রয়োজন।
অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, কালিগঞ্জ পিআইও অফিসের কার্য সহকারী রওশনুজ্জামান অনিয়ম দুর্নীতি ও ঘুষ বাণিজ্য করে হয়েছেন কোটি কোটি টাকার মালিক। তিনি তার গ্রামের বাড়িতে তৈরি করেছেন আলিশান বিলাসবহুল বাড়ি। গোপন ক্যামেরায় ধারণকৃত এক ভিডিওতে রওশনুজ্জামানের প্রতিবেশীরা বলেন, রওশনুজ্জামান শাশুড়ির নামে ঠিকাদারি লাইসেন্স করে তিনি নিজে কাজ করেন। তার সন্তানকে লেখাপড়া করান রংপুরে। নামে বেনামে করেছেন কোটি কোটি টাকার সম্পদ। প্রতিবেশীরা আক্ষেপ করে বলেন, রওশনুজ্জামানের এত টাকার উৎস কোথায়?

এসব বিষয়ে কালীগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মাজহানুর রহমানের সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয় এই প্রতিবেদক।
এ ব্যাপারে কালিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, আংশিক কাজ সমাপ্ত ও কমিশন বাণিজ্যসহ অন্যান্য অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
Leave a Reply