মনজু হোসেন,স্টাফ রিপোর্টার:: পঞ্চগড় সদর উপজেলার জালাসি এলাকায় ফুটবল খেলতে গিয়ে বল পাশের একটি বাড়িতে পড়ে যাওয়াকে কেন্দ্র করে তিন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আহত হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে শাপলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।

আহত শিক্ষার্থীরা হলো বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী রেজওয়ান খান অপূর্ব ও মিম হোসেন এবং চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী তাওহীদ হাসান আশিক। আহতদের প্রথমে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে তাদের পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হলে বর্তমানে তারা চিকিৎসাধীন রয়েছে।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, টিফিন বিরতির সময় শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয় মাঠে ফুটবল খেলছিল। খেলার একপর্যায়ে বলটি বিদ্যালয়সংলগ্ন একটি বাড়িতে গিয়ে পড়ে। এ সময় বাড়ির মালিক জয়তুন বেগম ক্ষিপ্ত হয়ে কয়েকজন শিক্ষার্থীকে লাঠি দিয়ে মারধর করেন বলে অভিযোগ ওঠে। এছাড়া শিশুদের লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপের ঘটনাও ঘটে। এতে তিন শিক্ষার্থী আহত হয়।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাজেদা জান্নাতুল পারভীন বলেন, “আমাদের শিক্ষার্থীরা নিয়মিত খেলাধুলা করে। বলটি পাশের বাড়িতে যাওয়ার পর ওই মহিলা কয়েকজন শিক্ষার্থীকে মারধর করেছেন বলে তারা জানিয়েছে। শিক্ষার্থীদের শরীরে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। পরে তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।”
আহত শিক্ষার্থী তাওহীদ হাসান আশিকের বড় ভাই আবির বলেন, “শিশুদের সঙ্গে এমন আচরণ অত্যন্ত দুঃখজনক। এতে শিক্ষার্থীরা স্কুলে আসতে ভয় পেতে পারে। আমরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।”
অভিযোগের বিষয়ে জয়তুন বেগমের স্বামী হাচান আলি বলেন, “আমার স্ত্রী জানিয়েছে, ফুটবলটি রান্নাঘরে গিয়ে পড়েছিল। এতে রাগান্বিত হয়ে সে রান্নার কাজে ব্যবহৃত একটি লাঠি দিয়ে শিশুদের আঘাত করেছে।”

এ বিষয়ে পঞ্চগড় সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফুল ইসলাম বলেন, “এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
Leave a Reply