ডেস্ক রিপোর্ট :: রংপুরের মিঠাপুকুরে মাদক ব্যবসার বিরোধিতা করাকে কেন্দ্র করে এক যুবক ও তাঁর স্বজনদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় চারজন আহত হয়েছেন। আহতরা মিঠাপুকুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার ৫ নম্বর বালারহাট ইউনিয়নের কয়েরমারী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মোঃ মোহতামিম ইসলাম নাঈম (২৭) মিঠাপুকুর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগে রাশেদ মিয়া (৩৫), তাঁর বাবা সাইদুর রহমান (৫৫), রায়হান মিয়া (২৫) এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৪-৫ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্তরা এলাকায় মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তাঁদের মাদক ব্যবসার বিরোধিতা করায় নাঈমকে মারধরের পরিকল্পনা করা হয় । এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার সকালে লাঠি, লোহার রড ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে অভিযুক্তরা নাঈমের বাড়ির উঠানে প্রবেশ করে তাঁর ওপর হামলা চালান ।
এ সময় নাঈমের মাথা, বুক, পিঠ ও কোমরে আঘাত করা হয় এবং তাঁর বুকে কামড় দিয়ে জখম করা হয় । তাঁকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে তাঁর জ্যাঠাতো ভাই রোকন মিয়ার বাম হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলে কামড় দিয়ে রক্তাক্ত জখম করা হয়।

এ ছাড়া নাঈমের ভাবি মুন্নি বেগমের মাথায় লোহার রড দিয়ে আঘাত করে ফোলা ও কালশিরা জখম করা হয়। তাঁর জ্যাঠাতো বোন সেনোয়ারা বেগমের মাথা ও কোমরে ইট দিয়ে আঘাত করে জখম করার অভিযোগও রয়েছে। দুই নারীকে মারধর ও শ্লীলতাহানির অভিযোগও করেছেন নাঈম।
পরে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে আহতদের উদ্ধার করেন। তাঁদের মিঠাপুকুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।
অভিযোগ অস্বীকার করে রাশেদ মিয়া বলেন, তিনি মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত নন। বরং প্রতিপক্ষের লোকজন তাঁর বাবাকে মারধর করে মাথা ফাটিয়ে দিয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।

অন্যদিকে, নাঈমের দাবি, অভিযুক্তরা তাঁদের ওপর আকস্মিক হামলা চালান। পরে তারা বাড়িতে গিয়ে নিজেই নিজের মাথা ফাটিয়ে তাঁদের ফাঁসানোর পরিকল্পনা করছেন। ঘটনাস্থলে সিসিটিভি ক্যামেরা রয়েছে, ফুটেজ পরীক্ষা করলেই প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে।
মিঠাপুকুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রুহুল আমিন বলেন, এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
Leave a Reply