লালমনিরহাট প্রতিনিধি:: লালমনিরহাটের গোকুণ্ডা উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যে রক্তের গ্রুপ নির্ণয় ও সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শিক্ষার্থীদের নিজেদের রক্তের গ্রুপ সম্পর্কে জানানো এবং রক্তের গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতন করার লক্ষ্যে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

সোমবার, ১৭ আগস্ট ২০২৬ সকাল ১০টায় গোকুণ্ডা উচ্চ বিদ্যালয়ের কনফারেন্স রুমে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে রক্তের গ্রুপ নির্ণয়ের পাশাপাশি রক্তের গুরুত্ব, জরুরি প্রয়োজনে রক্তের গ্রুপ জানা থাকার প্রয়োজনীয়তা এবং মানবিক কাজে এগিয়ে আসার বিষয়ে সচেতনতামূলক আলোচনা করা হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিপ্লবী সমাজকল্যাণ ফাউন্ডেশন এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ নুর মোহাম্মদ, সভাপতি মোঃ আরিফ কবির, সহ-সভাপতি ইমরান খান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোছাঃ সাজেদা আক্তার সিমি এবং সদস্য সাব্বির আহমেদ।
এসময় বিপ্লবী সমাজকল্যাণ ফাউন্ডেশনের সহ-সভাপতি ইমরান খান বলেন, প্রত্যেক মানুষের নিজের রক্তের গ্রুপ জানা থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনো দুর্ঘটনা, অপারেশন, জরুরি চিকিৎসা কিংবা হঠাৎ রক্তের প্রয়োজন দেখা দিলে নিজের রক্তের গ্রুপ জানা থাকলে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা সহজ হয়।

তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে রক্তের বিভিন্ন গ্রুপ সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা দেন এবং রক্তের গ্রুপ সংরক্ষণ করে রাখার গুরুত্ব তুলে ধরেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, শুধু নিজের রক্তের গ্রুপ জানলেই হবে না; পরিবারের সদস্যদের রক্তের গ্রুপ সম্পর্কেও জানা থাকলে জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে সুবিধা হয়।
সহ-সভাপতি আরও বলেন, রক্ত মানুষের জীবনের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। একজন মানুষ যখন অন্য একজন মানুষের প্রয়োজনে রক্ত দিতে এগিয়ে আসে, তখন সেটি শুধু একটি সামাজিক কাজ নয়, বরং মানবিকতারও একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
তিনি শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতে প্রাপ্তবয়স্ক ও রক্তদানের উপযুক্ত হলে স্বেচ্ছায় রক্তদানে উৎসাহিত হওয়ার আহ্বান জানান এবং রক্তদান সম্পর্কে সমাজে প্রচলিত ভুল ধারণা দূর করতে সচেতন ভূমিকা রাখার কথা বলেন।

এসময় বিপ্লবী সমাজকল্যাণ ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ নুর মোহাম্মদ তিনি শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য, শিক্ষা, শৃঙ্খলা, সচেতনতা ও সামাজিক দায়িত্বের বিভিন্ন দিক নিয়ে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন।
তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, একজন শিক্ষার্থীর জীবনে শুধু ভালো ফলাফল অর্জন করাই শেষ কথা নয়; একজন ভালো মানুষ হিসেবে নিজেকে গড়ে তোলাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিজের পড়াশোনার পাশাপাশি স্বাস্থ্য, পরিচ্ছন্নতা, নৈতিকতা, শৃঙ্খলা এবং সামাজিক দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের নিজেদের শরীর ও মনের প্রতি যত্নশীল হতে হবে। নিয়মিত পড়াশোনা, পর্যাপ্ত ঘুম, শরীরচর্চা, স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ এবং সময়ের সঠিক ব্যবহার একজন শিক্ষার্থীর সুন্দর ভবিষ্যৎ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে সচেতন হওয়ার পরামর্শ দেন। অনলাইনে কোনো তথ্য পাওয়ার পর যাচাই না করে সেটি অন্যদের কাছে ছড়িয়ে না দেওয়া এবং অপরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার না করার বিষয়েও তিনি সতর্ক করেন।
তিনি শিক্ষার্থীদের মাদক, খারাপ সঙ্গ এবং বিভিন্ন ক্ষতিকর অভ্যাস থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে পরিবার, শিক্ষক ও সমাজের প্রতি দায়িত্বশীল আচরণ করার এবং অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মানসিকতা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি বলেন, আজকের শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের সমাজ ও দেশের নেতৃত্ব দেবে। তাই শিক্ষাজীবন থেকেই তাদের মধ্যে মানবিক মূল্যবোধ, নেতৃত্বের গুণাবলি, শৃঙ্খলা ও সামাজিক দায়বদ্ধতা তৈরি করতে হবে।
কর্মসূচিতে উপস্থিত অন্যান্য সদস্যরাও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় করেন। এ সময় শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্বাস্থ্য সচেতনতা, রক্তের গ্রুপ জানা এবং প্রয়োজনে মানবিক কাজে এগিয়ে আসার বিষয়ে আগ্রহ সৃষ্টি হয়।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে বলা হয়, এ ধরনের সচেতনতামূলক কার্যক্রমের মূল উদ্দেশ্য হলো শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছোটবেলা থেকেই স্বাস্থ্য, মানবিকতা ও সামাজিক দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করা।

বিনামূল্যে রক্তের গ্রুপ নির্ণয়ের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা নিজেদের রক্তের গ্রুপ সম্পর্কে জানতে পারে এবং একই সঙ্গে রক্তের গুরুত্ব সম্পর্কেও ধারণা লাভ করে।
অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়—নিজে সচেতন হওয়ার পাশাপাশি পরিবার, বন্ধু ও সমাজের অন্যদেরও সচেতন করতে হবে। কারণ একজন সচেতন মানুষ শুধু নিজের জন্য নয়, পুরো সমাজের জন্যই ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
সচেতনতা থেকেই তৈরি হোক মানবিকতা, আর মানবিকতা থেকেই গড়ে উঠুক সুন্দর সমাজ—এই প্রত্যাশায় কর্মসূচির সমাপ্তি ঘটে।
Leave a Reply