আন্তর্জাতিক ডেস্ক :: ভারতের উত্তর প্রদেশে প্রেমিককে বিয়ে করার দাবিতে প্রায় ১০০ ফুট উঁচু মোবাইল ফোনের টাওয়ারে উঠে পড়েন ১৯ বছর বয়সী এক তরুণী। তিন ঘণ্টার বেশি সময় ধরে চলা উত্তেজনাকর পরিস্থিতির অবসান ঘটে ফোনের মাধ্যমে নিকাহ সম্পন্ন করার পর। বিয়ে নিশ্চিত হওয়ার পর টাওয়ার থেকে নেমে আসতে রাজি হন ওই তরুণী।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকালে উত্তর প্রদেশের বাহরাইচ জেলার মোতিপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। প্রেমের সম্পর্ক নিয়ে মায়ের সঙ্গে বিরোধের জেরে তিনি টাওয়ারে উঠে পড়েন। পরে পুলিশ, পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্যোগে ফোনের মাধ্যমে বিয়ের ব্যবস্থা করা হয়।
ঘটনাস্থলটি জেলা সদর থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দূরে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ২১ বছর বয়সী এক তরুণের সঙ্গে ওই তরুণীর প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে। দুই মাস আগে কাজের জন্য মুম্বাইয়ে চলে যান ওই তরুণ। শুক্রবার সকালে এ সম্পর্ক নিয়ে মায়ের সঙ্গে বিরোধের পর মোবাইল ফোনের টাওয়ারে উঠে পড়েন তরুণী।

স্থানীয় বাসিন্দারা আরও জানান, টাওয়ার থেকে নেমে আসার জন্য অনেকে তাকে বারবার অনুরোধ করেন। তবে তিনি কারও কথা শোনেননি। কেউ তার কাছে যাওয়ার চেষ্টা করলে লাফ দিয়ে নিচে পড়ে যাওয়ার হুমকি দেন। প্রেমিককে বিয়ে না করা পর্যন্ত টাওয়ার থেকে নামবেন না বলেও জানিয়ে দেন তিনি।
খবর পেয়ে নারী পুলিশ সদস্যসহ পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তারা তরুণীকে নিরাপদে নিচে নামিয়ে আনার চেষ্টা করেন। তবে পুলিশের অনুরোধেও তিনি টাওয়ার থেকে নামতে রাজি হননি। পরে স্থানীয় বাসিন্দারা দুই পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এ সময় মুম্বাইয়ে থাকা ওই তরুণ বিয়েতে রাজি হয়েছেন বলে জানা যায়।

পরিস্থিতি শান্ত করতে স্থানীয় এক কাজিকে ডেকে আনা হয়। পরে ফোনের মাধ্যমে নিকাহ পড়ান তিনি। বর ও কনের সম্মতি নেওয়ার পর দূর থেকেই বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন কাজি।
নিকাহ সম্পন্ন হয়েছে—এমনটি নিশ্চিত হওয়ার পর টাওয়ার থেকে নামতে রাজি হন তরুণী। পরে নারী পুলিশ সদস্যরা তাকে নিরাপদে নিচে নামিয়ে আনেন।
তবে তরুণীকে উদ্ধারের পরও পারিবারিক উত্তেজনা পুরোপুরি কমেনি। তার মা বিয়েতে আপত্তি জানিয়ে যান। মেয়েকে প্রেমিকের সঙ্গে থাকতে হলে বাড়ি ছেড়ে চলে যেতে পারেন বলেও তিনি জানিয়েছেন বলে জানা গেছে।

পরে পুলিশ তরুণী ও তার পরিবারের সদস্যদের থানায় নিয়ে কাউন্সেলিং করে। এরপর তাদের বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
মোতিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (এসএইচও) ব্রহ্মানন্দ গৌর বলেন, প্রেমিককে বিয়ে করার জেদের কারণেই ওই তরুণী মোবাইল ফোনের টাওয়ারে উঠেছিলেন। তিনি বলেন, ‘নিকাহের পর তাকে নিরাপদে নিচে নামিয়ে আনা হয়েছে। কোনো অভিযোগ পেলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
Leave a Reply