মনজু হোসেন, স্টাফ রিপোর্টার :: পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার বড়শশী ইউনিয়নে মাঠপর্যায়ে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের (বিএস) নিয়মিত উপস্থিতি ও কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। কৃষকদের দাবি, ফসলে রোগবালাই ও পোকামাকড়ের আক্রমণ দেখা দিলেও অনেক সময় সময়মতো কৃষি বিভাগের পরামর্শ পাওয়া যায় না। এতে ফসলের ক্ষতির পাশাপাশি বাড়ছে কৃষকদের উদ্বেগ।

কৃষকদের অভিযোগ, নিয়মিত কৃষক গ্রুপের সভা না হওয়া, মাঠ পরিদর্শন না করা এবং মৌসুমভিত্তিক চাষাবাদে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা না পাওয়ায় তারা বিভিন্ন সমস্যার মুখে পড়ছেন।
সম্প্রতি সরেজমিনে বড়শশী ইউনিয়নের চিলাপাড়া, ডাঙ্গাপাড়া, কোনাবালাপাড়া, সর্দারপাড়া, বালাপাড়া, মায়াপাড়া, অমরখানা ও সবুজ
পাড়া এলাকায় গিয়ে কয়েকজন কৃষকের সঙ্গে কথা বলে একই ধরনের অভিযোগ পাওয়া যায়। তাদের অনেকেই জানান, দায়িত্বপ্রাপ্ত উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাকে নিয়মিত এলাকায় পাওয়া যায় না। ফলে ফসলের সমস্যা দেখা দিলে প্রয়োজনীয় পরামর্শ পেতে তাদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়।
মায়াপাড়া গ্রামের কৃষক দুলাল ইসলাম তার ক্ষতিগ্রস্ত ধানখেতে নিয়ে গিয়ে জানান, তার ধানের বেশিরভাগ অংশে পোকার আক্রমণ হয়েছে। প্রতিবছর প্রায় পাঁচ বিঘা জমিতে ধান, পাট ও ভুট্টার আবাদ করেন তিনি। তবে এবার ফসলে পোকার আক্রমণ দেখা দিলেও দায়িত্বপ্রাপ্ত বিএসের কাছ থেকে কোনো পরামর্শ বা সহযোগিতা পাননি বলে অভিযোগ করেন।
দুলাল ইসলাম বলেন, “ধানের পোকার আক্রমণে অনেক ফসল নষ্ট হয়ে গেছে। কিন্তু বিএস কখনো খোঁজ নেননি। কীভাবে পোকার আক্রমণ থেকে ফসল রক্ষা করা যায়, সে বিষয়েও কৃষি বিভাগের কাছ থেকে কোনো পরামর্শ পাইনি।.
.
মায়াপাড়া গ্রামের কৃষক তরিকুল ইসলাম বলেন, তিনি প্রতিবছর প্রায় ২২ বিঘা জমিতে বেগুন, শাকসবজি ও ধান আবাদ করেন। তবে চাষাবাদের বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার কাছ থেকে কোনো পরামর্শ পাননি বলে জানান তিনি।
অমরখানা গ্রামের কৃষক বাবুল হোসেন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে প্রায় পাঁচ বিঘা জমিতে চাষাবাদ করছেন তিনি। সরকারের কৃষি প্রশিক্ষণ ও প্রণোদনার কথা শুনলেও দায়িত্বপ্রাপ্ত বিএসের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ পাননি।
সরকারপাড়া গ্রামের কৃষক মঞ্জুরুল ইসলাম বলেন, তিনি ২২ থেকে ২৩ বছর ধরে কৃষিকাজ করছেন। কিন্তু তাদের এলাকায় কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা কিংবা দায়িত্বপ্রাপ্ত বিএসকে নিয়মিত দেখেননি।
একই অভিযোগ করেছেন চিলাপাড়া, ডাঙ্গাপাড়া ও সবুজপাড়া এলাকার কয়েকজন কৃষক। তাদের দাবি, কৃষকদের সঙ্গে নিয়মিত সভা, মাঠ পরিদর্শন এবং রোগবালাই ও পোকামাকড় দমনে সময়মতো পরামর্শ নিশ্চিত করা হলে ফসলের ক্ষতি অনেকটাই কমানো সম্ভব।
.

তবে কৃষকদের অভিযোগের বিষয়ে বড়শশী ইউনিয়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান সরকার বলেন, “অনেক কৃষক আমাকে চিনতে নাও পারেন। তবে যারা আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেন, তাদের কৃষি বিষয়ে পরামর্শ দেওয়া হয়।” তার বিরুদ্ধে গ্রামের কিছু কৃষক মিথ্যা অভিযোগ করেছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
এ বিষয়ে বোদা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রাশেদুন্নবী রাশেদ বলেন, কৃষকদের অভিযোগের বিষয়টি তিনি অবগত হয়েছেন। অভিযোগগুলো যাচাই করে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের বিষয়ে বিধিমোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
Leave a Reply