বিজ্ঞাপন:
সংবাদ শিরোনাম:
“নতুন ভবন চকচকে হলে কী হবে, ভেতরে পড়ে আছে মেয়াদোত্তীর্ণ ফায়ার সিলিন্ডার অথচ কতৃপক্ষের নেই কোন নজর পঞ্চগড়ে স্কুলছাত্রীকে অপহরণের পর ধর্ষণ, লজ্জা সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যায় মৃত্যু-দুই আসামি গ্রেপ্তার মাহিগঞ্জ পরেশ নাথ মন্দিরের সাধারণ সভায় সভাপতি রবি, সম্পাদক বিশ্বজিৎ কুমিল্লায় ২৪ ঘণ্টায় ৪৯ অভিযানে গ্রেপ্তার ৫৬, ইয়াবা-বিয়ার উদ্ধার জরুরি পারাপারে স্পিডবোটে বাধা দেওয়ার অভিযোগ, ভোগান্তিতে হাজারো যাত্রী লালমনিরহাটে দুই মন্ত্রীর সামনেই বিএনপির দুই গ্রুপের মারামারি, আহত ৫ লালমনিরহাটে শিবরাম স্কুলের শিক্ষার্থীদের মাঝে গাছের চারা বিতরণ অনুষ্ঠিত দিনের হট্টগোলের জের রাতে সংঘর্ষে, পঞ্চগড়ে বিএনপির দুই গ্রুপে আহত ২১ মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ তেঁতুলিয়ায় কাজীর বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ, লাইসেন্স বাতিলের দাবিতে মানববন্ধন গাজীপুরের কালিয়াকৈরে বজ্রপাতে নিহত ১জন
“নতুন ভবন চকচকে হলে কী হবে, ভেতরে পড়ে আছে মেয়াদোত্তীর্ণ ফায়ার সিলিন্ডার অথচ কতৃপক্ষের নেই কোন নজর

“নতুন ভবন চকচকে হলে কী হবে, ভেতরে পড়ে আছে মেয়াদোত্তীর্ণ ফায়ার সিলিন্ডার অথচ কতৃপক্ষের নেই কোন নজর

মোঃ কেফায়েত উল্লাহ্, লালমনিরহাট :: লালমনিরহাট ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতালের নবনির্মিত ভবনে রোগীদের অগ্নি নিরাপত্তা নিয়ে চরম অবহেলার চিত্র ফুটে উঠেছে।

হাসপাতালের অত্যন্ত সংবেদনশীল ও ঝুঁকিপূর্ণ ইলেকট্রিক সাব-ডিস্ট্রিবিউশন বোর্ডের পাশসহ পুরো নিচতলার থেকে তৃতীয় তলার বিভিন্ন পয়েন্টে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে একাধিক মেয়াদোত্তীর্ণ অগ্নিনির্বাপক (ফায়ার) সিলিন্ডার।


কর্তৃপক্ষ ওই বৈদ্যুতিক বোর্ডের সামনে বড় বড় অক্ষরে ‘বিপজ্জনক’ সতর্কবার্তা ঝুলিয়ে রাখলেও, শর্ট সার্কিট থেকে সৃষ্ট আগুন নেভানোর একমাত্র মাধ্যমটি সচল রাখার বিষয়ে দেখিয়েছে চরম উদাসীনতা।

সরেজমিনে হাসপাতালের নতুন ভবনে গিয়ে দেখা গেছে, নিচতলার প্রধান করিডোর এবং গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে ৫ কেজির গ্যালাক্সি ব্যান্ডের কার্বন ডাই অক্সাইড (CO₂) এবং এবিসি পাউডার সিলিন্ডার ঝোলানো রয়েছে। সিলিন্ডারগুলোতে থাকা সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান রংপুরের ‘আল-সেফটি ফায়ার ইকুইপমেন্টস’-এর স্টিকার অনুযায়ী, নিচতলা থেকে তৃতীয়তলার প্রতিটি সিলিন্ডারের মেয়াদ গত ২০ আগস্ট ২০২৬ তারিখে শেষ হয়ে গেছে।

অর্থাৎ, বিগত প্রায় এক মাস ধরে কোনো রকম কার্যকর নিরাপত্তা প্রস্তুতি ছাড়াই সম্পূর্ণ অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে হাসপাতালের এই গুরুত্বপূর্ণ অংশটি।সবচেয়ে আশঙ্কাজনক বিষয় হলো, হাসপাতালের এই নতুন ভবনের নিচতলাতেই প্রতিদিন সবচেয়ে বেশি মানুষের সমাগম ঘটে। সহস্রাধিক সাধারণ মানুষ ও অসুস্থ রোগী বহির্বিভাগে ডাক্তার দেখানোর জন্য নিচতলায় দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট কাটেন, ডাক্তার দেখান এবং ওষুধ সংগ্রহ করেন।

প্রতিদিন শত শত মানুষের ভিড়ে ঠাসা এই নিচতলার প্রধান করিডোরেই ঝুলছে এই অকেজো ও মেয়াদোত্তীর্ণ সিলিন্ডারগুলো।ফায়ার সার্ভিস বিশেষজ্ঞদের মতে, হাসপাতালের মতো জনাকীর্ণ স্থানে ইলেকট্রিক সাব-ডিস্ট্রিবিউশন বোর্ড থেকে শর্ট সার্কিটের মাধ্যমে যেকোনো সময় বড় ধরনের বৈদ্যুতিক আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। ঠিক এই অগ্নিঝুঁকির কেন্দ্রবিন্দুতে এবং সাধারণ মানুষের দীর্ঘ লাইনের ঠিক পাশেই অকেজো সিলিন্ডার রাখা অত্যন্ত আত্মঘাতী।

জরুরি মুহূর্তে আগুন লাগলে এই সিলিন্ডার কাজ না করলে ছোট আগুন মুহূর্তেই পুরো নতুন ভবনে ছড়িয়ে পড়বে। এতে টিকিট বা ওষুধের লাইনে থাকা সহস্রাধিক অসুস্থ রোগী ও তাদের স্বজনদের মাঝে মারাত্মক আতঙ্ক ও হুড়োহুড়ি তৈরি হবে, যা ধোঁয়ায় দম আটকে বা পদদলনের (Stampede) মতো বড় ধরনের মানবিক বিপর্যয় ও প্রাণহানি ঘটাতে পারে।

প্রতিদিন এখানে হাজার হাজার মানুষ গাদাগাদি করে লাইনে দাঁড়ায়। এখানে আগুন লাগলে তো বের হওয়ার পথ পাওয়া যাবে না।

এই বিষয়ে জানতে চাইলে লালমনিরহাট সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আরশাদ হোসেন বলেন মেয়াদোত্তীর্ণ ফায়ার সিলিন্ডারলর বিষয়ে ফায়ার সার্ভিস অফিসে জানানো হয়েছে তারা দ্রুত পরিবর্তন করে দিবে।

কিন্তু এই বিয়য়ে ও সিভিল ডিফেন্সের ভারপ্রাপ্ত স্টেশন অফিসার মোঃ মুক্তি মাহমুদ বলেন, এই বিষয়টি নিয়ে আমাদের এখনো অবগত করা হযনি।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের নিয়ম অনুযায়ী, যেকোনো সরকারি-বেসরকারি জনাকীর্ণ ভবনে সার্বক্ষণিক সচল ও সার্টিফাইড সিলিন্ডার রাখা বাধ্যতামূলক। এই নিয়মের তোয়াক্কা না করে প্রতিদিন হাজারো মানুষের সমাগম ঘটা পুরো নিচতলা জুড়ে মেয়াদোত্তীর্ণ সিলিন্ডার ঝুলিয়ে রাখাকে hospital কর্তৃপক্ষের বড় ধরনের গাফিলতি হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা। অবিলম্বে এই সিলিন্ডারগুলো রিফিল করে সচল করা এবং নিয়মিত পরীক্ষা করার করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ওয়েবসাইট এর কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পুর্ণ বেআইনি।
Design & Development BY : ThemeNeed.com