বিজ্ঞাপন:
সংবাদ শিরোনাম:
পঞ্চগড়ে সুইসগেট ভাঙার এক বছরেও হয়নি সেতু, দুর্ভোগে হাজার হাজার মানুষ নজরুল বর্ষের সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় তৃতীয় স্থান শিবরাম স্কুলের নুহা বকশীগঞ্জ সীমান্তে ৫৬৭ পিস ভারতীয় কসমেটিকস পণ্য জব্দবকশীগঞ্জ সীমান্তে ৫৬৭ পিস ভারতীয় কসমেটিকস পণ্য জব্দ লালমনিরহাটে থ্যালাসেমিয়া ও ক্যান্সার রোগীদের আজীবন ফ্রি রক্ত দেবে ‘বিডিএসএল’ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে মাসব্যাপী সদস্য সংগ্রহ করছে ‘রক্তদাতা যুব সেবা কল্যাণ সংগঠন’ লালমনিরহাটে ট্রাক-অটোরিকশা সংঘর্ষে ৫ জন নিহত, আহত ৩ লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসড়কে আরও একটি ট্র্যাজেডি, উদ্ধার কাজে ফায়ার সার্ভিস লালমনিরহাটে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা রাব্বি গ্রেফতার কমলনগরে হাম প্রতিরোধে শুরু হয়েছে ‘ইন্টেন্সিফাইড এমআর ক্যাচ-আপ’ টিকাদান কার্যক্রম লালমনিরহাট শহরে বাড়ি ফাঁকা পেয়ে নগদ টাকা ও স্বর্ণালস্কার চুরি
পাবিপ্রবিতে জুলাই স্মরণসভায় দাওয়াত না দেওয়ায় অনুষ্ঠান বন্ধ করে দিল ছাত্রদল

পাবিপ্রবিতে জুলাই স্মরণসভায় দাওয়াত না দেওয়ায় অনুষ্ঠান বন্ধ করে দিল ছাত্রদল

ডেস্ক রিপোর্ট :: জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পাবিপ্রবি) প্রশাসনের আয়োজিত ‘আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল’ এ দাওয়াত না পাওয়ায় অনুষ্ঠান বন্ধ করে দিয়েছেন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতা-কর্মীরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে উপাচার্য, কোষাধ্যক্ষের বক্তব্য ছাড়াই দোয়ার মাধ্যমে দ্রুত অনুষ্ঠান শেষ করেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

বুধবার (৫ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কনভেনশন সেন্টারে কুরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে ‘আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল’ শুরু হয়। এরপর শহীদ পরিবারের পক্ষ থেকে বক্তব্য দেন ৪ আগস্ট পাবনায় যুবলীগ-আওয়ামী লীগের গুলিতে শহীদ হওয়া শহীদ মাহবুব হাসান নিলয়ের বাবা আবুল কালাম আজাদ। এরপর ৪ আগস্টের আরেক শহীদ জাহিদুল ইসলামের বাবাকে বক্তব্য রাখার জন্য মঞ্চে ডাকলে ছাত্রদলের সভাপতি মুজাহিদ হোসেন ও সেক্রেটারি তরিকুল ইসলামের নেতৃত্বে বাইর থেকে মিছিল নিয়ে কনভেনশন সেন্টারে প্রবেশ করেন।

এরপর প্রোগ্রামস্থলে দাঁড়িয়ে ‘জিয়ার সৈনিক এক হও লড়াই করো’, ‘পাবিপ্রবি ছাত্রদল জিন্দাবাদ জিন্দাবাদ’, ‘জুলাইয়ের দালালেরা হুশিয়ার সাবধান’, ‘দালালি আর করিস না পিঠের চামড়া থাকবেনা’, ‘আবু সাইদের দালালের হুশিয়ার সাবধান’, ‘দিয়েছি তো রক্ত, আরও দেব রক্ত, রক্তের বন্যায় ভেসে যাবে অন্যায়’, ‘আওয়ামী লীগের দালালেরা হুঁশিয়ার, সাবধান’ এবং ‘আহ্বায়ক ভুয়া, ভুয়া’ প্রভৃতি স্লোগান দেন।


এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. কামরুজ্জামান খান, ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. রাশিদুল হক এবং অনুষ্ঠান আয়োজন কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. কামরুজ্জামানের ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের শান্ত করার চেষ্টা করলে তারা শিক্ষকদের সাথে বাগ্‌বিতণ্ডায় লিপ্ত হয়।

ঘটনার এক পর্যায়ে ইলেকট্রিক্যাল, ইলেকট্রনিক অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইসিই) বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. ইমরান হোসেন তাদের থামার জন্য বললে ছাত্রদল কর্মী নিশানকে ঐ শিক্ষকের দিকে তেড়ে আসতে দেখা যায়।


এরপর উপাচার্য মাইক নিয়ে ছাত্রদল নেতা-কর্মীদের প্রোগ্রামের পরে আলোচনায় বসার আহ্বান জানালে তারা উপাচার্যকে ‘ভুয়া ভুয়া’ বলে চিৎকার করে ওঠেন। পরবর্তী সময়ে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত শিক্ষার্থীদের অনুষ্ঠানস্থল থেকে বের করে দেওয়া শুরু করলে ‘স্বাধীনতা হল’ মসজিদের ইমাম মুফতি শাখাওয়াত হোসেন দোয়া পরিচালনা করে প্রোগ্রামের সমাপ্তি করেন। সংবাদ সংগ্রহকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন সাংবাদিকের সাথে এ সময় ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের দুর্ব্যবহার করতে দেখা যায়।

তবে ছাত্রদলের দাবি, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের এই কর্মসূচিতে জুলাইয়ের ‘স্টেকহোল্ডারদের’ দাওয়াত না দেওয়া এবং অনুষ্ঠানে বিতর্কিত ব্যক্তিদের উপস্থিতি রাখার কারণে তারা এ করর। এ কারণেই তারা কর্মসূচির প্রতিবাদ করেছেন।

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘জুলাই আন্দোলন একজন জুলাই যোদ্ধার চেতনার প্রতীক। প্রকৃত জুলাই যোদ্ধাদের বাদ দিয়ে জুলাইকে কেন্দ্র করে কোনো আয়োজন আমরা মেনে নিতে পারি না। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ৫ আগস্ট উপলক্ষে কর্মসূচি আয়োজন করেছে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় ও পাবনার যেসব সমন্বয়ক আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন—সমন্বয়ক মঞ্জুরুল, সহসমন্বয়ক রুমেল এবং জুলাই যোদ্ধা নিশান—তাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। অথচ মঞ্চে আমরা দেখেছি ফ্যাসিস্টদের দোসর ও আবু সাঈদের হত্যাকারীদের সমর্থকদের।’

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি মোজাহিদ হোসেন বলেন, ‘জুলাই স্মরণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের যেসব শিক্ষার্থী আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন বা আহত হয়েছেন, তাদের কাউকেই দাওয়াত দেওয়া হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয় ও পাবনা জেলার সমন্বয়ক মঞ্জুরুল, সহ-সমন্বয়ক রুমেল এবং গুম হওয়া নিশান—কেউ আমন্ত্রণ পাননি। অথচ আওয়ামী লীগের দোসরদের নিয়ে অনুষ্ঠান করা হয়েছে। এ কারণেই আমরা প্রতিবাদ জানিয়েছি।’

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে আলোচনা সভার আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মো. কামরুজ্জামান বলেন, ‘কমিটির পক্ষ থেকে সবাইকে দাওয়াত দেওয়া হয়েছে। রেজিস্ট্রার দপ্তর থেকে প্রতিটি বিভাগেও চিঠি পাঠানো হয়েছে। জুলাই যোদ্ধাদের আমন্ত্রণ জানানো না হলে সাকিব, মাসুম কীভাবে অনুষ্ঠানে এল? এমনকি হল ফিস্ট উপলক্ষে রাতের খাবারের জন্যও আমি ব্যক্তিগতভাবে তাদের ফোন করে দাওয়াত দিয়েছি।’


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ওয়েবসাইট এর কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পুর্ণ বেআইনি।
Design & Development BY : ThemeNeed.com